Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

বখতিয়ারের বাইক

বখতিয়ারের বাইক
শিল্পীর শখটা আজও মাঠে মারা গেল।  পরপর তিন দিন একই ঘটনা।    এখন শিল্পীকে বোঝানো যাবে না। বেচারি শখ করে মোটরসাইকেলে উঠেছে। ইচ্ছে ছিল গ্রামের শেষ মাথার মহিষডোবা বিলের পাড় থেকে একটু ঘুরে আসবে। তা আর হচ্ছে কই! মাঝ পথে বখতিয়ারের মোবাইলে ফোন। ফোনের শব্দ শুনেই শিল্পী যা বোঝার বুঝে গেছে। দু'হাত দিয়ে বখতিয়ারের কাঁধ ধরেছিল সে, ফোন আসায় হাত দুটো ইতিমধ্যে সরিয়ে নিয়েছে। ফোন করেছে বেপারিপাড়ার জয়নাল। পোলপাড়ে তার ফ্লেক্সিলোডের দোকান। বিপদ-আপদে গ্রামের লোকজন সেখান থেকে ফোন-টোন করে। বখতিয়ার হোন্ডা থামিয়ে কথা শেষ করার আগেই শিল্পী নেমে যায়। আমি গেলাম। গেলাম মানে! গেলাম মানে, বিদায়। তোমার ফোন আইছে। অহন তুমি মানুষের সেবায় ঝাঁপাইয়া পড়বা। আমি জলে ভাসা পদ্ম; ভাসতে ভাসতে বাড়ি চলে যাই। বখতিয়ার কথা বাড়ায় না। তাকে আসলেই যেতে হবে। মিলিটারি বাড়ির সুলেমানের বাপ নারিকেল গাছ থেকে পড়েছে। অবস্থা নাকি খুব খারাপ। দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। বখতিয়ার শিল্পীর হাত দুটো ধরে বলল, আইজও হইল না। এর পরের বার ইনশাআল্লাহ তোমার মনের আশা পূরণ হইবো। গরম পাতিলে ছ্যাঁক খাওয়া ভঙ্গিতে হাতটা সরিয়ে নেয় শিল্পী। এর পরে আমি আর তোমার হুন্ডায় উঠলে তো? দুই বছর ধইরা প্রেম করি, অথচ একটা দিন হুন্ডায় চইড়া পুরা রাস্তা যাইতে পারলাম না! তোমার হুন্ডারে আমার সালাম। তুমি অহন খাড়ায়া না থাইক্যা আমার…

কে বড় পণ্ডিত

কে বড় পণ্ডিত
শালবনের কিনারা ঘেঁষে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে অনেকগুলো কাঁঠালগাছ। গাছভরা কাঁঠাল। একটি গাছের একটি কাঁঠাল আগাম পেকেছে। ম-ম গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। বিকেল বেলায় একটি খ্যাঁকশিয়াল শালবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় টের পেল পাকা কাঁঠালের গন্ধ। কাঁঠাল-খিদেয় পেট তার চোঁ চোঁ করে উঠল। লোভী চোখে তাকিয়ে ভাবল—কাঁঠাল পাকলে খ্যাঁকশিয়ালের কী! যেমন বেল পাকলে কাকের কী! না না! কাককে তো সে এ বছরই বেল খেতে দেখেছে!…

হাবা

হাবা
ছেলেটার জন্মের সময় একটা নাম দিয়েছিল তার বাবা হাশেম মিয়া। রীতিমতো আকিকা করে, ছাগল জবাই দিয়ে, মানুষজন খাইয়ে। তিলটানার জবুথবু দুনিয়াতে ছেলেটার আকিকা একটা ছোটখাটো ঢেউ তুলেছিল। ছেলেটার ওই আদিনামটা আমি নিতে চাই না, যেহেতু সবাই তা ভুলে গেছে। দুই বছরের মতো টিকেছিল নামটা, যত দিন না তার মা আবার সন্তান বিয়োতে গিয়ে মারা গেল, তত দিন; অথবা আরও কিছুদিন, যত দিন না সে যে একটা হাবা—তা প্রমাণিত হলো।…

দায়  

দায়
 
ফাহিম সব কথা জানে না। যদিও কাহিনীটি সে নিজের চোখেই দেখেছে। ঘটনাটা শুরু হয় একটি মানিব্যাগ হারানোর মধ্য দিয়ে। সেটা অবশ্যই বড় কথা। তার চেয়ে বড় কথা, শুরু থেকে শেষ অবধি সব কাজেই রাশেদ নানা জড়িত। ফাহিম সে জন্য ব্যাগ হারানো কথাটা তার কাছেই তুলে ধরল। রাশেদ নানা ওর আপন নানা নন। মামার বাড়ির পাড়াতুতো সম্পর্কে ওর মায়ের…

নির্ঘুম

নির্ঘুম
আমার ঘুম খুব গভীর। শুনেছি, ঘুমিয়ে গেলে নাকি মরা কাঠের মতো দেখায়। আমার বিছানায় শুতে যাওয়া আর ঘুমের মধ্যে তখন দূরত্ব থাকে মাত্র দশ মিনিট। ঘুমের চেতনানাশক উপস্থিতি প্রায় কোনো কিছু বোঝার আগেই আমাকে ডুবিয়ে দেয় অতলে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার অনিদ্রা রোগ না থাকলেও আরেকজন মানুষের আছে। আর অবাক ব্যাপার হচ্ছে,…

বিদায়

বিদায়
রমনা পার্কের সামনে চল্লিশ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছে রবি। হাতঘড়ির দিকে তাকায়। তিনটার সময় নিপার আসার কথা। মেয়েটা প্রায়ই এরকম করে। রবিরও প্রায়ই রাগ হয়। রাগটা বুকের মধ্যেই চাপা থাকে। নিপা সামনে এলে একেবারে ভেজা বেড়াল হয়ে যায়।   দুপুর বেলা রমনা পার্কটা ফাঁকা। দূরে বেঞ্চিতে কালো কুচকুচে একটা লোক। রবির দিকে তাকিয়ে…

মায়ের প্রত্যাবর্তন

মায়ের প্রত্যাবর্তন
আধো আলো ছায়ার ভিতরে জাঁকজমক ঘরের আর সব চকচকা ও বিলাস বস্তুগুলি তেমন দেখা যাচ্ছে না। প্রায় মধ্যরাতের পূর্বমুহূর্তে এসে হিরণের সিগারেট শেষের দিকে চলে এসেছে। প্যাকেটে তিন শলাকা আছে। আরও রাত শেষ হওয়ার অনেক বাকি। তবে হিরণের অনুভূতিতে প্রতিটা মুহূর্ত জীবনের সমাপ্তির এক প্রস্তুতি। যে কোন সময় নিজের ভিতরটা মরে…

হাতঘড়ি 

হাতঘড়ি 
অফিস থেকে বাসায় ফিরে মুমুর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় রাথিনের। রাথিনের ব্যস্ততাই এর জন্য দায়ী বলে দাবি মুমুর। দাম্পত্য জীবনের সাত বছর পার করে এ সময়ে কেউ কাউকে যেনো সহ্য করতে পারছে না। সহ্য করাটা ঠিক সেই অর্থে নয়। কথায় কথায় ঝগড়া বেঁধে যাচ্ছে। রাথিনের দাবি, মুমু তাকে নজরবন্দি করে রাখতে চাইছে। বৃত্তবন্দি করে ফেলছে…

দুই জগতের গল্প

দুই জগতের গল্প
গ্যালারি-ভর্তি মানুষগুলোর ভিড়ে লোকটাকে চিনতে একটুও ভুল হয়নি তার। এই চেহারা, এই চুল, এই চাহনি ভুলবার নয়। বহু নির্ঘুম রাত এই লোকটার চেহারা ঘরের অন্ধকার ছাদ ফুঁড়ে ভেসে উঠতে দেখেছে সে। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেছে বারবার, মনে মনে হাজারটা ভেড়া গুনেছে, তবু এই মুখ থেকে মুক্তি মেলেনি। কত রাত ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসেছে,…

অমরাবতী

অমরাবতী
শাহানা শুয়ে ছিলো। ক্লান্তিতে চোখ খুলতেও কষ্ট হচ্ছে তার। ঘুম আর জাগরণের মধ্যবর্তী একটা অবস্থায় আছে সে। তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা বিষাক্ত কীটের মতো উরুসন্ধি বেয়ে ক্রমশই মস্তিষ্কে উঠে আসছে আর নেমে যাচ্ছে। ঘুমালেও এড়ানো যাচ্ছে না সেই ওঠা-নামা। আস্তে আস্তে চোখ খুলল শাহানা। ছোট্ট আঁতুড়ঘরে তার পাশে শুধু ধাই। শ্বশুর…

আনন্দ পারাবার

আনন্দ পারাবার
যুবতীর স্তনাগ্রে বিঁধে আছে শহর। মিথিলা হেঁটে যায় উদ্ধত দেহভঙ্গিমায়। সোনালী হিলের প্রতি পদক্ষেপের সাথে মরালী গ্রীবা আগুপেছু আর ঘাড় অব্দি নেমে আসা পরিপাটি সাজের চুল বাতাসে উড়ে। মিথিলা প্রিয় নাম। মিথিলা হেঁটে গেলে তার গৌড়বর্ণে সূর্য খেলা করে। নিতম্বের ভাঁজ পেরুলে সরীসৃপের গতি নিয়েছে দেহ। এঁকেবেঁকে আরো…

পথ হারা পথিক

পথ হারা পথিক
কিছু মানুষ হঠাৎ করে হারিয়ে যায়।সবার মাঝে থেকেও যেনো তারা নেই। নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে কোন এক অজানা জগতে। তাদের জীবনে থাকে না কোন পিছুটান। থাকে না কোন লক্ষ্য। থাকে না কোন চাওয়া-পাওয়া, থাকে না কোন স্বপ্ন। তাদের জীবনটা হয় শুষ্ক মরুভূমির মতো। পথ হারা পথিকের মতো তারা কি যেনো খুঁজে যায়। কি যেনো একটা নেই। মায়াবী…

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে