Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯ , ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২৮-২০১২

৩১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে গ্রামীণফোন


	৩১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে গ্রামীণফোন

রেলওয়ে অপটিক্যাল ফাইবার লিজের বিপরীতে বিপুল অংকের ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে দেশের বৃহৎ সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসেবে, চাতুর্যের মাধ্যমে ফাঁকি দেয়া ওই অর্থের পরিমাণ মোট ৩০ কোটি ৯৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৮ টাকা। প্রাপ্য অর্থ আদায়ে দফায় দফায় নোটিশ দিয়েও দীর্ঘ সাত বছরের এই অর্থ আদায় করতে পারেনি এনবিআর।
সবশেষে ভ্যাট ফাঁকি নিয়ে এনবিআর এবং গ্রামীণফোনের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালতে। গত দুই বছর ধরে মামলাটি আদালতেই ঝুলে আছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ দিনেও এ বিষয়ের কোনো সমাধান না হওয়ায় ফের বিষয়টি চাঙ্গা করতে যাচ্ছে এনবিআর।
এনবিআর এর দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ফাঁকি দেয়া বিপুল অংকের মূল্য সংযোজিত এই কর আদায়ে সম্প্রতি কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
এ প্রসঙ্গে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, কর ফাঁকি বিষয়ে গত মঙ্গলবার গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে চালানের প্রয়োজনীয় দলিলাদি জমা দেয়ার কথা থাকলে তা জমা দেয়নি। এমনকি সময় বাড়ানোর কোনো আবেদনও করেনি।
তিনি বলেন, যদিও গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে দলিলাদি পাঠানো হয়েছে বলা হচ্ছে। তবে এখানো তা পাওয়া যায়নি। দলিলাদি পাওয়া গেলে পরবর্তীতে রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিসিও) কাজী মনিরুল বলেন, “আমি খোঁজ না নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারেছি  না।”
এসময় পুরো বিষয়টি তার কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাছাড়া এটি রেল কর্তৃপক্ষের ঘরোয়া সমস্যা এটি। আর সে কারণেই লিজ নবায়নের সময় রেল কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ায় এবং নিজেদের হিসাবের ভিত্তিতে টাকা দাবি করেন। ফলে আমরা আদালতে দ্বারস্থ হয়েছি।”
সূত্র মতে,  ১৯৯৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে ও গ্রামীণফোনের মধ্যে একটি  ভাড়া চুক্তি (লিজ এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মেয়াদকাল ছিল ২০০৪ পর্যন্ত। তখন চুক্তির ইজারা মূল্য ধরা হয় ১২৩ কোটি ৬৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৫৮ টাকা।
প্রসঙ্গত, ভাড়া ও লিজ নেয়া কার্যক্রম ইজারাদার সেবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মূসক আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী ইজারা মূল্যের ওপর মূসক আরোপযোগ্য। এছাড়া সাধারণ আদেশ নং- ২৩/মূসক/৯৭ অনুযায়ী সেবাটি যেহেতু উৎসে মূসকের তালিকাভুক্ত সেহেতু এই সেবার বিপরীতে ইজাদার মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে করসহ মোট ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৯ হাজার ৪৬৩ টাকা ভ্যাট আরোপ করা হয়।
আর যথাসময়ে ভ্যাট পরিশোধ না করায় মূসক আইনের ৩৭(৩) ধারা অনুযায়ী, মাসিক দুই শতাংশ হারে জরিমানা করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। সে হিসেবে গ্রামীণফোনের জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ কোটি ৪২ লাখ। আর ভ্যাট ফাঁকি দেয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৯৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৮ টাকা।
জানাগেছে, ফাঁকি দেয়া এই অর্থ পরিশোধ করতে ২০০৫ সালের ১৯ জুলাই গ্রামীণফোন বরাবর চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করে এনবিআর। কিন্তু দীর্ঘদিন্ওে পাওনা পরিশোধ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে উপরন্তু দাবিকৃত মূসক পরিশোধ করা হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেয় গ্রামীণফোন।
এরপর বিষয়টি প্রায় ধামা চাপা পরে যায়। অবশেষে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (ভ্যাট) থেকে উৎসে মূসক পরিশোধের প্রমাণাদি চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণফোন সাতটি চালানের মাধ্যমে ৩১ কোটি ৯৬ লাখ দেয়া হয়েছে বলে জানায়। এক্ষেত্রে পাওনার চাইতে ৯৯ লাখ ২৪ হাজার ৫৭৮ টাকা বেশি পরিশোধ করা হয়েছে দাবি করায় সন্দেহের সৃষ্টি হয় এনবিআর কর্মকর্তাদের।
পরবর্তীতে এনবিআর চালানগুলো বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, সাতটি চালানের মধ্যে দুইটি সাব লিজ সংক্রান্ত চালান। এছাড়া অপর পাঁচটি চালানের ভ্যাট পরিশোধের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। এনবিআরহর দাবিনামার বিপরীতে কোন চালান সংশ্লিষ্ট এবং সুদের ক্ষেত্র্রে কোন চালান প্রযোজ্য তারও উল্লেখ নেই। অথচ গ্রামীণফোন থেকে জানানো হয়েছে ওই সাতটি চালানের মাধ্যমে ভ্যাট পরিশোধ করা হয়।  
কিন্তু এই দাবির স্বপক্ষে কোনো দলিল খুঁজে পায়নি এনবিআর। ফলে চলতি বছরের ১৯ জুলাই এ বিষয়ে যথাযথ দালিলিক প্রমাণ পত্র রাজস্ব বোর্ডে জমা দেয়ার জন্য গ্রামীণ ফোনকে সাত দিনের সময় বেধে দিয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যাখা দেয়নি গ্রামীণফোন।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে