Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১০ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১০-১৬-২০১২

অনৈতিক কাজে জড়িত ১৪৫ এমপির তালিকা টিআইবিতে

সালেহউদ্দিন ও সাইদুর রহমান



	অনৈতিক কাজে জড়িত ১৪৫ এমপির তালিকা টিআইবিতে

 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) হাতে অনৈতিক কাজে জড়িত ১৪৫জন সংসদ সদস্যের তালিকা রয়েছে। মামলার ভয়ে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। টিআইবি’র একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, তালিকা প্রকাশ করা হলে ক্ষুব্ধরা তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করতেন। তবে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেছেন, নীতিগত কারণেই নাম প্রকাশ করা হয়নি। আমাদের কাছে ১৪৯জনের মধ্যে  নেতিবাচক কাজে যুক্ত ১৪৫জন এমপি’র নামের তালিকা ও তাদের সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ের তথ্য রয়েছে।
 
জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আব্দুল হামিদ টিআইবির জরিপ প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যে ৬০০ জনের মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে, তাদের পরিচয় নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
 
এদিকে, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি অভিযোগ করেছেন টিআইবি লুকোচুরি করে জরিপ করেছে। তাদের এই জরিপ পুরো সংসদকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। জানা গেছে, সংসদের আগামী অধিবেশনে টিআইবি’র প্রতিবেদন তলবের দাবি জানাবেন সংসদ সদস্যরা। স্পিকারের কাছে টিআইবি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও তুলবেন তারা।  গত ১৪ অক্টোবর বর্তমান জাতীয় সংসদের ৯৭ ভাগ সংসদ সদস্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের সংসদ সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আওয়ামী অভিযোগ করেছে, নির্বাচিত ব্যক্তিদের চরিত্র হরণের মাধ্যমে অনির্বাচিতদের ক্ষমতায় আনতেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে, সরকারি দলের এমপিদের বিরুদ্ধে বিএনপি যেসব অভিযোগ করেছিল, টিআইবি’র প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের এই প্রতিক্রিয়ার জবাব দিয়েছেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। নবম জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের গণতন্ত্র চর্চাকে উত্সাহিত করতেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। গণতন্ত্রের ঘাটতির কারণে অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ পায়। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতেই কাজ করে যাচ্ছে টিআইবি। তিনি আরো বলেন, আমরা সমাজের নেতিবাচক দিকগুলো দেখি। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার  জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকি। সরকারে যারা থাকেন তারাই বেশি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান। এটাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। কোন অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উত্সাহিত করতে নয়, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতেই কাজ করে টিআইবি। অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উত্সাহিত করা নিয়ে যেসব বক্তব্য আসছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
 
ইফতেখারুজ্জামান জানান, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এমপিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু আমাদের গবেষণা প্রতিবেদনে তাদের নাম রয়েছে। ৭টি বিভাগের ৪২টি অঞ্চলের ১৪৯ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন। ৬শ’ ব্যক্তির কাছ থেকে ওইসব সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে টিআইবি’র একটি নির্দিষ্ট ফরমে তথ্য গ্রহণ করা হয়। ১৪৯ জন এমপি’র মধ্যে ১৩জন বিরোধী দলের রয়েছেন। তার মধ্যে ১২জন সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে। বাকিরা ক্ষমতাসীন ও মহাজোটের শরিক। তবে এটাকে ৩শ’ সংসদ সদস্যের সঙ্গে তুলনা করলে হবে না। এমপিদের নাম প্রকাশ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিআইবি’র নীতিমালা অনুযায়ী নাম প্রকাশের কোন নিয়ম নেই। যে কারণে নাম প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
 
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, জরিপের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়, এটা প্রশ্নবিদ্ধ। পুরো সংসদ নিয়ে অল্প কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বলা কতটুক যৌক্তিক! তাছাড়া টিআইবি লুকোচুরি করে জরিপ করেছে। এসব কাজে লুকোচুরি কেন করা হলো তা বোধগম্য নয়। সকল সংসদ সদস্যকে নিয়ে এভাবে ঢালাও মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। এতে সংসদকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
 
সাবেক রেলমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে টিআইবি’র মতো প্রতিষ্ঠানের কোনো বিধান নেই। একজন জনপ্রতিনিধি জনগণের বাইরে সংসদ, সংসদীয় পার্টি ও দলের কাছে জবাবদিহিতা করে থাকেন। বিশ্বব্যাপী এটাই স্বীকৃত। সংসদকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় ব্যবচ্ছেদের প্রয়াস।
 
সরকার দলীয় তরুণ সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম বলেন, গবেষণার কোন্ পদ্ধতি অনুসরণ করে এটি করা হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। টিআইবি বলছে, তারা মিটিং করে এই জরিপ করেছে। কিন্তু মিটিং করে মত নেয়া কোনো জরিপের পদ্ধতি হতে পারে না। এটা জরিপ নয়। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে, একজন সংসদ সদস্যের প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু কোনো এমপি যদি শুধু ঢাকায় বসে আইন প্রণয়নের কাজ করেন আর এলাকায় সমস্যা চলতে থাকে তবে জনগণ বলবে এমপি অথর্ব। তিনি জানান, সংসদের আগামী অধিবেশনে টিআইবি’র প্রতিবেদন তলবের দাবি জানানো হবে। আমাদের অধিকার রয়েছে, কিভাবে কিসের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা পর্যালোচনা করে দেখা ।
 
মহাজোটের শরিক জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি বলেন, টিআইবি ঢালাওভাবে ৯৭ ভাগ সংসদ সদস্যকে নিয়ে যে কথা বলেছে, তা কতটুকু যৌক্তিক ভেবে দেখতে হবে। ঢালাও কথা বলা যুক্তিসঙ্গত হয়নি।
 
শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলম বলেছেন, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত টিআইবি’র মতো একটি প্রতিষ্ঠানের উচিত ছিল সুনির্দিষ্টভাবে কথা বলা। কোন্ কোন্ সংসদ সদস্য অনৈতিক কাজ করছে, এটা স্পষ্ট করে বলা উচিত ছিল।  এ বিষয়ে টিআইবি’র একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, সরাসরি নাম প্রকাশ করা হলে ক্ষুব্ধ এমপিরা টিআইবি’র বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। এই আশংকা থেকে নামগুলো প্রকাশ করা হয়নি। তাছাড়া আমাদের নীতিমালাতেও নাম প্রকাশের বাধা রয়েছে।
 
প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা
 
প্রশ্ন তুলেছেন স্পিকার
 
অধিকাংশ সংসদ সদস্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িত উল্লেখ করে টিআইবির জরিপ প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্পিকার এডভোকেট আব্দুল হামিদ। যে ৬০০ জনের মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে, তাদের পরিচয় নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
 
গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, ৯৭ শতাংশ সংসদ সদস্য নেতিবাচক কাজের সঙ্গে জড়িত বলে টিআইবি যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা সংসদ ও সংসদ সদস্যদের হেয় করার জন্য দেয়া হয়েছে। এই ধরনের প্রতিবেদন দেখে সংসদ সদস্য হিসেবে আমিও অপমানিত বোধ করছি।  দেশের অর্ধেক সংসদীয় আসনের সদস্যদের ওপর ‘গবেষণা’ চালিয়ে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গত রবিবার এক প্রতিবেদনে বলে, সংসদ সদস্যদের ৯৭ শতাংশই বিভিন্ন ‘নেতিবাচক কার্যক্রমে’ জড়িত।
 
স্পিকার বলেন, কোনো মানদণ্ডেই এটাকে জরিপ বলা যায় না। দেশে ১৬ কোটি মানুষ, ৬৪টি জেলা। টিআইবি ৪২ জেলা এবং মাত্র ৬০০ লোকের মতামত নিয়ে জরিপ করেছে। এদের কথার ওপর ভিত্তি করেই বলে দিল, ৯৭ শতাংশ সংসদ সদস্য খারাপ। এটা কি ঠিক হলো?
 
জরিপে অংশ নেয়াদের বিষয়ে আব্দুল হামিদ বলেন, আমার প্রশ্ন হলো, টিআইবি যে ৬০০ লোকের মতামত গ্রহণ করেছে, তারা কারা? এরা কি টিআইবির লোক? তা যদি হয়, তাহলে তো জরিপ বিজ্ঞানসম্মত হলো না। ৯৭ শতাংশ সংসদ সদস্য খারাপের অর্থ হলো ৩০০ জনের মধ্যে মাত্র নয়জন ভালো। এর অর্থ কি এই নয় যে, ২৯১ জন সংসদ সদস্য সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে? এমন ঘটলে তো এতদিনে দেশের মানুষ রুখে দাঁড়াত। কারণ এদেশের মানুষ যথেষ্ট সচেতন; কিন্তু সে রকম ঘটনা তো কোথাও ঘটেনি, দেখাও যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
টিআইবির প্রতিবেদনে সংসদের কোরাম সঙ্কট নিয়ে যা বলা হয়েছে, সে বিষয়ে আব্দুল হামিদ এজন্য ‘দেরির সংস্কৃতিকে’ দায়ী করেন।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি হলো ৯টার অনুষ্ঠান সাড়ে ৯টায় শুরু হবে; কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন তো কখনো আধা ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় না, পাঁচ-দশ মিনিট এদিক-সেদিক হয়। সারা দুনিয়াতেও এমনই হয়। এতে সংসদের ব্যয় কীভাবে বেড়ে যায় তা আমার বোধগম্য নয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে