Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ , ২৫ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১০-১৬-২০১২

প্রাণ ড্রিংকসের সব লাইসেন্স বাতিল

আবু সালেহ রনি



	প্রাণ ড্রিংকসের সব লাইসেন্স বাতিল

 

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর- প্রাণ ফ্রুট ড্রিংকসসহ ৩১ কোম্পানির বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) লাইসেন্স বাতিল করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের মোড়কে বিএসটিআইয়ের 
লোগো ব্যবহারেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এসব পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর সতর্ক থাকতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে বিএসটিআই। জানা গেছে, এসব কোম্পানি পণ্যের গুণগত মান বজায় রেখে লাইসেন্স নিলেও পরে সেই মান অব্যাহত রাখেনি। মান নিয়ন্ত্রণকারী পরীক্ষাগারের সুপারিশ অনুসারে ১৩ অক্টোবর বিএসটিআইয়ের পরিচালক মো. লুৎফর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে এসব পণ্যের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বিএসটিআই সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারে কোম্পানিগুলোকে নোটিশ দেওয়া হবে। এদিকে সমকালের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নিয়ে নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি অনুমোদনহীন অনেক কোম্পানি তাদের পণ্য বাজারজাত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা উচিত। এদিকে খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে যেসব খাবার শিশুদের কাছে প্রিয়, সেসব পণ্যে ভেজালকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করে সচেতন মহল। তারা বলছেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করে কোম্পানিগুলোকে শাস্তি দিলে হবে না, তাদের আইনের আওতায়ও আনতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল খাদ্যপণ্য গ্রহণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। কিছু পণ্যে ভয়াবহ মাত্রার উপাদানের তারতম্য থাকায় তা বাজার থেকে তুলে নেওয়া উচিত। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১ জুন হাইকোর্ট এক রায়ে খাদ্যের গুণগত মান নির্ণয়ের জন্য সারাদেশে খাদ্য আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের এ রায় এখনও কার্যকর হয়নি।
বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের গুণগত মান বজায় রেখে বিএসটিআই থেকে লাইসেন্স নিয়েছিল। পরে ক্রেতাদের অভিযোগ এবং বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এসব কোম্পানির পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এরপর বিএসটিআইয়ের পুনঃপরীক্ষায় লাইসেন্স নেওয়ার সময় এসব কোম্পানির যে মান ছিল, তা সমপর্যায়ে নেই বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, ভোক্তাদের এসব কোম্পানির পণ্য সম্পর্কে সচেতন করতে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাতিল হওয়া কোম্পানির পণ্যগুলো হচ্ছে_ এগ্রিকালচার মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদিত প্রাণ ফ্রুট ড্রিংকস (ম্যাংগো, অরেঞ্জ, লেমন, স্ট্রবেরি, লিচি, আপেল, পাইন আপেল, ফ্রুট ককটেল), প্রমি এগ্রো ফুডস লিমিটেডের ফ্রুট ড্রিংকস (লিচি, অরেঞ্জ), মডার্ন ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের মডার্ন ফ্রুট ড্রিংকস, নিউট্রি এগ্রো ফুডসের নিউট্রি ফ্রুট ড্রিংকস (অরেঞ্জ), সাফা কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের ফ্রুট ড্রিংকস (রকস্টার, মিক্সড ফ্রুট), ফাস্ট্রাক এগ্রো প্রোডাক্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কিউসি চাটনি, এলিট কনজিউমার প্রোডাক্টস (প্রা.) লিমিটেডের এলিট চাটনি, হাসেম ফুডস লিমিটেডের সেজান চাটনি, ইবনে সিনা ফুড অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ইবনে সিনা চাটনি, ঢাকা ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডায়মন্ড সেমাই, আলাউদ্দিন সেমাই ফ্যাক্টরির আলাউদ্দিন সেমাই, সার্স ফুডের নুরী সেমাই, মায়া চানাচুর ফ্যাক্টরির মদিনা সেমাই, শাহানা সেমাই ফ্যাক্টরির লাবণী সেমাই, মডার্ন হারবাল ফুড লিমিটেডের মর্ডান চাটনি, জে কে এগ্রো ফুড প্রোডাক্টসের সিনথিয়া চাটনি, স্বর্ণা ডেইরি অ্যান্ড প্রোডাক্টসের স্বর্ণা চাটনি, হক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওয়েফার বিস্কুট (অরেঞ্জ ক্রিম, চকোলেট ক্রিম, কোকোনাট, আলমন্ড অ্যান্ড হানি, ট্রটি ফ্রুটি, ডিডং), এ্যাংকর ফুড প্রোডাক্টসের এ্যাংকর ওয়েফার বিস্কুট, মায়ের অনুদান ফুড প্রোডাক্টসের জান্নাত ধনিয়া গুঁড়া, প্রক্সিম লিমিটেডের পিপিএল ধনিয়া গুঁড়া, নরসিংদী সিটি মসলা প্রোডাক্টসের নরসিংদী সিটি ধনিয়া গুঁড়া, এমএমএইচ মাল্টিকেমিক্যাল লিমিটেডের ধনিয়া গুঁড়া, আরএমপি ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাইভেট লিমিটেডের আরএমপি ফ্রুট ড্রিংকস, আরা ফুডস লিমিটেডের ফ্রুট ড্রিংকস, সিটিজি কনজিউমার প্রোডাক্টসের গৃহিণী ধনিয়া গুঁড়া, রংধনু ফুড প্রোডাক্টসের রংধনু ধনিয়া গুঁঁঁঁঁঁঁঁড়া, টিএম এগ্রো ফুড প্রোডাক্টসের এ জেড জেড ধনিয়া গুঁড়া, রহমতুল্লাহ বাণিজ্যালয়ের রান্না ধনিয়া গুঁড়া, বিপিসি ফুড প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কুকমি ভেজিটেবল ঘি, পদ্মা ইলেকট্রিক কোম্পানির পদ্মা স্ট্যাটিক ওয়াট আওয়ার মিটার।
সূত্র জানায়, সরকারি পরীক্ষাগারে বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে রাসায়নিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, লাইসেন্স বাতিল পণ্যগুলো অধিকাংশ কারখানা থেকেই উৎপাদিত, মোড়কজাত ও বাজারজাত করা হয় ভেজাল পণ্য হিসেবে, যা বিশুদ্ধ খাদ্য আইন, ১৯৫৯ (সংশোধিত ২০০৫) এবং বিশুদ্ধ খাদ্যবিধি, ১৯৬৭তে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। 
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এ কে ফজলুল আহাদ সমকালকে বলেন, 'বিএসটিআই নিজস্ব অনুসন্ধান টিমের মাধ্যমে বাজার থেকে পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। লাইসেন্স নেওয়ার পর কোম্পানিগুলো পণ্যের মান বজায় রাখছে কি-না, তা যাচাই করাই এর উদ্দেশ্য।' তিনি বলেন, 'কয়েকটি কোম্পানি লাইসেন্স নেওয়ার সময় যে মান ছিল, তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় উঠে এসেছে।' জনসাধারণকে সচেতনে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে কি-না_ জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, কোনো পণ্যের লাইসেন্স বাতিল হলে তার উৎপাদন বা বিপণন অবৈধ। এ ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল হলে স্বাভাবিকভাবে কোম্পানিগুলো বাজার থেকে পণ্য প্রত্যাহার করবে, এটাই প্রত্যাশিত।
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার মোয়াজ্জেম হোসেন সমকালকে বলেন, দেশের মানুষ পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে এমনিতেই বিভিন্ন রোগে ভুগছে। সেখানে খাদ্য মানহীন হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, বাড়ন্ত শিশুদের জন্য যারা মানহীন খাদ্য বাজারজাত করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, কোম্পানিগুলো খাদ্যের মান বজায় না রেখে এমনভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করে যেন শিশুরা প্রলুব্ধ হয়। 
ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিটকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সমকালকে বলেন, ভেজাল প্রতিরোধে যে আইন রয়েছে, তাতে ভেজালকারীদের প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভেজালকারীরা আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে সামান্য জরিমানা দিয়ে একই অপরাধ বারবার করছে। এ ছাড়া বিএসটিআই ভেজাল শনাক্তকরণে অনেক সময় ব্যর্থ হয়। মনজিল মোরসেদ জানান, হাইকোর্টের রায় অনুসারে সারাদেশে খাদ্য আদালত গঠনে ১৫ অক্টোবর সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 
অভিযুক্ত কোম্পানির বক্তব্য
প্রাণ গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, 'বিএসটিআই থেকে লাইসেন্স বাতিলসংক্রান্ত কোনো চিঠি বা নোটিশ পাইনি। মঙ্গলবার বিষয়টি আমরা শুনেছি।' তিনি বলেন, 'প্রাণ একটি ব্র্যান্ড। আমাদের ব্যাখ্যা করার সুযোগ না দিয়ে বিএসটিআই লাইসেন্স বাতিল করবে_ এটা হওয়ার কথা নয়।' 
মডার্ন হারবাল ফুড লিমিটেডের অ্যাডভাইজার তারিক বিন হোসেন সমকালকে বলেন, এটা বিএসটিআইয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। আমরা স্যাম্পল জমা দিয়েছি। দু-একদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, বাতিল হওয়া মডার্ন চাটনি অনেক আগেই বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই এ পণ্য বাতিল হলেও কিছু যায়-আসে না।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে