নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন হাতে পাওয়ার পর আনন্দ মিছিল হবে

ঢাকা, ১১ মে – জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমাদের জানানো হয়েছে আজকে যে ঘোষণা হয়েছে সেই ঘোষণার প্রজ্ঞাপন পরিপত্র জারি হবে আগামী সোমবার। আমরা এই সোমবারে প্রজ্ঞাপন নিয়ে আনন্দ মিছিল করব। সে পর্যন্ত আপনারা তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করবেন। এর সঙ্গে সঙ্গে আপনারা এখন নিরাপদে যার যার বাসস্থানে ফিরে যাবেন। পরবর্তীতে আমাদের আবার রাস্তায় নামার প্রয়োজন হলে আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দিব। ফাঁসিবাজি শক্তি কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জুলাই ঐক্যবদ্ধ শক্তি তা প্রতিহত করবে।
শনিবার (১১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে শাহবাগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনটা দাবি ছিল। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধকরণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের বিধান যুক্তকরণ এবং জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করা। ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক আজকে যে ঘটনা ঘটেছে এটা আমরা ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি। কারন সরকার আজকে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতদিন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের দল হিসেবে বিচারে কোন বিধান ছিল না। কিন্তু আজকে দল হিসেবে বিচার করার বিধান যুক্ত হয়েছে। এ ঘটনাগুলোকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। তবে আমরা মনে করি এতোটুকুই যথেষ্ট নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সময় জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে অন্তবর্তী কালীন সরকারের তালবাহানা আমরা লক্ষ্য করেছি। এখানে গণহত্যাকারীদের বিচারের দীর্ঘসূত্রীতাও আমরা দেখেছি। শাপলা জুলাই সহ সকল গণহত্যার বিচার যেখানে তড়িৎ গতিতে হওয়ার কথা ছিল সেখানে আমরা দেখছি অনেক জুলাই আহতের মামলা নিচ্ছে না অনেক থানা। এখন কি দেশে বিভিন্ন প্রান্তে জুলাই যোদ্ধারা আওয়ামী সন্ত্রাসী দ্বারা হামলার শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুস্পষ্ট অবস্থান এবং তাদের পদক্ষেপ জানতে চাই। পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যকরী সংস্কার চাই।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত তৈরি হয়েছে। আমরা সুস্পষ্ট করে বলতে চাই দ্রুত গতিতে জুলাই ঘোষণাপত্রের স্পষ্ট রোড ম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ যে নিষিদ্ধ ঘোষিত হল সে নিষিদ্ধদের রোড ম্যাপ আমরা জুলাই ঘোষণাপত্রে দেখতে চাই। এর পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তি কালীন সরকার যে নির্বাচনের ঘোষণা করবেন সে নির্বাচনে ঘোষণার আগে আমরা বিচারের রোডম্যাপ দেখতে চাই। ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির নানা বিষয় দ্বন্দ্ব থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। ফ্যাসিবাদী বিরোধের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। সুতরাং আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ৫ ই আগস্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেটাকে আর ওপেন করার সুযোগ নাই। যখনই আপনারা রিফর্ম করার চেষ্টা করবেন তখনই এই জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ শক্তি আমরা সমন্বিতভাবে আপনাদের প্রতিরোধ করব।’
সূত্র: বার্তা২৪.কম
আইএ/ ১১ মে ২০২৫









