জেন-জি অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে প্রথম ভোটগ্রহণ: ভোটারের দীর্ঘ সারি ও ব্যাপক উৎসাহ

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি – জেন-জি নেতৃত্বাধীন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে বহু প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর বিশ্বের প্রথম কোনও দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য এবারের নির্বাচনে একটি সুনির্দিষ্ট ফলাফল অত্যন্ত জরুরি। শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের পোশাক খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে একই ধরনের আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর নেপালেও শীঘ্রই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মূলত প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে একটির নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অতীতে মিত্র হিসেবে রাজনীতি করলেও এবার তারা আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জনমত জরিপে বিএনপিকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় ভোট শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। লাইনে দাঁড়ানো ৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেন জানান, তিনি সর্বশেষ ২০০৮ সালে ভোট দিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তিনি বেশ রোমাঞ্চিত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ এবং তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এর ফলে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সুযোগে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। সমালোচকদের মতে বিগত শাসনামলে নির্বাচনগুলোতে বিরোধী দলের বর্জন ও ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে ২ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং অন্তত ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে যা একটি জাতীয় রেকর্ড।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে নিয়মিত ভোটের চেয়ে বেশি কিছু বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে গণজাগরণের সাংবিধানিক প্রকাশ এই নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্দিষ্ট করার মতো প্রস্তাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্রেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং শুক্রবার সকাল নাগাদ ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটার তালিকায় প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নিবন্ধিত রয়েছেন যার প্রায় অর্ধেকই তরুণ ভোটার।
এনএন/ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









