জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি – বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র— এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকায় কর্মরত এক মার্কিন কূটনীতিক। কয়েকজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে দেওয়া ওই বক্তব্যের একটি অডিও পেয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অডিওতে ওই কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকছে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পেতে পারে। এই বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব চায় যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, দলটি অতীতে একাধিকবার— সর্বশেষ শেখ হাসিনার শাসনামলে— নিষিদ্ধ হয়েছিল।
ঢাকাভিত্তিক ওই কূটনীতিক বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।” এ সময় তিনি ছাত্রশিবিরের নেতাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আনার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করেন এবং জানতে চান তারা এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কি না।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশে শরীয়াহ আইন চালু করবে না। তবে যদি শরীয়াহ আইন কার্যকর করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পরদিনই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে বলে সতর্ক করেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় অংশে পোশাক রপ্তানিনির্ভর; শরীয়াহ আইন কার্যকর হলে সেই খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
কূটনীতিকটি জানান, যুক্তরাষ্ট্র শুধু জামায়াত নয়— হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, যাতে প্রয়োজনে আমরা ফোন করে স্পষ্ট বার্তা দিতে পারি।”
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, আলোচনাটি গত ডিসেম্বরে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবে হয়েছিল এবং সাধারণত এসব আলোচনা প্রকাশ করা হয় না। তিনি বলেন, এতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
এ বিষয়ে জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠক নিয়ে তারা মন্তব্য করেন না। তবে তিনি জানান, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর ওয়াশিংটনে চারবার এবং ঢাকায় একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র-জামায়াত বৈঠক হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ারের সঙ্গে জামায়াতের ভার্চুয়াল বৈঠকও হয়েছে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তার মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শেখ হাসিনার বিচারের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন ওই কূটনীতিক। তিনি বলেন, আদালত পুরোপুরি নিরপেক্ষ না হলেও হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা রাজনৈতিকভাবে ‘জিনিয়াস’ সিদ্ধান্ত ছিল।
এনএন/ ২৪ জানুয়ারি ২০২৬









