ইসলাম

ইসলামে যেসব উপায়ে উপার্জন করা হারাম

মাইমুনা আক্তার

অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ নেওয়া নিষিদ্ধ : ‘তোমরা নিজেদের পরস্পরের অর্থসম্পদ অন্যায় অবৈধভাবে ভক্ষণ করো না। আর জেনে-বুঝে অপরাধমূলক পন্থায় অপরের সম্পদের কিছু অংশ ভক্ষণ করার উদ্দেশ্যে তা শাসকদের কাছে উপস্থাপন কোরো না। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৮)

ঘুষ : আব্দুল্লাহ ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতাকে অভিসম্পাত করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৮০)

আত্মসাৎ : অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ মারাত্মক পাপ।

আত্মসাৎকারী কিয়ামতের মাঠে আত্মসাত্কৃত বস্তু নিয়ে উঠতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে খিয়ানত করবে, কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে তা নিয়ে যা সে খিয়ানত করেছে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে পুরোপুরি দেওয়া হবে যা সে উপার্জন করেছে এবং তাদের জুলুম করা হবে না। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৬১)
আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ওপর অর্পিত চূড়ান্ত কসমের মাধ্যমে কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করে অথচ সে মিথ্যাবাদী। এমন অবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটবে যে তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। ’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫২)

চুরি-ডাকাতি : চুরি-ডাকাতি অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জনের অন্যতম পদ্ধতি। যা মহান আল্লাহ হারাম করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘চোর পুরুষ এবং চোর নারী উভয়ের হাত কেটে দাও। ’ (আল মায়িদা, আয়াত : ৩৮)

এতিমের অর্থসম্পদের বল্গাহীন ভোগ ব্যবহার : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এতিমের সম্পদ ভোগ করার ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা অন্যায়ভাবে এতিমের অর্থসম্পদ ভক্ষণ করে তারা মূলত নিজেদের পেটে আগুন ভর্তি করে। অচিরেই তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। ’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১০)

ওজনে কারচুপি করে অধিক মুনাফা অর্জন : ওজনে কারচুপির কারণে মহান আল্লাহ পূর্ববর্তী একটি জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এতে বাহ্যিক লাভবান হলেও ধ্বংস নিশ্চিত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ওজনে কারচুপিকারীদের অভিসম্পাত করে বলেন, ‘ধ্বংস সেই ঠকবাজদের জন্য, যারা অন্য লোকদের কাছ থেকে গ্রহণ করার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে; কিন্তু তাদের ওজন বা পরিমাপ করে দেওয়ার সময় কম দিয়ে থাকে। ’ (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ১-৩)

সমাজবিধ্বংসী উপকরণ বা সেবা দিয়ে উপার্জন করা : যেসব ব্যবসা বা সেবা সমাজকে হারামে লিপ্ত করে, মানুষকে অশ্লীলতা ও হারামে লিপ্ত করে, সেসব ধরনের ব্যবসা/সেবার উপার্জন হারাম। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা চায়, ঈমানদার লোকদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার ঘটুক, তাদের জন্য পৃথিবীর জীবনে এবং পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। ’ (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য ক্রয় করে এবং আল্লাহর প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে, তাদেরই জন্য আছে অবমাননাকর শাস্তি। ’ (সুরা লোকমান, আয়াত : ৬)

মাদক, জুয়া ইত্যাদির ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসীরা, মদ, জুয়া আর মূর্তি ও ভাগ্য নির্ধারক তীর ঘৃণীত শয়তানি কাজ, তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সাফল্যমণ্ডিত হতে পারো। ’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৯০)

সুদ : অর্থ উপার্জনের এই পদ্ধতিকে মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

যারা দুনিয়াতে সুদি কারবারে লিপ্ত থাকবে, পরকালে তাদের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমাকে একদল লোকের কাছে নিয়ে আসা হলো। তাদের পেট ছিল ঘরের মতো বিশাল, তার মধ্যে সাপ ভর্তি ছিল, যা বাইরে থেকে দেখা যায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাইল, এরা কারা? তিনি বলেন, এরা সুদখোর। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৭৩)

আইএ


Back to top button
🌐 Read in Your Language