Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

বিনোদবিহারী চৌধুরী

জন্মঃ ১০ জানুয়ারি, ১৯১১
বিনোদবিহারী চৌধুরী বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন বিপ্লবী কর্মী যিনি বিপ্লবী সূর্য সেনের সহ কর্মী ছিলেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন
বিনোদবিহারী চৌধুরী ১৯১১ সালের ১০ জানুয়ারী চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালি থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কামিনী কুমার চৌধুরী ছিলেন পেশায় উকিল । বিনোদবিহারী চৌধুরীর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে পাশে থেকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন যিনি, তিনি তাঁর সহধর্মিণী বিভা দাশ, সবার প্রিয় বেলা দিদিমণি। ২০০৯ সালে তিনি প্রয়াত হন। ছেলের নাম বিবেকান্দ্র চৌধুরী। চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার রাঙ্গামাটিয়া বোর্ড স্কুলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে তিনি ফটিকছড়ি করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়, বোয়ালখালির পি.সি. সেন সারোয়ারতলি উচ্চ বিদ্যালয়, চিটাগাং কলেজে পড়াশোন করেন। ১৯২৯ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য তাঁকে বৃত্তি প্রদান করা হয়৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৩৪ এবং ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ রাজের রাজপুটনার ডিউলি ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী অবস্থায় থাকার সময় তিনি প্রথম শ্রেণীতে আই.এ. এবং বি.এ. পাস করেন। ১৯৩৯ সালে গৃহবন্দি অবস্থায় ইংরেজিতে এমএ এবং বিএল (আইনে স্নাতক) পাস করেন বিনোদবিহারী চৌধুরী।

কর্মজীবন
বিনোদবিহারী চৌধুরী ১৯৩০ সালে কংগ্রেস চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া ১৯৪০-১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস নির্বাহী কমিটির সদস্য থাকার পাশাপাশি ১৯৪৬ সালে কংগ্রেস চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ৩৭ বছর বয়সে পশ্চিম পাকিস্তান কংগ্রেসের সদস্য হন তিনি। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলকে বেআইনি ঘোষণা করলে রাজনীতি থেকে অবসর নেন তিনি ৷ এর মধ্যে তিনি ১৯৩৯ সালে দৈনিক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৪০ সালে চট্টগ্রাম কোর্টের একজন আইনজীবি হিসাবে অনুশীলন শুরু করেন। কিন্ত অবশেষে তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন।

বিপ্লবী জীবন
বিপ্লবীদের দলে নাম লেখানোর অল্প দিনের মধ্যেই বিনোদবিহারী চৌধুরী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলেন। ১৯৩০ সালের ঐতিহাসিক অস্ত্রাগার লুন্ঠনে বিনোদবিহারী চৌধুরী তাই হতে পেরেছিলেন সূর্যসেনের অন্যতম তরুণ সহযোগী। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামকে তিন দিনের জন্য স্বাধীন করেছিলেন তিনি। টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস করা, অক্সিলারি ফোর্সের সমসত্ম অস্ত্রশস্ত্র লুট করেছেন। দামপাড়া পুলিশ লাইন, এখানে অস্ত্রের গুদাম ছিল, সেটাও তিনি ও দলের সদস্যরা মিলে লুট করেন। এ দলে ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনসহ ছিলেন হিমাংশু সেন, অনন্ত সিংহ, গণেশ ঘোষ ও আনন্দ গুপ্ত। '৩০সালের এ ঘটনার পর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন জঙ্গি রূপ ধারণ করে। সে দিনের এসব বিপ্লবীর দুঃসাহসিক কর্মকান্ড ব্যর্থ হয়নি। চট্টগ্রাম সম্পূর্ণরূপে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত ছিল চার দিন। এই কয়েক দিনে ব্রিটিশ সৈন্যরা শক্তি সঞ্চয় করে বিপ্লবী দলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত বিনোদবিহারীরাও বীর বিক্রমে পরে জালালাবাদ পাহাড়ে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন। জালালাবাদ যুদ্ধ ছিল বিনোদবিহারী চৌধুরীর প্রথম সম্মুখযুদ্ধ। গলায় গুলিবিদ্ধ হয়েও লড়াই থামাননি তাঁর। চোখের সামনে দেখেছিলেন ১২ জন সহকর্মীর মৃত্যু।

মৃত্যু
বিনোদবিহারী চৌধুরী মৃত্যু বরন করেন ১১ এপ্রিল ২০১৩ সালে। অগ্নিযুগের বিপ্লবী সদ্যপ্রয়াতের মরদেহ তাঁর শেষ ইচ্ছানুসারে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। বিনোদবিহারী চৌধুরীর বড় ছেলে বিবেকান্দ্র চৌধুরীর স্ত্রী উপলি চৌধুরী বলেন, প্রয়াত শ্বশুরের শেষ ইচ্ছা ছিল কলকাতায় প্রয়াণ হলেও যেন তাঁর দেহ বাংলাদেশে তাঁর জন্মভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর সেই ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর মরদেহ আজ চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছে। তিনি ১০৩ বছর বয়সে মৃত্যু বরন করেন।

পুরস্কার
২০০০ সালে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন বিপ্লবী বিনোদবিহারী চৌধুরী। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের সম্মাননা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

 


Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে