সিলেট

আকবরের শেল্টারদাতা ‘ভাই’ কে সেই গোপাল খা?

সিলেট, ১১ নভেম্বর – সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির (বরখাস্তকৃত) ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার গ্রেফতারের ছয়টি ভিডিও ক্লিপ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, আকবরের দুই হাত পেছনে বাঁধা। দুই পাশে সাদা দুটি গাড়ি। মাঝখানে আকবর। তাকে ঘিরে আছেন ৭-৮ জন যুবক। হিন্দি ও খাসি ভাষাতে কথা বলছেন তারা এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আকবরকে। এসময় আকবর মিনতি করে হিন্দি ভাষায় বলার চেষ্টা করেন, ‘মুঝে জান ভিক্ষা দে না ভাই…।

ভিডিওতে আকবরকে ধরে রাখা ৭-৮ জন যুবককে খাসি ও হিন্দি ভাষার মিশেলে কথা বলতে শোনা গেছে। আকবরও তখন তাদের সুরে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং নিজেকে ‘কুমার দেব’ বলে পরিচয় দেন। ‘গোপাল খা’ নামে তার এক ভাই আছে জানিয়ে তাকে মুঠোফোনে কল করার আকুতি জানান। শুরুতে আকবর হিন্দি ও খাসি ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে শেষে বাংলায় কথা বলা শুরু করেন। রায়হানকে ১০ অক্টোবর রাতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ ফাঁড়িতে কী হয়েছিল, তারও কিছু বর্ণনা দেন।

আরও পড়ুন : বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়ে কঠোর হচ্ছে সরকার

ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরো এলাকা পাহাড়, বন ও ঝোপঝাড়বেষ্টিত। দুই পাশে দুটি সাদা রঙের গাড়ি দেখা গেছে। ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড স্থায়ী ভিডিওতে আকবরকে সন্ত্রস্ত অবস্থায় একাধিকবার ‘মুঝে জান ভিক্ষা দে না ভাই’ বলে আকুতি জানাতে শোনা গেছে। আকবরকে ঘিরে রাখা যুবকেরা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মাঝেমধ্যে তাকে আঘাত করছিলেন।

আকবরের মুখে এ রকম আর্তনাদ শুনে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘হাম লোক কিয়া ফয়সালা করেগা, ওদার ফয়সালা করে গা…।’ তখন আকবর বলেন, ‘গোপাল খাকে ফোন দে না।’ গোপাল কে? জানতে চাওয়ায় আকবর বলেন, ‘মেরা ভাই গোপাল খা।’ এ কথা বলে আকবর আবারও বলে ওঠেন, ‘মুঝে জান ভিক্ষা দে ভাই।’ তখন ‘চুপ থাক’ বলে তাকে শাসানো হয়।

এরপর যুবকদের একজন আকবরকে বলেন, ‘তুম কিয়া কিয়া, মুঝে ঠিকসে বাতাও।’ আকবর তখন খাসিয়াদের ভাষা বোঝেন না জানিয়ে বলেন, ‘হিন্দি মুঝে লিটল আঁতি হে। বাংলা আথি হে।’ তখন আকবরকে বলা হয়, ‘বাংলা আতাও’। আকবরকে তখন চুপ থাকতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন : আরও ২০ এমপি দ্রুত আইনের আওতায় আসছে

সিলেট নগরীর আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হানকে ১১ অক্টোবর রাতে ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। সকালেই মারা যান রায়হান। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা হয়। ওই দিন ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা আকবর সাময়িক বরখাস্ত হন। ১৩ অক্টোবর থেকে আকবরকে পাওয়া যায়নি।

সুত্র : নতুন সময়
এন এ/ ১১ নভেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language