Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ , ১৭ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১০-১৭-২০১২

সরকারকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ- যুদ্ধাপরাধের বিবাদীপক্ষের আইনজীবীদের হয়রানি বন্ধ করুন


	সরকারকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ- যুদ্ধাপরাধের বিবাদীপক্ষের আইনজীবীদের হয়রানি বন্ধ করুন

যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের হয়রানি বন্ধের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গতকাল এক প্রতিবেদনে তারা এমন দাবি জানান। এতে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধের মামলার বিবাদীপক্ষের এক সুপরিচিত আইনজীবীর অফিসে কোন উপযুক্ত কারণ না দেখিয়ে সশস্ত্র পুলিশের অভিযান নিয়ে বাংলাদেশে যে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে তা সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে দ্বিধার সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় যারা বিবাদীপক্ষের কাউন্সেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের অফিস ঘেরাও করার নির্দেশ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে নিশ্চিত হয় যে, আইনজীবীরা হুমকি ও ভয়ভীতির বিষয় না হন। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ‘বাংলাদেশ: অ্যান্ড হ্যারাসমেন্ট অব ওয়ার ক্রাইমস ডিফেন্স কাউন্সেল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেন, সমপ্রতি বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের অফিসে সশস্ত্র গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কোন ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযান চালিয়েছে। এর পিছনে কোন যৌক্তিক কারণও নেই। এর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে চলার পথ বড় ভয়ঙ্কর মোড় নিয়েছে। এই কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উচিত প্রকাশ্যে নিন্দা জানানো। না হয় তাদেরকে সুষ্ঠু বিচারের মানদণ্ড ভঙ্গ করার দায়ে দায়ী হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যাবে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ই অক্টোবর স্থানীয় বিকাল সাড়ে চারটায় ১০-১২ জনের পুলিশের একটি দল আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের ঢাকার অফিসের বাইরে সমবেত হয়। তারা নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্য বলে পরিচয় দেয়। ওই অফিসে উপস্থিত আইনজীবীরা তাদের এই উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। তারা চেম্বারের প্রতি কোন আগ্রহ প্রকাশ করে না। কিন্তু পরক্ষণেই তারা ওই অফিস তল্লাশি করতে চায়। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা তাদের কাছে সার্চ ওয়ারেন্ট দেখতে চান। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা তা দেখাতে পারে নি। এরপরই ওই কর্মকর্তারা ওই অফিসের স্টাফদের ও আগত আইনি সহায়তা নেয়া লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তারা তাদের নাম-ঠিকানা লিখে নিতে থাকে। এভাবে ২০ মিনিট পরে পুলিশ তাদের নিজের ইচ্ছায় চলে যায়। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রথম ও দ্বিতীয় চেম্বারের কাছে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা ১০ই অক্টোবর ওই ঘেরাওয়ের তদন্ত দাবি করেন। দ্বিতীয় চেম্বার থেকে তাদেরকে একটি লিখিত আবেদন করতে এবং পুলিশে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে বলা হয়। প্রথম বিচার আদালতে সভাপতিত্ব করা বিচারক তাদেরকে বলেন, এ বিষয়টি তাদের কর্তৃত্বের বাইরে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে কাজ করা আইনজীবীরা এর আগেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের হাতে হয়রানি হওয়ার বিষয়টি অবগত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, তাদেরকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধ বিচারের মুখোমুখি এমন বেশ কয়েকজনের পক্ষে কাজ করা সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাককে হয়রানি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল চার্জ আনা হয়েছে। তার বাসা ও অফিসে অব্যাহত নজরদারি করা হচ্ছে। বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, তারা হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের আদালতে হাজির করতে পারছেন না। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আইনে ভয়ভীতিমুক্তভাবে কাজ করার জন্য নিরাপত্তার গুরুত্বের কথা স্বীকৃত। তা তিনি বাদীপক্ষেই থাকুন বা বিবাদীপক্ষেই থাকুন। কিন্তু এ রকম নিরাপত্তার অভাবে, অভিযুক্তরা তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে মুক্তভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাই কাউন্সেলরা তাদের মক্কেলের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না। এই রকম হয়রানি ও ভয়ভীতির কারণে আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক হ্রাস করে দেখা হচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মতো হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বার বারই বিবাদীপক্ষের একটি অফিস স্থাপনের জন্য আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। এমন অফিস স্থাপন করা হলে দু’পক্ষের মৌলিক অধিকার স্বীকৃতি পাবে। তাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুতার দিকে অনেকটা পথ এগিয়ে যাবে। কিন্তু বিবাদীপক্ষের কর্মকর্তারা শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত বিবাদীপক্ষের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে। তারা যেসব তথ্য দেন তা সুরক্ষিত রাখা হয়। বিবাদীপক্ষের একটি ডিফেন্স অফিস সৃষ্টি করে সেখানে যথাযথ লোকজন দিয়ে ও সমর্থন দিলে তাতে পরিষ্কার হবে যে, বিবাদীপক্ষের সঙ্গে সমান আচরণ করা হচ্ছে এবং বিচার প্রক্রিয়া অপরিহার্যভাবে সুষ্ঠু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেসব নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছিল তার বিচার করতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইনের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। পাশাপাশি তারা এগুলোকে সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ঘটনা চলাকালে যেসব যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে তাকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংশোধন করে পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। ট্রাইব্যুনাল গঠন ও এর সদস্যদের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য আইন সংশোধন করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতার অধীনে অভিযুক্তের অধিকার ও তার বিচার পাওয়ার পথকে নিশ্চিত করতে আইন সংশোধন করতে হবে। অনুচ্ছেদ ৪৪-এর অধীনে মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ সহ অভিযুক্তের সাংবিধানিক অধিকার অনুমোদন করতে বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭ (ক) সংশোধন করতে হবে। এর অধীনে মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। বিচারের আগে, চলাকালে ও চলার পরে ঘটনার শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্রাড এডামস বলেন, যখন দু’পক্ষকেই সমান চোখে দেখা হবে, যখন আইন যথাযথভাবে মানা হবে তখন সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে বলে জনমনে আস্থা ফিরবে।
হিউম্যান রাউটস ওয়াচের অভিযোগ ভিত্তিহীন: আইনমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে যে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীদের সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং হয়রানি করছে। এব্যাপারে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ গতকাল বিবিসিকে বলেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যদি এ কথাটি বলে থাকে এ ব্যাপারে আমি জোরালোভাবে বলছি যে, এ অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন, মিথ্যা। যারা ডিফেন্স কাউন্সিল হিসেবে কাজ করছেন তাদেরকে কোন অবস্থাতেই কখনও ভীতি প্রদর্শন করা তো দূরে থাকুক, তাদের সঙ্গে কেউ উচ্চ স্বরে কথা বলছেন না। তাদের হয়রানি করার অভিযোগ একেবারে মিথ্যা। যারা মিথ্যা উক্তি দিয়ে এ ধরনের কথা বলছেন তারা বিনা কারণে এ বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। ৯ই অক্টোবরের ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন- যারা সেখানে গিয়েছিল তারা সরকারের কোন ব্যক্তি নন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন- কেউ গিয়েছিল তার প্রমাণ কি? তারা মিথ্যা অনেক কথাই বলতে পারেন। তারা যদি কোন অপরাধীকে লুকিয়ে না রাখেন, তাহলে কি কারণে তারা সেখানে যাবে?

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে