ঢালিউড

সৌমিত্রকে নিয়ে ববিতার স্মৃতিচারণ

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর- মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ ৪০ দিন লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। গতকাল দুপুরে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃতুতে বেশ শোকাহত উপমহাদেশের আরেক প্রখ্যাত অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। এ অভিনেতার সঙ্গে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।

সৌমিত্রর চলে যাওয়া তাকে বেশ কষ্ট দিচ্ছে বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। ববিতা বলেন, ‘ক’দিন ধরেই তার অসুস্থতার খবর শুনছি। তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। প্রহর গুনছিলাম, সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু আর হল না। তার চলে যাওয়ার কথা শুনে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেছে। কত স্মৃতি আমাদের!’

১৯৭৩ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ছবিটি মুক্তি পায়। এ ছবিতে সৌমিত্রের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন ববিতা। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘কত স্মৃতি তার সঙ্গে! কোনটা বলব! ছবির শুটিং শেষ হওয়ার পরও তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তিনি যখনই বাংলাদেশে কোনো কাজে আসতেন, কথা হতো। দেখাও হতো। দারুণ সময় কাটত আমাদের।

’ ববিতা আরও বলেন, ‘আমি দেখেছি, মনের দিক দিয়ে সৌমিত্র দা বেশ শক্ত মানুষ ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার আগে এ করোনার মধ্যেও নাকি তিনি শুটিং করছিলেন। আমার ঠিক মনে আছে, অশনি সংকেত ছবিতে আমার অভিনয়ের প্রথম শটই ছিল তার সঙ্গে। তার সম্পর্কে আগেই শুনেছি। তাই শট দেয়ার সময় খুব ভয়ে ছিলাম। প্রথমত দেশের বাইরে, তার ওপর সৌমিত্র দার মতো শিল্পীর সঙ্গে অভিনয়। পারব তো? তিনি এবং সত্যজিৎ দা- দু’জনেই বিষয়টি ঠিকই খেয়াল করেছিলেন। সৌমিত্র দা সাহস দিলেন। আমিও শুরু করলাম। এখন সেই সময়ের দৃশ্যগুলো চোখে ভাসছে!’

ববিতা বলেন, ‘শুটিং সেটে চরিত্রের বিষয়ে অনেক কিছু নিয়ে তার সঙ্গে পরামর্শ করতাম। তিনিও সাহায্য করতেন। অবসরে কাগজে নানা গেম খেলতাম আমরা। তিনি আবৃতি করে শোনাতেন। বেশ আনন্দ নিয়েই অশনি সংকেতের শুটিং শেষ করেছি আমরা।’

ববিতা আরও বলেন, “আমি আত্মজীবনী লিখছি। মূলত সৌমিত্র দার উৎসাহেই কাজটি করছি। তিনি আমাকে বলেছেন, ‘এ বয়সে নিজের জীবনী লিখতে পারাটাও অনেক বড় বিষয়। এ জন্য তোমাকে অভিনন্দন’। তার এ কথাগুলো এখনও কানে বাজছে আমার।”

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১৬ নভেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language