দেশের সকল হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

ঢাকা, ০৬ জানুয়ারি – শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সব হাসপাতালের জন্য সাত দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে শীতকালীন রোগের বিস্তার রোধ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই সাতটি নির্দেশনা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের যেসব জানালা, দরজা বা স্থাপনা ভাঙা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে এবং যেখান দিয়ে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করছে, সেগুলো দ্রুত পিডব্লিউডি, এইচইডি অথবা হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মেরামত বা সংস্কার করতে হবে। এতে হাসপাতালের অভ্যন্তরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং রোগীদের শীতজনিত ঝুঁকি কমবে।
রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল ও মশারি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শীত ও তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি না বাড়ে।
শীতকালীন রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় নেবুলাইজার সলিউশন, অ্যান্টিবায়োটিক, অক্সিজেন, ওরাল স্যালাইন, আইডি ফ্লুইডসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও উপকরণ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে নিয়মিতভাবে বৈকালিক রাউন্ড বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীর অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের শীতকালীন রোগ এবং সেগুলোর প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতনতা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন এমআইএস কন্ট্রোল রুমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীরা যেন যথাযথ চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়ে হাসপাতাল প্রধানদের বিশেষ নজরদারি রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, উপরোক্ত নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হলো।
এই নির্দেশনাগুলো দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এনএন/ ০৬ জানুয়ারি ২০২৬









