ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুন – নারায়ণগঞ্জে দুজন প্রকৌশলীর সরাসরি ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ের দুজন প্রকৌশলীর। তবে ঠিক কতোদিন আগের ওই ভিডিওটি সেটি জানা যায় নাই। তবে ভিডিওতে দেখা যাওয়া প্রকৌশলীদের একজন হলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের বর্তমান উপসহকারী প্রকৌশলী কাঞ্চন কুমার পালিত এবং অন্যজন বদলি হওয়া সাবেক সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রকৌশলী রিয়াদুল কুদ্দুসের রুমে গিয়ে বসেন ঠিকাদার জহির। এসময় ওই রুমে উপসহকারী প্রকৌশলী কাঞ্চন কুমার পালিত আগে থেকেই বসা ছিলেন। রুমে ঢুকেই ঠিকাদার জহির বলতে শুরু করে ‘এখানে মানুষজন নেই, তাড়াতাড়ি বলে ফেলি, আমাদের সঙ্গে লজ্জাশরমের কিছু নাই। সবকিছু কিন্তু ক্লিয়ার হয়ে গেছে। ’ এরপর জহির বলেন, ‘আপনারা পেরেশান হয়েন না, আপনাদের সব কথা আমি শুনব। আপনি যেটা বলবেন, সেটা আমি শুনব। একের (এক লাখ) ভেতরে আমার ওইটা শেষ করে দেওয়া যায় কি না?’ জবাবে প্রকৌশলী রিয়াদুল কুদ্দুস বলেন, ‘পেমেন্টটা?’ এ সময় উপসহকারী প্রকৌশলী কাঞ্চন কুমার পালিত আপত্তি জানায়। তখন জহির আবার বলেন, ‘আপনারা বেজার হয়েন না, আমি আপনাদের পুরো দেড়ই দেব। ’ জবাবে কাঞ্চন কুমার পালিত বলেন, ‘আপনি দেড়ই দেবেন, তারপর আমরা দেখব। ’ কাঞ্চন কুমারের কথায় জহির রাজি হয়ে যান। তখন কাঞ্চন কুমার পালিত জহিরকে উদ্দেশ বলেন, ‘আমরা রিস্ক নিয়ে কাজটা করে দিয়েছি।’ আলোচনার একপর্যায়ে ঘুষের টাকার পরিমাণ নিয়ে দুই প্রকৌশলীর সঙ্গে দর-কষাকষি করেন জহির। ভিডিওটিতে আরও দেখা যায়, জহির সেখানে বসেই এক হাজার টাকার একটি বান্ডিল বের করেন। এসময় সহকারী প্রকৌশলী রিয়াদুল কুদ্দুস জহিরকে ইশারায় বান্ডিলটি দেখিয়ে বলেন, ‘এভাবে (টাকা) ধইরে নিয়ে বসে থাকা যাবে না। যে কেউ রুমে ঢুকতে পারে। ’ এসময় সঙ্গে সঙ্গে জহির টাকার বান্ডিলটা উপসহকারী প্রকৌশলী কাঞ্চন কুমার পালিতের হাতে দেন জহির। কথোপকথনের একপর্যায়ে ঘুষের টাকার পরিমাণ নিয়ে ওই দুই প্রকৌশলীর সঙ্গে দর-কষাকষি করেন জহির। এসময় আরও টাকার আবদার করেন কাঞ্চন কুমার। পরে রিয়াদুল কুদ্দুস তার সহকর্মীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আগে ওইটা (টাকা) ঢুকান, পরেরটা পরে। ’ পরে কাঞ্চন কুমার তার ডান পকেটে টাকাগুলো রেখে দেন। পরে আরও কিছু টাকা বের করে গুনতে থাকেন জহির। তাড়াতাড়ি টাকাগুলো হাতে দেওয়ার জন্য বলতে থাকেন ওই প্রকৌশলীরা। জহির ২৫ হাজার টাকা আবারও কাঞ্চনের হাতে তুলে দেন। তখন প্রথমে ১০ এবং পরে সেটি কমিয়ে আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করেন ওই প্রকৌশলীরা। জহির এই অর্থ দিতে রাজি না হলে রিয়াদুল কুদ্দুস জহিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তাহলে তো মুশকিল।’
এদিকে ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চন্দন শীলও ভিডিওটি দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘এই কার্যালয়ে আমি কারো কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপকর্ম সহ্য করব না। ভিডিওটির ব্যাপারে আমি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবগত করব। কারণ, আমি নিজে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করি। আমার এখানে কোনো বদনাম হলে সেটা সরকারের বদনাম হবে, প্রধানমন্ত্রীর বদনাম হবে। আমি এটা মেনে নিতে পারবো না। ’
তিনি আরও বলেন, ‘উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস বদলি হয়ে গেছেন। আর উপসহকারী প্রকৌশলী কাঞ্চন কুমার পালিতের বিরুদ্ধে সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সাহেবের সময়কাল থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এসব অভিযোগের কারণে তাকে বদলির জন্য সম্প্রতি আমি ডিও লেটার দিয়েছি। ’
এদিকে টাকা লেনদেনের বিষয়টি ঘুষের নয় বলে দাবি করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী কাঞ্চন কুমার পালিত। তিনি দাবি করে বলেন, একটি প্রকল্পের কাজের বরাদ্দের খরচ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সেই ঘটনাটিকেই গোপনে ভিডিও করেছে ঠিাকাদার জহির এবং তিনি আরও দাবি করেন ঘটনাটি আরও প্রায় মাস দশেক আগের।
সূত্র: আমাদের সময়
আইএ/ ২১ জুন ২০২৪








