এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই, প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে ৫ জন সশস্ত্র সদস্য

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি – আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীরা ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাই করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে সিআইডি আয়োজিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা’-য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিআইডি প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন আইজিপি বাহারুল আলম।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতীতের জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ থাকতেন। কিন্তু এবারে প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে কমপক্ষে দু’জন অস্ত্রধারী পুলিশ এবং তিনজন অস্ত্রধারী আনসার থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন আনসারও মোতায়েন করা হবে, যার মধ্যে ছয় জন পুরুষ এবং চার জন মহিলা আনসার থাকবেন।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর নির্বাচন, যা রোল মডেল হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, এজন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার, সিসিটিভি স্থাপন, ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার। তাছাড়া প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ভোট দিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান যারা মোতায়েন রয়েছেন, তারা বলবৎ থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন থাকবে, যেখানে সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য সিআইডির বিভিন্ন স্তরের অফিসারদের মধ্যে পুরস্কারও বিতরণ করেন।
এনএন/ ২২ জানুয়ারি ২০২৬









