ইসলাম

রোজা রাখলে মানসিক স্বাস্থ্যে যেসব উপকার পাওয়া যায়

রোজা রাখলে আমাদের শরীর নানা দিক থেকে উপকার পায়—এটা এখন বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত। তবে শুধু শারীরিক নয়, রোজার মানসিক স্বাস্থ্যেও অনেক উপকার আছে। টানা একমাস রোজা রাখার কারণে জীবনের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মানুষের মধ্যে পরিমিতবোধ তৈরি হয়। রোজা মানুষকে আরও সংযত হতে শেখায়, পাশাপাশি সহমর্মিতাও বাড়ায়।

চলুন রোজা রাখার কিছু মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানা যাক—

আধ্যাত্মিকভাবে

রমজান মাসে মানসিক অবস্থা আরও ধ্যানমগ্ন হয়ে ওঠে। তখন মানুষ দৈনন্দিন আরাম-আয়েশে ডুবে না থেকে আধ্যাত্মিক চর্চা, প্রার্থনা ও আত্মসমালোচনার দিকে বেশি মন দেয়। আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সংযম রোজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। কারণ এ সময় মানুষ নিজের প্রয়োজন পূরণ এবং চাহিদা দূর করার জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শেখে।

আবেগগতভাবে

রমজানে গভীরভাবে ইবাদতে মগ্ন থাকা মানসিকভাবে গভীর এক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। মনের শান্তি থেকে তৃপ্তি—সবকিছুই এই সময় বেশি অনুভূত হয়। রমজান এমন এক সময়, যখন আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো উপলব্ধি করার সুযোগ পাওয়া যায়। ইফতারের সময় পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বসা ভালোবাসা ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করে, যা একমাসের ত্যাগের পর আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়।

অভ্যাসগতভাবে

প্রায় সবারই কিছু না কিছু খারাপ অভ্যাস বা আসক্তি থাকে, সেটা বড় হোক বা ছোট। রমজান নিজের উন্নতির জন্য কাজ করার ভালো সময়। ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা, অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা কিংবা মিথ্যা বলা বন্ধ করা—যে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য রমজান উপযুক্ত সময়। যদি কেউ বড় অভ্যাস ছাড়তে প্রস্তুত না থাকে, তাহলে অন্তত একগুঁয়েমি বা পরচর্চার মতো খারাপ স্বভাব দূর করার চেষ্টা করতে পারে।

মুসলমানদের উচিত রমজানের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সব খারাপ ও ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করা। এতে জীবনযাত্রা উন্নত হবে। জীবনযাত্রার উন্নতির পাশাপাশি রমজানের রোজা থেকে স্বাস্থ্যের উপকারিতাও অনুভব করা যাবে।

এনএন


Back to top button
🌐 Read in Your Language