জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি – অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৭ মাসের শাসনামলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে ছিল বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি বা এইচআরএসএস। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই সময়ে রাজনৈতিক সংঘাত, মব ভায়োলেন্স, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক নির্বাচনী সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, মব ভায়োলেন্স এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মব বা উচ্ছৃঙ্খল জনতা বিভিন্ন অফিস ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে এই সময়ে কিছু অদৃশ্য শক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে গণ অভ্যুত্থানের মূল চরিত্র ও আদর্শ কিছুটা ম্লান হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট ছিল না। মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে জনমনে নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

এইচআরএসএসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১৭ মাসে দেশে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পেছনে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত এবং চাঁদাবাজি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে সন্ত্রাসী হামলার ২৩৬টি ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত এবং ২৪৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষ আহত হন এবং শতাধিক রাজনৈতিক কার্যালয় ও ১৩০টির বেশি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর ৪২৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৬ জন নিহত এবং ৮৩৪ জন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় ৪১টি মামলায় ৬৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও হেফাজতে থাকা অবস্থায় বা নির্যাতনে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১২৭ জনের। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সীমান্তে ১১০টি ঘটনায় ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এনএন/ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language