Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

আফসানা মিমি

অভিনয় আর পরিচালনা উভয় জায়গাতেই আফসানা মিমি রেখেছেন দক্ষতার ছোঁয়া। হাসিখুশি, আড্ডাবাজ আর প্রাণবন্ত মানুষ তিনি। বহু বাধাবিঘ্ন এসেছে তার চলার পথে, কিন্তু কখনই থমকে যাননি। অভিনেত্রী হিসেবে যেমন পেয়েছেন জনপ্রিয়তা, নির্মাতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একসময় টিভিপর্দায় নিয়মিত অভিনয় করলেও এখন নেপথ্যের কাজকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। অভিনয় করছেন খুব কম।

মঞ্চের কাজ
শোবিজে পথচলার ২৫ বছরের বেশি সময় অতিক্রম করেছেন আফসানা মিমি। অভিনয়ে তার অভিষেক হয়েছিল মঞ্চে। ১৯৮৬ সালে ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে প্রথম মঞ্চে ওঠেন তিনি। অভিনয় করেন মনোজ মিত্রের ‘রাজদর্শন’ নাটকের রানী চরিত্রে। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রয়াত সৈয়দ মহিদুল ইসলাম। একই নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য গাজী রাকায়েতের মাধ্যমে পরবর্তীকালে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হন।

নাগরিকের হয়ে প্রথম মঞ্চে উঠেছিলেন শেক্সপীয়রের ‘হ্যামলেট’ অবলম্বনে আলী যাকের রচনা ও নির্দেশনায় ‘দর্পণ’ নাটকের কোরাস দলের একজন হয়ে। পরে অভিনয় করেন ‘নূরুলদীনের সারাজীবন’, ‘দর্পণে শরৎশশী’, ‘ঈর্ষা’ প্রভৃতি নাটকে।

মাঝে মিডিয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত থাকা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ প্রায় এক দশক বিরতির পর সম্প্রতি আবার তিনি মঞ্চে ফিরেছেন। প্রাচ্যনাটের নতুন প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ নাটকে সুরঙ্গমা চরিত্রে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করছেন। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম।

ছোটপর্দায় কাজ
টিভিপর্দায় আফসানা মিমির মিষ্টিমুখ প্রথম দেখা যায় বিজ্ঞাপনচিত্রে। পেপস জেল টুথপেস্টটি এখন বাজারে না দেখা গেলেও নব্বইয়ের দশকে এই একটি বিজ্ঞাপন করেই পেয়ে যান ব্যাপক পরিচিতি। প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘জিরো পয়েন্ট’ নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় প্রথম অভিনয় করেন। এ নাটকে তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন আমজাদ হোসেন। তিনি তার ‘বউ কথা কও’ নাটকে আফসানা মিমিকে প্রধান চরিত্রে কাস্ট করেন। এটাকে আফসানা মিমি ছোটপর্দায় তার অভিনয়ের প্রথম টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করেন। তবে হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করেই তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বলে মনে করেন।

বড়পর্দায় কাজ
বড়পর্দায়ও নিজের প্রতিভার পরিচয় রেখেছেন আফসানা মিমি। নিজে চলচ্চিত্রে অভিনয় খুব কম করলেও দীর্ঘদিন সিনেমার অনেক তারকা নায়িকার ডাবিং করেছেন। বিশেষ করে নায়িকা পপির কণ্ঠে দীর্ঘদিন দর্শক শুনেছেন মিমির কণ্ঠ, যা অনেকেই হয়তো জানেন না। যেসব তারকা নায়িকা ডাবিং করতে চান না বা পারেন না, সিনেমার পর্দায় তাদের ঠোঁটে আফসানা মিমির কণ্ঠ একসময় নিয়মিত ছিল। তবে এখন আর সিনেমার ডাবিং করেন না। সম্প্রতি অবশ্য তিনি নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করছেন। সজল খালেদের পরিচালনায় নির্মিতব্য এ ছবির নাম ‘কাজলের দিনরাত্রি’। এতে কাজলের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। তার বিপরীতে অভিনয় করছেন আফজাল হোসেন।

ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ
নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী আফসানা মিমি ২০০০ সালে ধারাবাহিক নাটক ‘বন্ধন’ দিয়ে পরিচালনায় আসেন। টেরিস্ট্রিয়াল একুশে টিভিতে প্রচারিত ‘বন্ধন’ ধারাবাহিকটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি মিডিয়ায় তৈরি করে দীর্ঘ ধারাবাহিক নির্মাণের ট্রেন্ড। আফসানা মিমি এরপর একে একে নির্মাণ করেন দীর্ঘ ধারাবাহিক ‘গৃহগল্প’, ‘সাড়ে তিনতলা’, ‘কাছের মানুষ’ ও ‘ডলস হাউস’ । তার প্রতিটি ধারাবাহিকই বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

 


Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে