Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

ফতেহ্ লোহানী

১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি আসিয়া পরিচালনা করে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ফতেহ্ লোহানী আলোচিত হন এ দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে। আসিয়া ছবিতে অভিনয় করেন শিশুশিল্পী হিসেবে আমাদের দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ছবিতে গান করেছেন আব্বাস উদ্দীন। ছবির শুটিং চলাকালে আব্বাস উদ্দীন মারা যান। সে সময়কার সমাজব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি ছিল আসিয়া। নানা দিক থেকে ফতেহ্ লোহানীর আসিয়া ছিল আলোচিত ক্লাসিক ছবি।

তার শিক্ষা
১৯২৩ সালের ১১ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফতেহ্ লোহানীর জন্ম। স্কুল ও কলেজ জীবনে জড়িত হন নাটকের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও নাটক, আবৃত্তি, লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন। যোগ দেন আলোকতীর্য নাট্যগোষ্ঠীতে। ফতেহ্ লোহানী লন্ডনে ওল্ড ভিক ড্রামাটিক স্কুলে (১৯৫১-১৯৫৬) ভর্তি হন প্রডিউসারস কোর্সে। নাট্য বিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বে নামকরা ছিল ওল্ড ভিক ড্রামাটিক স্কুল। সেখানে অধ্যাপনা করতেন স্যার লরেন্স অলিভার, পিটার ওস্তানভ এবং স্যার জন গিলবার্ট। ফতেহ্ লোহানী ভর্তি হওয়ার কিছুদিন আগ পর্যন্ত সেখানে মার্লন ব্রান্ডো ছিলেন ছাত্র হিসেবে। ওল্ড ভিক স্কুলে অধ্যয়নকালে এঁদের সঙ্গে অন্তরঙ্গতা গড়ে ওঠে ফতেহ্ লোহানীর। ছাত্র হিসেবে প্রথম সুযোগ পেলেন পরিচালনা শেখার। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রছাত্রীদের ছবি পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তারপর শিক্ষকেরা তাদের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেন। স্যার লরেন্স অলিভারের তত্ত্বাবধানে ফতেহ্ লোহানী এ ধরনের বিরল সুযোগ পান।

চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ
আলোকতীর্য নাট্যগোষ্ঠীর নরনারী নাটকে তাঁর অভিনয় দেখে বিমল রায় তাঁর সঙ্গে অফিসে দেখা করতে বলেন। বিমল রায়ের নিউ থিয়েটার্স তখন চলচ্চিত্রের নামকরা প্রযোজনা পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান। বিমল রায়ের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি তাঁর বাংলা ছায়াছবি উদয়ের পথের হিন্দি ভার্সন হামরাহিতে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেন। ফতেহ্ লোহানী থেকে অভিনেতা কিরণ কুমার নাম হলো। নামটি বিমল রায় নিজেই দিয়েছেন। এরপর নার্স সিসিতে চুক্তি হয় দুই শ টাকা বেতনে। বন্ধু বান্ধবের পরামর্শে দীর্ঘদিনের জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন না। ওবায়দুল হকের ছায়ানট পিকচার্সের দুঃখে যাদের জীবন গড়া ছবিতে প্রতিনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এ ছবিতে জহর গাঙ্গুলী ও রেনুকা দেবী ছিলেন নায়ক-নায়িকা। এরপর মুক্তির বন্ধন ছবিতে নায়ক হন। নায়িকা ছিলেন গীতশ্রী দেবী। মনোজ বসুর একটি ছবিতে অভিনয় করার কথাবার্তা চূড়ান্তের একপর্যায়ে দেশ বিভাগের আন্দোলন শুরু হলে ছবিটি আর করা হয়নি। নিউ থিয়েটার্সে কাজ করার সময় পরিচালনার দিকটির প্রতি তিনি তীক্ষ দৃষ্টি রাখতেন।

কর্ম জীবন
তিনি প্রমথেশ বড়ুয়ার গৃহদাহ ছবির সহকারী হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। কলকাতায় থাকা অবস্থায় তিনি সাংবাদিকতা করেছেন কিছুদিন। বেতারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল সব সময়। দিল্লি থেকে তাঁকে ঢাকা বেতারে বাংলা নিউজ রিডার হিসেবে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ফতেহ্ লোহানী ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রেডিওতে প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা খবর পড়েন। কিছুদিন তিনি আজাদ পত্রিকার সাব-এডিটর এবং ইত্তেহাদ পত্রিকার সিনেমা সম্পাদক ছিলেন। গল্প-প্রবন্ধ লিখতেন। নিজের সম্পাদনায় প্রকাশ করেন অগত্যা নামে একটি ম্যাগাজিন। বছর খানেক ঢাকায় থেকে বদলি হয়ে করাচি রেডিওতে চলে যান এবং একসময় করাচি রেডিওর চাকরি ছেড়ে লন্ডনে যান। সেখানে আর্থিক সংকটে পড়ে দেখা করেন নাজির আহমেদের সঙ্গে। নাজির আহমেদ তখন বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রোগ্রাম প্রযোজক। নাজির আহমেদের সাময়িক প্রোগ্রামগুলোতে সহযোগিতা করে কিছুটা আর্থিক সংকট কাটে ফতেহ্ লোহানীর। বিবিসি থেকে নাজির আহমেদ দেশে ফিরে আসেন। ফতেহ্ লোহানী বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রোগ্রাম প্রডিউসার হিসেবে যোগ দেন।

তার পরিচালিত ছবি
বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে লন্ডন থেকে ১৯৫৬ সালে দেশে আসেন চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তোলার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে। প্রথমে নির্মাণ করলেন বেশ কিছু তথ্যচিত্র। এরপর নাজির আহমেদ, মোহাম্মদ শামীম ও ধীরেন্দ্র সাহার সহযোগিতায় আসিয়া এবং মাটির পাহাড় নামের দুটি ছবি পরিচালনা শুরু করলেন। বিভিন্ন কারণে প্রথমে শুরু করা আসিয়া ছবিটির নির্মাণ পিছিয়ে পড়ে ১৯৫৯ সালে। আজলী ফিল্মসের প্রযোজনায় প্রথম মুক্তি পায় দ্বিতীয় ছবি মাটির পাহাড়। ছবি পরিচালনার পাশাপাশি ফতেহ্ লোহানী রেডিও এবং টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেন। মাটির পাহাড় (১৯৫৯), আসিয়া (১৯৬১), সাতরং (১৯৬৫) নামের তিনটি ছবি পরিচালনা করেন। ১৯৬১ সালে আসিয়া ছবির পরিচালক হিসেবে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার পান। বন্ধু-বান্ধব আর সহকর্মীদের উৎসাহে ১৯৬৪ সালে জিল্লুর রহিম পরিচালিত এই তো জীবন ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। এরপর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ৪৪টি ছবিতে অভিনয় করেন। ফতেহ্ লোহানী ১৯৭৫ সালের ১২ এপ্রিল আউটডোর লোকেশনে আজিজুর রহমান পরিচালিত কুয়াশা ছবিতে অভিনয় করার সময় হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

সম্মাননা
১৯৮৩ সালের ১৪ মার্চ এফডিসির রজতজয়ন্তীতে ফতেহ্ লোহানীকে মরণোত্তর স্বীকৃতিস্বরূপ চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়।

 


Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে