মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলে ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে

তেহরান, ৫ মার্চ – ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে এই সংঘাতের কারণে যদি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স সতর্ক করে বলেছেন হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। হির্স উল্লেখ করেন মার্কিন নৌবাহিনী যদি ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় এবং প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায় তবে সাময়িকভাবে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেবে। ইতোমধ্যেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সংঘাতের প্রথম দিনেই এলএনজির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইউরোপের বাজারগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

এ ছাড়া ডিজেলের দামও আনুপাতিক হারে বাড়ছে। যেসব দেশ গ্যাসের ওপর অধিক নির্ভরশীল তারা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পেট্রোলিয়াম ক্রয়ের দিকে ঝুঁকছে যা ভবিষ্যতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। এই অর্থনীতিবিদ আরও সতর্ক করেন যে জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রকট হতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার

সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন এড হির্স।

এনএন/ ৫ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language