জানা-অজানা

ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের যে ১০টি কথা কখনোই বলা উচিত নয়

বিমানে ওঠার পর আমরা অনেকেই সেটাকে নিজের কেনা জিনিস আর বিমানকর্মীদের নিজের ব্যক্তিগত কর্মচারী ভাবতে শুরু করি। কিন্তু জানা উচিত, বিমানের প্রত্যেক কর্মীর একটি নির্দিষ্ট কাজ আছে। তাদের একটি সময়সূচি অনুযায়ী সেসব কাজ সম্পন্ন করতে হয়। ফলে অযাচিত কোনো কাজ তাদের দেওয়া হলে তা তাদের জন্য সত্যিই বিব্রতকর হয়ে ওঠে। হাফিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে ১০টি কাজের তালিকা দিয়েছে, যা বিমানের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের করতে অনুরোধ করা উচিত নয়।

১. আমার বাচ্চাটাকে দেখুন
আপনি যথেষ্ট টাকা দিয়ে বিমানের টিকিট কিনেছেন। বিমানে বসে ভাবছেন টাকাটা উসুল করার জন্য কর্মীদের কিছু দায়িত্ব দেওয়া যাক। তাই বুদ্ধি করে বিমানের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের কাছে কিছুক্ষণ কাটানোর জন্য আপনার দুষ্টু ছেলে বা মেয়েটিকে দিয়ে আসলেন। ঠিক?

ব্যাপারটা পুরোপুরি ভুল। এ বিষয়ে এক বিমানকর্মী হিথার পুল বলেন, ‘আমাদের বিমানে উঠে অনেক যাত্রীই বাচ্চাদের খেলার জায়গা খুঁজে না পেয়ে পাগলপ্রায় হয়ে যান। এর পর অনেকেই তাদের বাচ্চাকে দেখাশোনার জন্য আমাদের কাছে নিয়ে আসেন।’ কিন্তু বিমানকর্মীদের নির্দিষ্ট সময় মেনে আরো অনেক কাজ করতে হয় বলে এ ধরনের বাড়তি কাজের সময় থাকে না।

২. ওটা নিয়ে আসুন…
বিমানের প্রত্যেক সিটেই একটি করে বাটন দেওয়া থাকে, যেখানে ক্লিক করে বিমানকর্মীদের ডাকা যায়। কিন্তু খুব জরুরি দরকার ছাড়া সেখানে টিপ দেওয়া উচিত নয়।

‘এক গ্লাস পানি এনে দিন’ কিংবা ‘আমার জন্য এখনই একটি কম্বল নিয়ে আসুন’ এ ধরনের বিরক্তিকর অনুরোধ না করাই ভালো। কারণ তারা নির্দিষ্ট সময়ে এসব নিয়ে যাত্রীদের কাছে আসেন। একটু অপেক্ষা করলেই এগুলো পাওয়া যায়। আর যদি হঠাৎ করে পানির পিপাসা লেগেই যায়, তাহলে বিমানের পেছনে গিয়ে তাদের কাছে চাইলেই তা পাওয়া যাবে।

৩. ‘স্টুয়ার্ডস’ বা অবমাননাকর কোনো নামে ডাকা
বিগত বছরে ‘স্টুয়ার্ডস’ বা এ ধরনের শব্দ প্রয়োগ করে কর্মীদের ডাকা হতো। কিন্তু সে সময় এ ধরনের কাজে শুধু নারীদের নিয়োগ করা হত। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীদের সেবা করা। এখন পুরুষ-নারী উভয়ই এ কাজ করে যাত্রীদের নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য। এখন তাদের ডাকা হয় ‘ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট’ বলে। এ ছাড়াও অন্যকোনো অবমাননাকর শব্দ প্রয়োগ করে তাদের ডাকা উচিত নয়।

৪. দাঁড়ান, আজকে কী কী পানীয় আছে?
বিমানের পানাহারের ব্যবস্থা যা-ই থাকুক না কেন, সবকিছুই আপনার কাছে আসবে নির্দিষ্ট সময়ে। এটি জাদুমন্ত্রের মতো অনুরোধ করা মাত্র আপনার সামনে এসে উপস্থিত হবে না। এ ছাড়া আপনার খাবার ও পানীয়ের তালিকা বিমানের সিটের পকেটেই থাকে। সেগুলো দেখে আপনি অর্ডার করতে পারবেন। এগুলোর কোনো কোনোটি আবার মূল্যের বিনিময়ে কিনে নিতে হয়। এ অবস্থায় যাত্রীরা যদি সবাই তালিকা না দেখে একই প্রশ্ন করতে থাকে তাহলে তা সত্যিই বিরক্তিকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে আগে তালিকাটা খুঁজে বের করে তার পর নিজের চাহিদা আগে থেকেই নির্ধারিত করে রাখতে হবে।

৫. আমার ব্যাগটা একটু ওপরে তুলে দিন
বিমানে ভারী ব্যাগ নেওয়ার আলাদা নিয়ম আছে। আর যে ব্যাগটা আপনি নিজের হাতে বহন করতে পারেন তা হাতে করে নিয়ে বিমানে ঢুকবেন। বিমানের ভেতর হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে যাওয়ার মানে আপনি সেটা বহন করতে সমর্থ। কিন্তু সেটি নিয়ে অনেকেই বিমানের অ্যাটেনডেন্টকে বলেন, মাথার ওপরের ব্যাগ রাখার স্থানে সেটা তুলে দিতে।

এ কাজের অনুরোধ করার আগে আপনার একটা তথ্য জানা উচিত। ২০১০ সালে একটি জরিপে দেখা যায়, ৮০ ভাগ বিমানের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট জানিয়েছেন যাত্রীদের ব্যাগ ওঠাতে গিয়ে তাদের ইনজুরির শিকার হতে হয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে একটি ব্যাগ ওঠানো সহজ হলেও পর পর অনেকগুলো ব্যাগ ওঠানো সত্যিই দুর্বিষহ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর বিমানের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের কাজের তালিকায় যাত্রীদের ব্যাগ ওঠানো থাকে না। ফলে তারা এ কাজে আহত হলেও সে জন্য চিকিৎসা বা ক্ষতিপূরণ মেলে না।

৬. হুমকিমূলক রসিকতা
ফার্স্ট ক্লাসে সিট না পেলে আমি বিমানটি উড়িয়ে দেব- আপনার এমন একটি ‘মজার কথা’ বিমানের কোনো কর্মীকেই মজা দেবে না। বিমান বিষয়ে মজা করেও কোনো হুমকি দেবেন না। এ ধরনের সামান্য হুমকিতেও বিমানটি নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে বিঘ্ন হতে পারে। এমনকি বিমান থেকে নামিয়ে আপনাকে গ্রেপ্তার করাও হতে পারে।

৭. বিমানের এ পানীয়টির এতো দাম কেন?
বিমানকর্মীদের সঙ্গে কোনো খাবার বা পানীয়ের দাম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ এতে তাদের কোনো হাত নেই আর তারা এ থেকে কোনো কমিশনও পান না।

৮. আমি আগের মতো আকর্ষণীয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মিস করছি
অনেকেই তাদের অতীতের কথা স্মরণ করেন, যে সময় তারা বিমানে সুন্দরী তরুণী বিমানবালাদের দেখতেন। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন ছেলে মেয়ে উভয়কেই এ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাই এখন সেসব কথা স্মরণ করা মানে বোকামি করা।

৯. এক মিনিট পর মোবাইল ফোন অফ করব
বিভিন্ন বিমানের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র চালু ও বন্ধ করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম রয়েছে। আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিমানে উঠলে তাদের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে আপনি বাধ্য। যখন তারা মোবাইল ফোন বন্ধ করতে বলবে তখনই আপনার তা করা উচিত। আপনি যদি মোবাইল ফোন বন্ধ করার জন্য সময় নিতে থাকেন তাহলে তা বিমানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি করে। আর বিমানকর্মীদেরও এ জন্য ঝামেলায় পড়তে হয়।

১০. আমার নোংরা ব্যাগটি আপনি কি নিয়ে যাবেন?
ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা চাপের মধ্যে কাজ করার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই বিরক্তির মধ্যে থাকেন। ফলে তাদের আপনার বমির ব্যাগ কিংবা বাচ্চার নোংরা ডায়াপার বহন করতে দেওয়া মোটেই উচিত নয়। নিজে হেঁটে গিয়ে ‘ল্যাভ্যারেটরি’তে ময়লাগুলো ফেলে দেওয়াই ভালো। এ ক্ষেত্রে অন্য একটি বিষয় সবার নজর দেওয়া উচিত। আপনি যদি বিমানে বাচ্চার ডায়াপার পরিবর্তন করে থাকেন তাহলে সেটা কোথায় করেছেন? খাবার রাখার ট্রেতে? এসব কাজের সময় খাবারের ট্রে দূরে রাখাই কাম্য।

আর/০৮:১৪/১৯ নভেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language