জাতীয়

সারের বাড়তি দামে বোরো চাষে বড় লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

খুলনা, ২৫ ফেব্রুয়ারি – সারের বাড়তি দামে বোরো চাষে এবার বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। খুলনার কয়রা উপজেলার গাতিঘেরি গ্রামের একজন কৃষক এবার আট বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। মৌসুমের শুরুতে তিনি সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনতে পারলেও মাঝপথে এসে তাঁকে বাড়তি দামে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তিনি জানান যে ইউরিয়া সারে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৬ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু সারের দামই নয় বরং শ্রমিকের মজুরি ও সেচ খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বোরো মৌসুমে লাভ তো দূরের কথা বরং লোকসানের আশঙ্কায় দিন গুনছেন তিনি। সেই কৃষকের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরাও একই সংকটে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে মাঠে ব্যস্ততা থাকলেও এখন উদ্বেগ বাড়ছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হওয়ায় অনেকেই আবাদ কমানোর চিন্তা করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ হলো সরকার পরিবর্তন হলেও সারের বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে তারা মুক্তি পাচ্ছেন না। সরকারি হিসাবে সারের সংকট নেই এবং বিএডিসি বলছে যে গুদামে সার রাখার জায়গা পর্যন্ত নেই। অথচ মাঠ পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। সরকার নির্ধারিত এক বস্তা ইউরিয়া সারের দাম ১ হাজার ২৫০ টাকা হলেও কৃষককে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকা। ডিএপি সারের ক্ষেত্রেও চিত্র একই। বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে যা শুধু উৎপাদন খরচই বাড়িয়ে দিচ্ছে না বরং খাদ্য নিরাপত্তাকেও শঙ্কায় ফেলছে। কৃষকের অভিযোগ হলো কৃষিপণ্য উৎপাদনের মৌসুমে ডিলাররা সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন।

নজরদারির অভাবে বেপরোয়া ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা চক্র সারাদেশে সারের দামে অরাজকতা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞারা বলছেন যে দেশের মোট ধান উৎপাদনের বড় অংশ আসে বোরো মৌসুমে। এই সময়ে সারের বাজারে অনিয়ম চলতে থাকলে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং এতে ফলনে ধাক্কা লাগবে। শেষ পর্যন্ত বাজারে চালের দামে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বরাদ্দ ও মজুতের হিসাব নয় বরং মাঠ পর্যায়ে কার্যকর তদারক জরুরি। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন যে উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকলে কৃষক ধীরে ধীরে ধান চাষ থেকে সরে যাবেন। সারের বাড়তি দাম বিষয়ে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন যে বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কঠোর থাকবে।

এসএএস/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language