সেন্টমার্টিনে জেলেদের জালে ১১০০ লাল কোরাল, বিক্রি হলো ৩৫ লাখ টাকায়

কক্সবাজার, ২৫ ফেব্রুয়ারি – কক্সবাজারের টেকনাফ সেন্টমার্টিন দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কেজির ১১০০টি লাল কোরাল মাছ। বিশাল এই মাছের চালানটি প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মাছবোঝাই ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ফিশারি ঘাটে পৌঁছায়।
জানা গেছে, টেকনাফ সদর কেরনতলী এলাকার মিজান ও হারুনের মালিকানাধীন ট্রলারে ২১ জন মাঝি ও মাল্লা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে মাছ ধরতে সমুদ্রে যান। ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পূর্বে বঙ্গোপসাগরে জেলেরা বড় একটি মাছের ঝাঁক দেখতে পান। সেখানে জাল ফেলার কয়েক ঘণ্টা পর লাল কোরাল মাছগুলো ধরা পড়ে। জেলেদের দেওয়া তথ্যমতে, জালে আটকা পড়া মাছের সংখ্যা ১১০০টি এবং প্রতিটি মাছের ওজন সাড়ে ৪ কেজির বেশি। সবমিলিয়ে প্রায় ১৩৪ মণ বা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কেজি মাছ ধরা পড়ে। ফিশারি ঘাটে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমদ প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা দরে মাছগুলো কিনে নেন, যার মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমদ জানান, এক জালে এত বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল ধরা পড়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার ও আব্দুল্লাহপুরের আড়তে পাঠানো হচ্ছে। ট্রলার মালিক মিজান জানান, ধরা পড়া ১১০০টি কোরালের মধ্যে ১০০টি মাছ মাঝিমাল্লাদের পরিবারের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এই ১০০টি মাছের বাজারমূল্য নির্ধারণ করে মোট বিক্রয়মূল্য ৩৫ লাখ টাকা থেকে সমপরিমাণ অর্থ সমন্বয় করা হবে। টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা জানান, লাল কোরাল মূলত ভেটকি মাছের একটি প্রজাতি এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Lates calcarifer। সামুদ্রিক ও লোনা পানির বৈচিত্র্যময় পরিবেশে এ মাছ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে ওঠে।
এস এম/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









