Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

মিসেস শিফা

মিসেস শিফা
মিসেস শিফার সাথে আজ ঠিক কত বছর পর দেখা, আমি মনে কইরা বলতে পারব না। তবে যখন আমি ক্লাস ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষা দিয়া ঢাকায় বেড়াইতে আসছিলাম, তখন তার সাথে বেশ কয়েকটা দিন কাটাইতে হইছিল। স্মৃতিতে এখনো জাইগা আছে, অমন যাওয়া মনে হয় ওইবারেই প্রথম ছিল। এর আগে যদ্দূর মনে পড়ে, আমার নানির হাত ধইরা ঢাকা ডিঙাইয়া নারায়ণগঞ্জ গেছিলাম। অনেক ছোট থাকতেই আমি আমার মায়েরে ছাইড়া দূরে ঘুরতে যাইতাম। খারাপ লাগত না কখনোই। কারণ, নানি ছিলেন আমার কাছে মায়ের চাইতেও বেশি অভ্যস্ততা আর স্বাধীনতার জায়গা। মিসেস শিফা সম্পর্কের দিক দিয়া আমার চাচি হন। সেই সূত্রেই বাবা আমার পরীক্ষা-পরবর্তী বেড়ানোর জন্য ঠিক করছিলেন কয়েক দিন কইরা ক্রমান্বয়ে আমাকে তিন ফুফু এবং চাচার বাড়িতে রাইখা আসবেন। আমরা বাদে আমাদের বাকি আত্মীয়স্বজন ঢাকায় থাকার কারণে সেইবার বড় একটা ট্যুর দেওয়া সম্ভব হইছিল। আমার তাতে আনন্দই ছিল, যেহেতু প্রথমবারের মতো একা এতগুলা দিন আমি বাড়ির বাইরে থাকতে যাইতেছি। নতুন জায়গা আর মানুষ—দুইটাই ভালো লাগত আমার, যদিও আমি কথা বলতাম খুবই কম। মিসেস শিফা কোনো এক সরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। খুব স্বল্পভাষী, গোছানো–পরিপাটি এক ভদ্রমহিলা। গায়ের রং কালো। আমাদের পরিবারে মেয়েদের গায়ের রং নিয়া বাহ্যত কোনো নাক সিটকানি ছিল না। তারপরেও কেউ যেন বুঝতে না পারে, এমন এক লুকোচুরিতে…

কোন ফড়িঙ আমাকে চিনতে পারছে না

কোন ফড়িঙ আমাকে চিনতে পারছে না
কী ব্যাপার! গলির মুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ফড়িঙের মত উড়ে উড়ে আসছে ষোড়শী অতনু। হাসতে হাসতে, ভিন্ন একটি ছেলের সঙ্গ নিয়ে আসছে অতনু। আমার বুকের বাঁপাশটা আঁকড়ে ধরে যে একদিন হাঁটতো। আমার সামনে এভাবে সে কখনো পড়েনি ধরা। আমি ওকে দেখলাম, একবার দেখে কী অনায়াসে চোখ ফেরালাম, ওই তাকানোটার মুহ‚র্তে চোখাচোখি হ›লো। কোন জড়তা লক্ষ্য করলাম না, সে একইরকম হাসতে হাসতে নাচতে নাচতে চলে গেলো স্বাচ্ছন্দ্যে।…

মেয়েটা আমার সঙ্গে হাঁটে

মেয়েটা আমার সঙ্গে হাঁটে
এই যে শুনুন। মিলি শুনতে পেল না। যেমন হাঁটছিল, হাঁটতে লাগল। ভদ্রমহিলা দ্রুতই হাঁটছিলেন। পরনে বেগুনি প্রিন্টের কামিজ আর সাদা সালোয়ার। পায়ে আরামদায়ক জুতো। অক্টোবরের শেষদিক। বিকেলবেলার পার্কে শীতলভাব। তারপরও তিনি বেশ ঘেমেছেন। মিলি শুনতে পায়নি দেখে দৌড়ে এসে তাকে ধরলেন। শুনুন। মিলি যেন অন্য জগৎ থেকে ফিরল। ডাগর চোখে আত্মমগ্ন দৃষ্টি। বলুন। আপনি মিলি না? সজলের ছোটবোন? জি। কিন্তু আপনাকে…

তিথির ডানা

তিথির ডানা
১. সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি মাখা সকালে পূর্বদিকে জেগে ওঠা রোদটায় যেন দুপুরের দিকে গড়াবার কোনো তাড়া নেই। অচল বুড়োর মতো আলস্য। অথচ দুপুরের খরখরে রোদটা ঠিক দুপুরের ভাতের প্লেটের মতোই দ্রুত ফুরিয়ে বিকেলে চলে যায়। তারপর সন্ধ্যা ছুঁয়ে চলে যায় নিসস্তব্ধ রাতের দিকে। তিথি প্রতিদিন প্রার্থনা করে- সকালটা খুব দ্রুত দুপুর…

আগন্তুক মহারাজ

আগন্তুক মহারাজ
-মা আইজ কী বার গো? -কেন রে, বাবা? -না; শইলডা কেমন জানি করতাছে। -কি অইছে তোর? -তেমন কিছু না, ব্যতাডা বাড়ছে। -আরে আইজ তো বিশসুদ বার। বুজছি। একাদশীর কারণেই এই ব্যতা। একাদশী তিথিতে বাবা নতুন পুরান সব ব্যতা দেহা দেয়। সমুদ্দের যেমন জোয়ার আইয়ে তেমনি আমাদের দেহের মাজেও জোয়ার-ভাটা আছে। বাবা এই দেহের মাজে হাজার হাজার নদী আছে।…

অপেক্ষার শ্বাসবিরতি

অপেক্ষার শ্বাসবিরতি
উঁচুনিচু গিরিখাদ বেয়ে নামছি উঠছি। শহরের রাস্তায় নেশাতুর চোখ ঘুমঘুম। বাসে যাত্রী কম। কত অস্থির তক্ষকের সুচতুর খসখসে চাহনি আজ আর গলে গলে পড়ছে না আমার গা-বেয়ে। তবু আমি পুড়ছি গরমে; উষ্ণতার আরাম নয় ভ্যাপসা গরম! তরল আঠালো নুনে আমার রাতকামিজের পিঠ কেটে যাচ্ছে। ভিজেঘাম দখল করে নিয়েছে অন্তর্বাস। পেছনে শুনতে পাচ্ছি…

বৃহন্নলা

বৃহন্নলা
ষোল পেরিয়ে গেলেও এ যাবত আলমের মত সুশ্রী, সুন্দর আর সুপুরুষ দ্বিতীয়টি দেখেনি শাকিলা। ঝারা ছয় ফুট লম্বা, উজ্জ্বল শ্যামলা রঙের পেটা পেশীবহুল শরীর। মনকারা হাস্যোজ্জ্বল চেহারা। নিমিষেই যে কোন নারীর নজর কেড়ে নিতে সক্ষম।  শের-এ-বাংলা মহাবিদ্যালয়। নবীন বরণ অনুষ্ঠান। শাকিলা ও তার চাচাতো বোন, বন্ধু, সহপাঠী মিলা।…

বৃষ্টিভেজা রাতের গাড়ি ও বুটের শব্দ  

বৃষ্টিভেজা রাতের গাড়ি ও বুটের শব্দ

 
এখনও কোনো গাড়ি গভীর রাতে বাড়ির গেটে থামলে আঁতকে ওঠেন ফিরোজ। গেটে এসে পড়া গাড়ির আলোকে মনে হয়- একটা রাক্ষুসে দানবের দুটো জ্বল জ্বলে চোখ। আর এক্ষুনি গাড়ি থেকে নামবে ক্যাপ্টেন আর সিপাহিরা। তাদের বুটের শব্দ রাতের নীরবতার ভেতরে বেজে উঠবে। গাড়ি থেকে নামবে একটা কফিন। আর একটু পরে বলবে, ইয়ে লোগ গাদ্দার। এখন আর সেই…

ঘ্রাণ

ঘ্রাণ
আমার সামনে তেইশ চব্বিশ বছরের এক যুবক, হাতে হুমায়ুন আহমেদের তেঁতুল বনে জ্যোৎস্না। এখনকার ছেলেমেয়েদের উপর  হুমায়ুন আর তার ভাইদের প্রভাব ব্যাপক। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে আমরা সামনাসামনি বসে, কিন্তু কথা হয় নি। শুরুতে ছেলেটা চেষ্টা করছিল গল্প জমানোর। আমি পাত্তা দেই নি। এই বয়সের ছেলেদের সাথে গল্প করতে হয় না, নিয়ম…

উত্তরাধিকার

উত্তরাধিকার
সবুজের বাবা একাব্বর আলি প্রায়ই কিছুদিনের জন্য গায়েব হয়ে যায়। একেকবার ফিরে এসে নতুন নতুন সব গল্প। সাথে থাকে সবুজের জন্য আজগুবি সব উপহার। যেমন এবার এনেছে একটা পাখি। তাও আবার যেনতেন পাখি নয়- সুখ পাখি, যে কিনা কথা বলতে পারে। এরপর এই সুখ পাখিটা কোথায় কেমন করে পেল সেই গল্পের পালা। একাব্বর আলি তার বিড়ি খাওয়া ফেসফেসা…

পাগলা ঘরে আসি আর যাই

পাগলা ঘরে আসি আর যাই
আমার একটা তুমুল প্রেম ভেঙে গিয়েছিল ভোরবেলায়। লোকটার বউ ছিল, সন্তান ছিল। আর আমার ছিল অল্প বয়সের মাখোমাখো আবেগ, অন্ধ ছুটে যাওয়া।  তুলতুলে এক খরগোশ পুষেছিলাম। কোনো এক রাতে গা কাঁপিয়ে জ্বর এলো তার। ভোরের আলো জ্বলে উঠবার ঠিক আগের মুহূর্তে একবার মৃদু খিঁচুনি তুলে মরে গেল সে। সকাল ৯টায় অ্যারোপেল্গনের টিকিট কাটা…

যা হবার নয়, তাই চাই

যা হবার নয়, তাই চাই
লন্ডন এখন আগুনমুখো রঙিন পাতায় ছেয়ে আছে। রোদের আলোর মৃদু তাপে যখন ওম লাগাই শরীরে, তখন পাতারা ঝরে পড়ছে। যেদিন বৃষ্টি পড়ে একনাগাড়ে, ঘরদোরে বিছানা বালিশে ক্লান্ত মন শুয়ে থাকে, অথচ জীবন ব্যস্ত অফিস পাড়ায়, তখনও পাতা ঝরছে। আর মাত্র ক'দিন পরই শূন্য হবে গাছের ডালপালা। আমরা কয়েক পরতে গায়ে জড়াব শীতের কাপড়। পথের বাঁকেই…

 1 2 3 >  শেষ ›
Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে