Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৬ আশ্বিন ১৪২৬

গোলাম কিবরিয়া

জন্ম: 
মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ১৯৬৮
নামিবিয়া বাংলাদেশের মতো নদীমাতৃক নয়, বরং মরুপ্রধান। এখানেও হচ্ছে মাছের চাষ! প্রায় অসম্ভব এই কাজটি সম্ভব করেছেন বাংলাদেশের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। নামিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বড় বড় সিমেন্টের চৌবাচ্চায় চাষ হচ্ছে মাগুর ও তেলাপিয়া। শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, নামিবিয়ার উত্তরাঞ্চলের পুকুর ও চৌবাচ্চায় হচ্ছে মাছের চাষ। মাছ নিয়ে তাঁর একটি চমৎকার বক্তব্য আছে ' কাউকে মাছ ধরা শিখিয়ে দাও, সে এক দিনের খাবার পাবে। আর মাছের চাষ করা শিখিয়ে দাও, সে সারা জীবনের খাবার পাবে।'

দীর্ঘ ২০ বছর গোলাম কিবরিয়া নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন স্বাদু ও সামুদ্রিক পানির মৎস্য চাষ, শিল্পভিত্তিক ও ক্ষুদ্র প্রকল্পের মৎস্যবিষয়ক প্রকল্পে। তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফসল ফলছে নামিবিয়া জুড়ে। তিনি নামিবিয়ার মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উপদেষ্টা পদে আছেন সেই ২০০৮ সাল থেকে। আগে যেখানে ২০০ থেকে ৩০০ মেট্রিক টন মাছ চাষ হতো, কিবরিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাছ উৎপাদন হচ্ছে ১০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি। নামিবিয়ার মাছের চাহিদা মিটিয়ে সেগুলো আশেপাশের বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপের বাজারেও রপ্তানি হচ্ছে।

জন্ম ও পরিবার
অবিবাহিত গোলাম কিবরিয়ার জন্ম ১৯৬৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার ওয়ারীতে। পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। বাবা মরহুম গোলাম মাওলা ও মা রুবি মাওলা।

শিক্ষাজীবন
গোলাম কিবরিয়ার বাবা ছিলেন কলেজের অধ্যাপক। সেই সূত্রে বরিশাল রেসিডেনশিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে (পরে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ হয়) লেখাপড়া শুরু। জীবনে চলার পথের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাবা ছিলেন অত্যন্ত সহায়ক। ১৯৮৭ সালে এইচএসসি পাসের পর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিশারিজ ফ্যাকাল্টি বেছে নিতে পরামর্শ দেন বাবা। সেই থেকে পদযাত্রা। অতঃপর ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

জড়িয়ে পড়েন উন্নয়নমুখী কাজে
গোলাম কিবরিয়া ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহযোগী বার্কের ফেলো হিসেবেও কাজ করেন প্রফেসর ড. গিয়াসের তত্ত্বাবধানে। ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কিছুদিন ড্যানিডা ও ডিএফআইডির হয়েও কাজ করেছিলেন। আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং বিশেষ করে কৃষি ও মাছচাষের ক্ষেত্রে নারীশক্তি উন্নয়নের জন্যও কাজ করেছেন তিনি। কাজ করেছেন ইউএনডিপি ও ইউএনভির (ইউনাইটেড নেশনস ভলানটিয়ার) হয়েও। ১৯৯৯ সালে থাইল্যান্ডে এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতেও (এআইটি) দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। নামিবিয়ায় আসার আগে ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ভিয়েতনামে ছিলেন ইউএনডিপির ইউএনভি প্রোজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে। তারপর যোগ দিয়েছেন এফএও এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে। তা ছাড়া তিনি ইতালিয়ান এনজিও ইউসিওডিপি এবং হ্যানয় অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গেও কাজ করেছিলেন। এসব কারণেই কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট তাঁকে নির্বাচিত করে নামিবিয়ার মৎস্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে।

সাফল্যের পুরস্কার
গোলাম কিবরিয়ার দক্ষতার ফলে নামিবিয়ার মৎস্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে। ২০০৯ সালে ইউনাইটেড নেশনসের অঙ্গসংস্থা এফএও থেকে সিসিআরএফ অর্থাৎ দ্য কোড অব কনডাক্ট ফর রেসপনসিবল ফিশারিজের জন্য পায় দ্য মার্গারিটা লিজাররাগা অ্যাওয়ার্ড। একই বছর সুইডিশ সি ফুড অ্যাওয়ার্ড হিসেবে পায় 'দ্য কুংফিনান অ্যাওয়ার্ড ২০০৯'। অ্যাগ্রিকালচার অ্যাসোসিয়েশন অব সাউদার্ন আফ্রিকা (এএএসএ) থেকে পায় 'দ্য অ্যাকুয়াকালচারিস্ট অব দ্য ইয়ার' পুরস্কার। ২০১২ সালে অর্জন করে সিলভার অ্যাওয়ার্ড। ২০১০ সালে 'বেস্ট কমনওয়েলথ অ্যাডভাইজরস'-এর একজন নির্বাচিত হন। একই বছর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংগঠন (ফাও) তাঁকে তাদের গ্লোবাল প্যানেল মেম্বার মনোনীত করে।


Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে