
ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্যাদির কাছে মানবসভ্যতা যারপরনাই কৃতজ্ঞ। কারণ ইতিহাসের শিক্ষা না থাকলে আমরা জানতে পারতাম না বঞ্চিতদের কথা। ইতিহাসের সংরক্ষণ না থাকলে জাতি হিসেবে আমাদের কাছে শায়েস্তা খান সবসময়ই বিশাল কিছু হয়ে থাকতো। কিন্তু ইতিহাসের চোরাগলি আমাদের জানিয়ে দেয়, শায়েস্তা খানের আমলেই কৃষক অসন্তোষ ছিল, ছিল কৃষকদের ওপর উৎপীড়ন। সেই আধুনিক ইতিহাসেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ইন্টারনেট। সভ্যতার উৎকর্ষের এক মাহেন্দ্রক্ষণে ইন্টারনেটের আবিষ্কৃত হয়। যুগের বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ইন্টারনেটের সুফল এবং কুফল দুই আমরা ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছি। তবে ইন্টারনেটকে কিছু ভালো কাজের জন্য ধন্যবাদ দিতেই হয়। যেমন ইন্টারনেটে উপনিবেশিক আমলের আলোকচিত্রগুলো থাকার কারণে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি উপনিবেশিকতার ইতিহাস। সময়ে সময়ে তা উঠে এসেছে বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে।
ইতিহাসের বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে বসা তেমনি পনেরোটি ছবি আজ ইন্টারনেটের কল্যাণে এই সুদূরে বসেও আমরা দেখতে পাচ্ছি। শুধু তাই নয় ফটোশপের কারিকুরিতে সেই সাদাকালো ছবিগুলোর রঙিন দৃশ্যায়নও সম্ভব হয়েছে। যে রঙিন দৃশ্যগুলো আমাদের সামনে খুলে দিয়েছে অনেকগুলো ইতিহাসের দরজা। যে দরজাগুলোর একটা দিয়ে অনায়াসেই চলে যাওয়া যায় ১৯১৬ সালের চার্লি চ্যাপলিনের কাছে কিংবা ১৮৬০ সালের জাপানি তীরন্দাজদের কাছে। অথবা ইচ্ছে হলেই বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে সাগর পাড়ে বসে গল্প করে নেয়া যায়।
রোমাঞ্চপ্রিয় পাঠকদের জন্য তাই তুলে ধরা হলো ইতিহাসের বুকে হারিয়ে যেতে যেতে টিকে যাওয়া পনেরোটি ছবির ইতিবৃত্ত।

যুদ্ধবিধ্বস্ত লন্ডনের পিতৃমাতৃহারা এক শিশু তার খেলনা পুতুল ধরে আছে, ১৯৪৫ সালের ছবি।

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড- নাসাউ পয়েন্ট। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফেরে তখনও তাঁর জীবন নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো শুরু হয়নি। ১৯৩৯।

শাদা কালো যুগের হৃদয়ে ঝড় তোলা ব্রিটিশ অভিনেত্রী অড্রি হেপবার্ন। তার অভিনীতি ‘রোমান হলিডের’ কথা কে না জানে। ১৯৫৩ সালের ছবি।

২৭ বছর বয়েসী তরুণ চার্লি চ্যাপলিন- পৃথিবী মাতানো মেধাবী কৌতুকাভিনেতা ও চিত্র পরিচালক। ১৯১৬।

এলিজাবেথ টেলর- চির একাকিনী আরেক ঝড়ের নাম। ১৯৫৬ সালের ছবি।

কুৎসিত দাসপ্রথার শেকড়ে কুড়াল চালানো মার্কিন সাহিত্যিক, টম সয়্যার- হাকলবেরি ফিনের স্রষ্টা- শিশুদের স্বপ্নের নায়কদের একজন। ১৯০০।

বিমানের বর্তমান গৌরবময় ইতিহাসের পেছনের এক করুণ স্বাক্ষী, যাত্রীবাহী বিমান এলজেড ১২৯ হিন্ডারবার্গ। ৯৭ জন যাত্রী নিয়ে আগুনঘটিত দুর্ঘটনার শিকার হয় ১৯৩৭ সালের ৬ মে। ৩৫ জন পুড়ে মারা যান। মাটিতে পড়ার আরও ১ জন শ্রমিক নিহত হন।

ব্রিটেনের সেনাসদস্যদের ক’জন। বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে তখনও ২ বছর বাকি। ১৯৩৯।

জাপানের সার্কা তীরন্দাজদের একটি দল। ১৮৬০ সালের ছবি।

ওয়াশিংটন ডিসি-র একটি মোটর দুর্ঘটনার ছবি। ১৯২১।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্লিংটনের দোকান ওল্ড গোল্ড। ১৯৩৯ সালের ছবি।

মার্কিন কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান। ১৮৮৭।

হিটলারের প্রচারমন্ত্রী- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অন্যতম চরিত্র- জোসেফ গোয়েবলস। তার তত্ত্ব- কোন মিথ্যা ৩০ বছর চালু থাকলে তা সত্য হয়ে পড়ে। এ ছবির পেছনে আরও কিছু বলার আছে। তিনি ফটোগ্রাফার আলফ্রেড আইজেনস্টেড-এর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছেন- কেননা, সেই মুহূর্তেই তিনি জানতে পেরেছেন- আলফ্রেড একজন ইহুদি।

এক বেকার লাতিন আমেরিকান কাঠমিস্ত্রী। ১৯৩৯ সালের ছবি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর বস্তি এলাকার এক তরুণ। ১৯৩৮ সালে তোলা ছবি।
আর/০৮:১৪/১৯ নভেম্বর









