ক্রিকেট

সাকিব আল হাসানকে ঘিরে যত বিতর্ক

ঢাকা, ১৭ নভেম্বর- বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেটপাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় সাকিব বিতর্ক। নিষেধাজ্ঞা শেষ করে মাঠে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। গত কয়েকদিন তাকে নিয়ে মিডিয়ায় বেশ সমালোচনার ঝড় উঠছে। কেউ কেউ যোগাযোগ মাধ্যমে ধুয়ে দিয়েছেন। এই সাকিব আর ‘আগের সাকিব’ নেই এমন মন্তব্য করতেও বাদ দেননি।

এমন বিতর্ক সামনে আসে এক ভক্তের মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলার পর। সেই বিতর্কে ঘি ঢালে কলকাতার কালীপূজায় উপস্থিত হওয়ার পর থেকে। এতে যেন রাতারাতি জনমনে সাকিবকে নিয়ে ক্ষোভ বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সব ভক্তকে আহত করেছেন। আবার ডিজিটাল হুমকির পর নিজের আচরণের জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন।

তবে জনমনে এতো উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলাই যায় নিজে খুশি বা অন্যকে খুশি করতে কালিপূজায় তিনি যেতেই পারেন। সেই অধিকার তার রয়েছে। এতে যদি ধর্মীয় কোন বিধান অম্যান্য হয় সেটির শাস্তিও তিনিই ভোগ করবেন। এ নিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে এক দুর্বৃত্ত। তাকেও আইনের আওতায় এনেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তার বিচার হবে। তাই সময়ের সঙ্গে গা ভাসিয়ে বাকিরা ‘সাকিব পতনে’র আন্দোলনে নামাটা যুক্তি সঙ্গত হবে না। একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের পক্ষে কতটা শরীয়তি হওয়া সম্ভব, তা নিশ্চয়ই আবার ভেবে দেখতে পারি আমরা৷

এর আগেও সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বিতর্কিত কিছু ঘটনা আমরা দেখতে পাই। যা ব্রেকিং নিউজের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

ব্যাট উঁচিয়ে দর্শককে হুমকি: ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিতর্কে জড়ান সাকিব। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ব্যাট করছিলেন তিনি। কিন্তু সাইড স্ক্রিনের পাশে এক দর্শকের নড়াচড়া তার মনোযোগ বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল। হঠাৎ ক্রিজ ছেড়ে বাউন্ডারি লাইনে ছুটে যান সাকিব, ব্যাট উঁচিয়ে ওই দর্শককে হুমকি দেন তিনি।

দর্শকের কলার ধরে বিতর্কে: ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস টি টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে এক দর্শক অটোগ্রাফ চান সাকিবের কাছে। সাকিব তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মনোক্ষুণ্ন দর্শক কটূক্তি করেন। তখন গ্যালারিতে গিয়ে ওই দর্শদের কলার চেপে ধরেন তিনি।

অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে নিষিদ্ধ: ২০১৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের ম্যাচে ছক্কা মারতে গিয়ে লং-অফে ধরা পড়েন সাকিব। আউট নিয়ে ধারাভাস্যকারের আলোচনা করার সময় প্যাভিলিয়নে বসা সাকিব টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েন। ক্যামেরা দেখেই অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন তিনি। এ ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয় তাকে।

স্ত্রীর জন্য দর্শককে মারধর: ২০১৪ সালে স্ত্রী শিশিরকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এক দর্শককে পেটান সাকিব। ভারতের বিপক্ষে ওয়ান্ডে সিরিজি চলাকালে ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতি ছাড়া বিসিবির করিডোরে স্ত্রীর কাছে এসে এই কাণ্ড ঘটানোয় শাস্তিও পেতে হয় তাকে।

জাতীয় দল ছাড়ার হুমকি: বোর্ডের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি না নিয়েই ২০১৪ সালে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে দেশ ছাড়েন সাকিব। এ নিয়ে কোচ তাকে প্রশ্ন করলে জাতীয় দল ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। পরে বোর্ডের নির্দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরে পুরো ঘটনার দায় দেন ওই সময়কার কোচ হাথুরুসিংহের এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।

আম্পায়ারের সঙ্গে খারাপ আচারণ: ২০১৫ সালের বিপিএলে সিলেট সুপার স্টার্সের বিপক্ষে ম্যাট কট বিহাইন্ডের আবেদন করেন সাকিব ও অন্যান্য ফিল্ডাররা। আম্পায়ার তানভীর আহমেদ তাতে সাড়া না দিলে তার সঙ্গে অসদাচারণ করেন সাকিব। এ জন্য এক ম্যাচ তাকে নিষিদ্ধ করা হয়।

দর্শকের সঙ্গে তর্ক: ২০১৮ সালে আমেরিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালীন সাকিব আল হাসান এক ভক্তের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভিডিও ভাইরাল হলে নিজের ফেসুকে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি।

সূত্র: ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
আডি/ ১৭ নভেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language