Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩০ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৮-২০১২

২৯ দিনের রিমান্ডে তানভীর


	২৯ দিনের রিমান্ডে তানভীর

হলমার্ক কেলেঙ্কারির মূল হোতা তানভীর মাহমুদকে চার মামলায় ২৯ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশন। একই সঙ্গে তার ভায়রা ও হলমার্ক গ্রুপের জিএম তুষার আহমেদকে ২৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে আসামিদের মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করে দুুদকের  তিন মামলায় ১০ দিন করে ৩০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। পাশাপাশি তানভীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলায় আরও ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা। পরে দুদকের তিন মামলায় মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহর আদালত আসামি তানভীর ও তুষারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিন করে ২৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে অস্ত্র মামলায় মহানগর হাকিম কেশব রায় তানভীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পল্লবী থানার ওসি মো. আবদুল লতিফ বলেন, অস্ত্র মামলার আসামি হিসাবে তানভীর মাহমুদকে আগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি কি উদ্দেশে অবৈধ অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন, কার কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন সে সম্পর্কে তথ্য আদায় করা হবে। এরপর অন্যান্য মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করবেন সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। দুদক কর্মকর্তারা জানান, অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তানভীরের ভায়রা তুষার আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পর্যায়ক্রমে তানভীরকেও দুদকের হেফাজতে নেয়া হবে। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, দুদকের ১১ মামলার প্রত্যেকটিতে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয় আদালতে। এর মধ্যে গতকাল তিনটি আবেদনের শুনানি হয়েছে। পরে আদালত এসব মামলার প্রত্যেকটিতে ৮ দিন করে ২৪ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। মামলাগুলো হচ্ছে- ৮, ৯ ও ১৭ নম্বর। এছাড়া, পল্লবী থানায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক। ওদিকে র‌্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় সাভার থানায় দায়ের করা অপর মামলায় আজ তানভীরকে শোন অ্যারেস্টসহ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করবেন থানার তদন্ত কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের ১৫৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৭ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তানভীর ও তার সহযোগীরা। এ অভিযোগে দুদক বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রমনা থানায় ১১টি মামলা করেছে। এসব মামলায় হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে ৭ জন হলমার্ক এবং বাকিরা সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা। অন্য আসামিরা হচ্ছে- তানভীরের স্ত্রী ও হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর, সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখার সাবেক ডিজিএম একেএম আজিজুর রহমান, সাইফুল হাসান, আবদুল মতিন, ব্যাংকের ডিএমডি কাজী ফখরুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, জিএম নওশের আলী খন্দকার, মাহবুবুল হক, আনম মাসরুরুল হুদা সিরাজী, মোস্তাফিজুর রহমান, ননী গোপাল নাথ ও মীর মহিদুর। মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছেন- দুদকের প্রধান অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী, উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভূঁইয়া, সহকারী পরিচালক মশিউর রহমান, নাজমুস সাদাত, উপ-সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান ও জয়নুল আবদীন। ১৮ থেকে ২০শে নভেম্বরের মধ্যে ওই ১১ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেয় আদালত।
ওদিকে মামলা হওয়ার পর থেকেই তানভীরকে গ্রেপ্তার করার জন্য র‌্যাব ও পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নামে। একপর্যায়ে সাভারের হেমায়েতপুরে তানভীরের আস্তানায় হানা দেয় র‌্যাব। তবে হলমার্কের ক্যাডার বাহিনীর নানা কৌশলের মুখে নদীপথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন তানভীর। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, পালানোর পর থেকেই প্রযুক্তির সহায়তায় তানভীরের অবস্থান ট্র্যাকিং করে শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের সহায়তায় তার গাড়ি বহর অনুসরণ করা হয়। একপর্যায়ে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তানভীর ও তার ভায়রা তুষার আহমেদ র‌্যাব ৪-এর হাতে ধরা পড়েন। পল্লবী থানাধীন ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর লেইনের সি ব্লকের ১২ নম্বর বাড়ির চার তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তারকালে তার হেফাজত থেকে ৫টি ব্ল্যাকবেরি ফোনসেট, একটি বিদেশী পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন এবং নগদ দুই লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তারের পরপরই তানভীর ও তুষারকে র‌্যাব ৪-এর কার্যালয়ে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গতকাল সকালে রমনা থানায় দায়ের করা দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুদক কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে দুদক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরেক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডের আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। দুদকের তদন্ত টিমের প্রধান মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, গতকালের জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন তানভীর। এর বাইরে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। যেসব তথ্য আগে দেননি। সাভার মডেল থানার এস আই সাজ্জাদ রুমন বলেন, সাভার হেমায়েতপুরে গ্রেপ্তার অভিযান চলাকালে তানভীরের ক্যাডার বাহিনী র‌্যাবের ওপর হামলা করেছিল। ওই অভিযোগে গতকালই মামলা হয়েছে। মামলায় তানভীর ও তুষার আহমেদসহ অজ্ঞাত আরও ৫০০-৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, দুদকের মামলার পর গত ৬ই অক্টোবর সাভারের হেমায়েতপুরের জনতা হাউজিংয়ে হলমার্ক গ্রুপে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে যায় র‌্যাব সদস্যরা। তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে হলমার্ক গ্রুপের অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ লোক লাঠিসোটা, দা, ছোরা ও হাঁসুয়া নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে র‌্যাবের এসআই কামাল হোসেন, প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) নুরুল আমিন ও হাবিলদার আবদুল হাই গুরুতর আহত হন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আনে।
সাভারে ২০ মামলা, ১৯ জিডি: এদিকে সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, হলমার্কের বিরুদ্ধে সর্বশেষ র‌্যাবের মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে গতকাল পর্যন্ত ২০টি মামলা ও ১৯টি সাধারণ ডায়েরি করেছেন প্রতারিত ও ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে কোর্টে দায়ের করা ৬টি পিটিশন মামলা রয়েছে।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে