জাবির প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি

ঢাকা, ০৬ ফেব্রুয়ারি – জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ধর্ষণকাণ্ডের ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নতুন প্লাটফর্ম ‘নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হল প্রভোস্টের পদত্যাগসহ ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও ছাত্রী নিপীড়নে অভিযুক্ত পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিচার দাবি করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলে এ মানববন্ধন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ জন শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্যাম্পাসে ধর্ষণের কারণ হিসেবে বিচারহীনতা এবং অপরাধীকে প্রশাসনের প্রশ্রয়দানকে দায়ী করেন। প্রক্টর নিয়মিত ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের অছাত্রদের অপরাধ ধামাচাপা দেন বলেও উল্লেখ করেন তারা। এছাড়াও গণরুমের নামে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন-নিপীড়ন মেধাবী শিক্ষার্থীদের ধর্ষক হিসেবে তৈরি করছে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।
মানববন্ধনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান ধ্রুব বলেন, আজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তারা এখানকার বাতাসকে দূষিত করেছে। একের পর এক নিপীড়নকে প্রশ্রয় দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রশাসন আজকে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অনিয়মের কারখানায় পরিণত করেছে। যে ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। এ ঘটনা একদিনের সৃষ্টি নয়। এটি কে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বলে পার পাইয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ছাত্রী নিপীড়নে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিচার করতে গড়িমসি করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা তদন্ত রিপোর্ট প্রদানে একের পর এক কালক্ষেপণ করছেন। আমি প্রশাসনকে প্রশ্ন করতে চাই, যখন এ অভিযুক্ত শিক্ষককের সঙ্গে আপনারা বসেন, কথা বলেন, তখন আপনাদের ঘৃণা হয় না?
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক জনির তদন্ত রিপোর্ট বারবার পিছানোর মাধ্যমে যে বিচারহীনতার সৃষ্টি হয়েছে, এ পরিবেশের কারণেই আজ ধর্ষক মোস্তাফিজদের জন্ম। প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। আমাদের প্রশ্নফাঁসকারী প্রক্টরের কাছে কোনো শিক্ষার্থী অভিযোগ নিয়ে গেলে তিনি তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধর্ষণের ওই রাতে প্রক্টর যাচাই-বাচাই ছাড়াই আমাদের বলেছিলেন এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এবং ধর্ষণকারী সবাই বহিরাগত। পরে তিনি ধর্ষক মুস্তাফিজকে বাঁচানোর তৎপরতা শুরু করেছিলেন। দিনের পর দিন ছাত্রলীগ নেতাদের বাঁচানোর এ তৎপরতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এইপ্রক্টরসহ মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই।
দর্শন বিভাগে অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এমন একটি বাজে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে দেশের মানুষ অত্যাচারিত-নিপীড়িত হয়ে কাদতেও পারছে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ লোমহর্ষক ঘটনায় আমি যতটা লজ্জিত। পাশাপাশি তার চেয়ে অনেক বেশি উৎসাহিত। গোটা দেশে এ ধরণের অপরাধগুলো বন্ধ হতে হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এক সহকর্মী উপাচার্যের বিরুদ্ধে যিনি বলেন, উপচার্য নিয়োগে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। ধরে নিলাম উনি মিথ্যা কথা বলেছেন। তাহলে তার বিচার করছেন না কেন? না কি ওখানে কিছু সত্য লুকিয়ে আছে? তাহলে এ ধরণের অভিভাবকের কাছে আপনারা কী চাচ্ছেন?
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, সেই রাতে ওই নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর দুই দুই বার মীর মশাররফ হোসেন হলের গেটে গিয়েছেন তার স্বামীকে হল থেকে উদ্ধারের জন্য কিন্তু হল প্রশাসন তৎপর হয়নি। শুধু তাই নয়, রাত ১টা পর্যন্ত হল প্রশাসন বলেছে ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এটা আপনারা তদন্ত করুন।
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, আমরা এমন একজন উপাচার্য পেয়েছি যিনি খুবই নিষ্ক্রিয় এবং নির্বিকার। ক্যাম্পাসে যত রকমের অপরাধ ঘটুক, যত বিপর্যয় ঘটুক, তিনি নির্বিকার। এ বিশ্ববিদ্যায়ে শিক্ষার কোনো অভিভাবক নেই, নিরাপত্তার কোনো অভিভাবক নেই। অভিভাবক আছে শুধুমাত্র ওইসব অছাত্রদের যারা ছিনতাই করছে, চাঁদাবাজি করছে, জমিদখল করছে এবং সর্বশেষ যারা ধর্ষণ করলো।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব জামানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ ভূঁইয়া, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিছা পারভীন প্রমুখ।
মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক সোহেল রানা, প্রাণরসায়ন ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন, শিক্ষকদের মধ্যে আইবিএর অধ্যাপক আইরিন আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রনি হোসাইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মনিকা ইয়াসমিন, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিহা প্রমুখ।
সূত্র: জাগো নিউজ
আইএ/ ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪









