Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-১৫-২০১২

বছরে দেশ ছাড়ছে ৭০০ মেধাবী শিক্ষার্থী


	বছরে দেশ ছাড়ছে ৭০০ মেধাবী শিক্ষার্থী

মো. নুরুস সাফা চীনের হুয়োচোং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র। কিন্তু তা শেষ না করেই ক্রেডিট ট্রান্সফার করে ভর্তি হন হুয়োচোং বিশ্ববিদ্যালয়ে। নুরে আলম বর্ষণ পড়লেখা করছেন ইংল্যান্ডের লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্য শিখছেন ইংরেজি। এভাবে প্রতি বছর কমপক্ষে ৭০০ মেধাবী শিক্ষার্থী দেশ ছাড়ছেন। তাদের বেশির ভাগই দেশে ফিরছেন না। যারা দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্য যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই ইচ্ছা সংশ্লিষ্ট দেশে স্থায়ী হওয়া। মেধাবীদের দেশত্যাগ ও ফিরে না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসি চেয়ারম্যান মানবজমিনকে বলেছেন, চাকরি ও উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা না থাকায় এসব মেধাবী দেশ ছাড়ছেন। তাদের বেশির ভাগই দেশে ফিরছেন না। ইউজিসি ৩৭তম বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, দু’টি বিষয় উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দেশের সেরা সদ্য স্নাতক ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষার জন্য দেশত্যাগ করেছেন। তাদের বেশির ভাগেরই দেশে ফিরছে না। ফলে দেশ এসব মেধাবী তরুণদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং দেশে এমফিল এবং পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণার উৎকর্ষ সাধন ব্যাহত হচ্ছে। যদিও সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত কারিকুলাম উন্নতমানের কিন্তু কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ করে কতিপয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা স্নাতকদের শিক্ষাগতযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটছে। তবে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং, উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার উপর কমিশন গুরুত্বআরোপ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কারণ সম্পর্কে নুরুস সাফা বলেন, সেশন জটের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কোর্স শেষ হয় না। এছাড়া বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে। এখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই। যে কোন সময় আপনার বুকে গুলি লাগতে পারে। তিনি বলেন, আবু বকরের মতো ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মারা গেছে। তারপরও প্রশাসন হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ঢাবির শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছি। কিন্তু এখন স্বপ্ন হতাশায় পরিণত হয়েছে। আমি প্রতিনিয়ত এখন চাকরি নিয়ে ভাবি। ঢাবির সমাজবিজ্ঞান থেকে মাস্টার্স পাস করা ছাত্র মিকাইল হোসেন বলেন, আমি চাকরির জন্য প্রতিনিয়ত পরীক্ষা দিচ্ছি। কিন্তু আমার চাকরি হচ্ছে না। তিনি বলেন, চাকরি হচ্ছে কোটাওয়ালাদের এবং দুর্নীতিবাজদের। যারা পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস করে, ঘুষ দেয় তাদেরই কেবল চাকরি হচ্ছে। এখানে মেধাবীদের জায়গা নেই। মেধাবীদের দেশত্যাগ করা নিয়ে উচ্চশিক্ষা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউজিসি উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ঠিক কতজন শিক্ষার্থী দেশ ছাড়ছে তার সঠিক হিসাব নেই শিক্ষামন্ত্রণালয় বা ইউজিসির কাছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক যুগ থেকে এ হিসাব রাখা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, আগে হিসাব রাখা হতো। এ নিয়ে অবৈধ ব্যবসা গড়ে তোলে একটি সিন্ডিকেট। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র। ওই চক্রের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর কর্মকর্তাও জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানো ছাত্রছাত্রীদের হিসাব রাখে না শিক্ষামন্ত্রণালয়। ইউজিসির একটি সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর সরকারি পর্যায়ে প্রায় ২০০ ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী দেশ ছাড়ছেন উচ্চশিক্ষার জন্য। তাদের বেশির ভাগই দেশে ফিরে আসছে না। মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশ ছাড়ছেন শিক্ষকরাও। তারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গিয়ে আর দেশে ফিরছে না। এক অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা ১৮৯৯ জন। এর মধ্যে অনুমোদিতভাবে ছুটিতে আছেন ৬২৫ জন এবং অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত রয়েছেন ৭ জন। এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ১৪০ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়। যাদের বেশির ভাগই, ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জাপান, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়ে আর দেশে ফিরেননি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ১১৭৮ জন। এর মধ্যে ছুটিতে রয়েছেন ১৯৮ জন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ৫২৩ জন। এর মধ্যে অনুমতি নিয়ে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ১৭৭ জন এবং নিরুদ্দেশ আছেন ৪ জন। বুয়েটের মোট শিক্ষক ৬৪৯ জন। তার মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন ১৭৪ জন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ৫৮৭ জন। এর মধ্যে অনুমতি নিয়ে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ৮৪ জন এবং নিরুদ্দেশ আছেন ৩ জন। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও একই চিত্র। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকেই উপযুক্ত মনে করছেন না। তারা বিদেশ গিয়ে পড়ালেখা করছে। উন্নত জীবনের জন্য অনেকেই ফিরে আসছেন না। তিনি বলেন, তাদের ফিরে না আসার পেছনে কারণ হচ্ছে দেশে তাদের চাকরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নেই। ফলে তারা দেশে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী আরও বলেন, ভারত, চীন, জাপানসহ অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা ইউরোপ আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। কিন্তু চাকরি ও উন্নত জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় তারা দেশে ফিরছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে