এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ মমতা

কলকাতা, ২০ সেপ্টেম্বর – ‘তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে তোষণ করেন।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে এমনই কটাক্ষ করে থাকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাজ্যের তিনটি কেন্দ্রে উপ-নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে প্রার্থী হয়েছেন মমতা।
অন্যদিকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় না আসা বিজেপির মূল লক্ষ্য এখন সমস্ত শক্তি দিয়ে মমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। তবে থেমে নেই তৃণমূলও।
সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) মমতা ব্যানার্জী বলেন, একটা দাঙ্গাকারী দল যারা পশ্চিমবঙ্গের বিভাজন সৃষ্টি করে, তাদের মানুষ গত বিধানসভা নির্বাচনের রায় দিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, হিন্দুস্তান আর পাকিস্তান এক নয়। আমি বেঁচে থাকতে পশ্চিমবঙ্গে তালেবানি রাজত্ব হতে দেবো না। এটা আমার মাতৃভূমি। আমি জীবন দিয়ে মাতৃভূমিকে রক্ষা করবো। যারা এসব কথা বলছেন তাদের থেকে সাবধান থাকুন। তারা (বিজেপি) বিভাজনের রাজনীতি চায়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি মসজিদে গেলে বিজেপি প্রশ্ন তোলে কিন্তু, পাঞ্জাবিদের ধর্মস্থান গুরুদুয়ারা বা মন্দিরে গেলে তখন তারা কই থাকেন? আমি সব ধর্মকেই সমান গুরুত্ব দিই। আমার কাছে ঈদ আর পূজা দুটোই সমান গুরুত্ব। কারণ এটাই বাংলার সংস্কৃতি। বিভেদের রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী তাই সবকিছুতেই বিভাজন খোঁজেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতার জয়ের ব্যাপারে কোনো সংশয় না থাকলেও আটটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ভবানীপুর বিধানসভায় এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিতে নারাজ মমতা। ফলে বিশেষ জনসংযোগে অংশ নিচ্ছেন প্রার্থী স্বয়ং নিজেই। মমতার বিরুদ্ধে এবারের বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল ও বামপ্রার্থী আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাস। তবে প্রচারের প্রথম থেকেই বিজেপি-বামেদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে মমতার দল।
দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে বলা হয় মিনি ইন্ডিয়া। সেখানে সব ভাষাভাষীর বাস। ফলে সেসব বিষয় চিন্তা করে বাংলা ভাষার পাশাপাশি হিন্দি ও ইংরেজিতে ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট বানানো হয়েছে। যেহেতু করোনা-বিধির কারণে বড় ধরনের মিটিং-মিছিল করা যাবে না, তাই ঠিক হয়েছে ছোট ছোট ৫৬টি পথসভা চলবে ভবানীপুরজুড়ে। যা এরই মধ্যেই শুরু হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেবার তিনি পরাজিত হন। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কোনো একটি কেন্দ্র থেকে তাকে জিতে আসতে হবে। যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৪ নভেম্বর। আর সে কারণেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১১ সালে মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হলেও সেই সময়ও তিনি বিধায়ক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। ওই সময় তিনি ছিলেন ভারতের সংসদ সদস্য। পরে সুব্রত বক্সি ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলে ছয় মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনে জিতে আসেন মমতা।
এরপর ২০১৬ সালেও তিনি এই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। ফলে এবারের উপ-নির্বাচনে তার এই জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা এমনটাই মনে করছেন ভবানীপুরের বাসিন্দারা।
সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/২০ সেপ্টেম্বর ২০২১









