Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯ , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৮-২০১২

আলিশান বাড়ি পাহারায় ৩৭ আনসার


	আলিশান বাড়ি পাহারায় ৩৭ আনসার

তানভীরের বাড়ি পাহারা দিচ্ছে ৩৭ জন আনসার। গতকাল তানভীরের শেওড়াপাড়ার ১৮৫/৫/এ নম্বরের আলিশান ভবনে গিয়ে দেখা যায় পুরো ভবনে কোন লোক নেই। তানভীরের  স্ত্রী হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম আছেন আত্মগোপনে। তাদের একমাত্র পুত্র আছে তার সঙ্গে। বাড়ির পাহারাদার আনসার নাজমুল জানান, মামলা হওয়ার পর থেকেই তানভীর মাহমুদ ও তার স্ত্রী জেসমিন ইসলাম শেওড়াপাড়ার ওই বাড়ি ছেড়েছেন। তারা কোথায় আছে বলতে পারেন না। তবে তানভীর মাহমুদের গ্রেপ্তারের খবর তিনি শুনেছেন হলমার্কের প্রধান কার্যালয়ের একজন পিওনের মাধ্যমে। ওই পিওন রাতে এসে খবর দিয়ে গেছে। বাড়ির সামনে বড় আকৃতির একটি খাঁচায় আছে একটি ব্রাজিলিয়ান ম্যাকাও ও চারটি ময়না পাখি। ৬ তলার পুরো ভবনের সব ক’টি ফ্লোরের দরজা-জানালা খোলা। বাড়ির নিচ তলায় কোন গাড়ি নেই। ওই ভবনের সামনে মূল সড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪০ কাঠা জায়গার ওপর টিনশেড গাড়ির গ্যারেজ। গ্যারেজে আছে ৯টি পাজেরো, ১২টি প্রাইভেটকারসহ কয়েকটি পিক-আপ ভ্যান। গ্যারেজের বিশাল গেট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে টিভিতে বাংলা সিনেমা উপভোগ করছে জনা বিশেক যুবক। তানভীরের পাশের বাড়ির লোকদের কাছে জানা গেল প্রায় বছর দুয়েক ধরে ওইসব যুবক চলাফেরা করে তানভীরের সঙ্গে। এরা সবাই ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। আগে এরা থাকতো হলমার্কের প্রধান কার্যালয়ে। মামলা হওয়ার পর থেকে আশ্রয় নিয়েছে বাড়ির সামনের গ্যারেজে। এখানেই থাকে সারা দিন রাত।
তানভীর মাহমুদের বাড়ির পাহারায় নিয়োজিত সশস্ত্র আনসাররা জানায়, এখানে তারা বাড়ির পাহারায় নিয়োজিত আছে ৩৭ জন। তাদের নিয়োগ করেছে সরকার, কিন্তু বেতন দেয় তানভীর  মাহমুদ।
১০৫/৪ রোকেয়া সরণিতে হলমার্কের প্রধান কার্যালয়ে এখন সুনসান নীরবতা। তিনজন পিওন পাহারা দিচ্ছে অফিস। কোন কর্মকর্তা অফিসে আসেন না মামলা দায়ের করার পর থেকে। একজন পিওন বলেন, এখন অফিসের কাজকর্ম হয় সাভারে। কারণে এখানে কেউ আসে না। গতকাল মিরপুর বর্ধন এলাকার আনন্দ নগরে হলমার্ক গ্রুপের জিএম তুষার আহমেদের বাড়িতে গিয়েও দেখা যায় কেউ বাড়িতে নেই। তুষার আহমেদের ভবনের এক ভাড়াটিয়া জানান, বাড়ির সকলে কোর্টে গিয়েছে তুষারের সঙ্গে দেখা করতে। হলমার্ক গ্রুপের চাকরিচ্যুত একজন জিএম বলেন, গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম আত্মগোপন করে আছেন মিরপুর এলাকাতেই। মামলা হওয়ার পরও তানভীর ও জেসমিন একসঙ্গে ছিলেন সাভারে। ৬ তারিখে তারা খবর পান তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। ওই খবর পেয়ে জেসমিন ইসলামকে গাড়ি করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার সঙ্গে আসেন তুষার আহমেদ। তানভীর একা থাকেন সাভারে। দিনের বেলাতেই তানভীর একটি ট্রলার ঠিক করে রাখেন যাতে অভিযান হলে পালাতে পারেন। রাতে র‌্যাবের অভিযান হলে নদীপথে পালিয়ে যান। আবার ভোর রাতে ফিরে আসেন ঢাকায়। সূত্র মতে, তানভীর ও তুষার শলাপরামর্শ করে ঊর্ধ্বতন ক্ষমতাধরদের সঙ্গে দেনদরবার করে বাইরে রাখার ব্যবস্থা করা হয় জেসমিন ইসলামকে। মামলার তদবির করতে টাকা ও যোগাযোগের প্রয়োজনে তাকে রাখা হয়নি তাদের সঙ্গে।
হলমার্কে প্রশাসক নিয়োগে সুপারিশ করবে সংসদীয় উপ-কমিটি: হলমার্ক গ্রুপের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত টাকা আদায়ে সুপারিশ করবে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় উপ-কমিটি। তারা মনে করছেন, তানভীরের যে সম্পত্তি আছে তা বিক্রি করেও ব্যাংকের পুরো টাকা আদায় সম্ভব হবে না। তাদের যে স্থাপনা ও কাঁচামাল রয়েছে তার একটি মূল্য রয়েছে। এগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে প্রশাসক নিয়োগ করে তা সচল করে টাকা আয় করে ঋণ সমন্বয় সম্ভব হতে পারে। এ কারণে সংসদীয় উপ-কমিটি মনে করে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, কিন্তু পাশাপাশি টাকাও উঠে আসুক। যে কোনভাবেই হোক হলমার্কের কাছ থেকে টাকাটা আদায় করাই প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া দরকার। এ কারণে সেখানে ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার থেকে প্রশাসক নিয়োগ করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখবে সংসদীয় উপ-কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম এমপি মানবজমিনকে বলেন, হলমার্ক টাকা না দেয়ার চেষ্টা করবে। এজন্য টাকা আদায়ের জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া যায় আমরা তা ভাবছি। নানা সূত্রে জানা গেছে, তানভীর ২০০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। সিঙ্গাপুরে রেখেছেন দু’টি ব্যাংকে। সেখানে তিনি দেশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নামেও টাকা জমা করেছেন। তিনি সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা পাচারের কথা স্বীকার করেননি। এদিকে তার টাকা পাচারের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা খতিয়ে দেখেছে। তিনি নামে-বেনামে কোন টাকা পাচার করেছেন কিনা, করলে কবে কত টাকা পাচার করেছেন- তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে। সংসদীয় উপ-কমিটির কাছে হলমার্কের এমডি তানভীর বলেছেন, যত টাকা ও সম্পদ তা দেশেই আছে। কোন টাকা বিদেশে তিনি পাচার করেননি। তবে তার নামে আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদের কোন হিসাব তানভীর উপ-কমিটিকে দিতে পারেননি। তার নগদ টাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সঠিক কোন অঙ্ক কমিটিকে বলতে পারেননি। এ কারণে কমিটি তার সম্পদের হিসাব চেয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়ায় তানভীরের সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া নিয়েও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তানভীরের সম্পদের হিসাব সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম বলেন, তানভীর সম্পদের যে হিসাব দিয়েছেন এবং যা মূল্য দেখিয়েছেন তা অবাস্তব। দুদকে তানভীর দাবি করেছিলেন, তিনি ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছেন এর বিশ গুণ সম্পত্তি তার রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর কমিটিও জানার চেষ্টা করছে। উপ-কমিটির প্রশ্নে তানভীর বলেছেন, এত টাকা ও সম্পদ তার নেই।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে