বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ছন্দে ফিরছে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে (জিএমটি বিকেল ৪টা) অনেকটা হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের তিনটি নেটওয়ার্ক সাইট ফেসবুক, হোয়াটস্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম। এ কারণে পুরো পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি লোক তীব্র সমস্যায় পড়েন। পরে ভোর রাতের দিকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করতে শুরু করে। তবে ব্যবহারকারীদের বক্তব্য এখনো পুরোপুরি ছন্দে ফেরেনি সাইট দুইটি।

ঠিক কী কারণে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বন্ধ হয়ে গেল, তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তবে অ্যাপগুলো অকেজো হওয়ার পর তারা ব্যবহারকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপে তারা মেসেজ পাঠিয়ে বলেছেন, কারিগরী সমস্যার কারণে অ্যাপগুলো বিকল হয়েছে। দ্রুত তা আবার কাজ করতে শুরু করবে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষেরই অংশ হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম। এর আগেও একবার এভাবেই সাময়িক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাদের প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু দ্রুত তা ছন্দে ফিরে এসেছিল। এবারের ঘটনা ঐতিহাসিক। কর্তৃপক্ষ কোনো বয়ান না দিলেও না প্রকাশ না করার শর্তে ফেসবুক কর্মীরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভ্যন্তরীণ ভুলের জন্যই এ ঘটনা ঘটেছে।

ডোমেনে ভুল হওয়ার জন্যই পুরো সার্ভার ক্র্যাশ করেছে। কেউ কেউ বলছেন, রাউটিং সিস্টেমের গোলমাল থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনার পর ফেসবুকের কারিগরী প্রধান এ মেসেজ পাঠিয়েছেন।

ঘটনার পর শেয়ারবাজারে ফেসবুকের দর পড়ে যায়। প্রতিদিন ফেসবুক ব্যবহার করেন প্রায় ২০০ কোটি মানুষ। সোমবার রাতে সেই ব্যবহারও আচমকা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ নেমে যায়। ফলে ফেসবুকের বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি বিশেষজ্ঞদের। প্রতি ঘণ্টায় ফেসবুকের আয় ৫ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। ৬ ঘণ্টায় তাদের বিপুল ক্ষতি হয়েছে।

তবে কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হার্ভার্ডের বার্কম্যান ক্লেইন সেন্টার ফর ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটির ডিরেক্টর জোনাথান জিট্রেইন বলেন, ‘গাড়ির ভিতর চাবি রেখে গাড়ি বাইরে থেকে লক করে দিলে যা হয়, ফেসবুকের সার্ভারেও তাই হয়েছে।’

রোববার রাত থেকেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বিড়ম্বনার মধ্যে। ফেসবুক সংস্থাকে ঘনিষ্ঠভাবে চেনেন বলে দাবি করে এক ব্যক্তি রোববার রাতে একটি টেলিভিশন শোতে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, একেবারে গোড়ার দিকে ফেসবুক বুঝেছিল যে, তাদের প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে হেটস্পিচ ছড়ানো হবে। ভুল তথ্য ছড়ানো হবে। কিন্তু শুধুমাত্র লাভের আশায় সেই বিষয়গুলোকে তখন আমল দেওয়া হয়নি। আজ তার ফল ভুগছে গোটা সমাজ।

এন এইচ, ০৫ অক্টোবর


Back to top button
🌐 Read in Your Language