নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বাড়ছে, জানুয়ারিতে নিহত ১১: আসক

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি – মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র বা আসক জানিয়েছে, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও নির্বাচনী পরিবেশ ততই সহিংস হয়ে উঠছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসের তুলনায় জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা, নিহতের সংখ্যা এবং আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার আসক থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
আসকের পরিসংখ্যান বলছে, গত ডিসেম্বর মাসে দেশে মোট ১৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, যাতে ৪ জন নিহত এবং ২৬৮ জন আহত হন। তবে জানুয়ারি মাসে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। এই এক মাসে মোট ৭৫টি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৬ জনে।
জানুয়ারি মাসের তথ্যে দেখা যায়, মাসজুড়েই সহিংসতার মাত্রা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মাসের প্রথম ১০ দিনে ৮টি সহিংস ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হন। ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮টি ঘটনায় ২ জন নিহত ও ১৭৬ জন আহত হন। তবে ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর সহিংসতা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। মাত্র ১১ দিনে ৪৯টি ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হন।
রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরাও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে আসক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিসেম্বর মাসে ১১ জন সাংবাদিক লাঞ্ছিত বা বাধাগ্রস্ত হলেও জানুয়ারি মাসে এই সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সহিংস পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এনএন/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









