Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (107 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২৫-২০১২

সাইক্লোন শেল্টারে চলছে বরগুনা সরকারি কলেজের কাজ


	সাইক্লোন শেল্টারে চলছে বরগুনা সরকারি কলেজের কাজ

শিক্ষক সংকট, প্রশাসনিক ভবনসহ পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন না থাকা, অন্যান্য জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চলছে সাগর উপকূলীয় বরগুনা সরকারি কলেজ।
কলেজটির দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধান না হওয়ায় কলেজে বর্তমানে অধ্যয়নরত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে । হতাশায় ভুগছেন অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা মহল। শুধু তাই নয় বর্তমানে এ কলেজে কর্মরত শিক্ষকরাও রয়েছেন বিপাকে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বরগুনা সরকারি কলেজ। ১৯৮০ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়।
এরপর ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। বর্তমানে এ কলেজে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনাসহ ৭টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সাড়ে ৪ হাজার ছাত্রছাত্রী এ কলেজে অধ্যয়নরত। এ কলেজের সৃষ্ট পদ অনুযায়ী ৯জন সহযোগী অধ্যাপক থাকার কথা থাকলেও আছেন ৬ জন,
১৪ জন সহকারী অধ্যাপকের স্থলে আছেন ৭ জন, ২৩ জন প্রভাষকের স্থলে আছেন ১৫। মোট ৪৬টি পদের অনূকুলে শিক্ষক আছেন মাত্র ২৮ জন। বাকি ১৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
এছাড়া অফিসের ৬টি পদে আছেন মাত্র ২ জন, বাকি ৪টি পদ শূন্য রয়েছে। ৬টি পদের মধ্যে প্রধান সহকারী এবং ১ জন অফিস সহকারী আছেন। হিসাব রক্ষক, হিসাব সহকারী, ক্যাশিয়ার ও ১ জন অফিস সহকারীর পদ শূন্য।
অন্যদিকে, ২৫ জন এমএলএসএস পদের মধ্যে আছেন মাত্র ৯ জন।
কলেজের প্রধান সহকারী মো. ইসহাক মিয়া মন্টু জানান, ৭০ দশকে নির্মিত একটি সাইক্লোন শেল্টারে বর্তমানে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। তাও কাগজপত্র রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও নিরাপদ না। কলেজ প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছরেও একটি প্রশাসনিক ভবন হয়নি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে অফিসের ৪টি পদ ও ১৬ জন এমএলএসএসের পদ শূন্য থাকার কারণে খুবই সমস্যা হচ্ছে। নিয়মতান্ত্রিক ভাবে কোনো কাজ করা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, নিয়মানুযায়ী শিক্ষক না থাকার কারণে কলেজে ঠিকভাবে ক্লাস হয়না। যার কারণে ছাত্রছাত্রীরা আশানুরুপ ফলাফল থেকে পিছিয়ে পড়ছেন। শিক্ষকের অভাবে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় কলেজে আসা-যাওয়ার ইচ্ছে শক্তি হারিয়ে ফেলছেন অনেক ছাত্রছাত্রী।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র রিয়াজ আহম্মেদ মুসা জানান, এ বিভাগে মাত্র ২ জন শিক্ষক আছেন, বাকি ক্লাসগুলো নেন খণ্ডকালীন শিক্ষকরা। তাও আবার নিয়মিত না। যার কারণে বরগুনা সরকারি কলেজে শিক্ষার মান দিন দিন খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে।  এ কলেজ থেকে প্রথম বিভাগ পাওয়া আশা বাদ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সুরাইয়া ও সেলিনা আক্তার নামে দুই ছাত্রী জানান, কলেজে একদিকে শিক্ষক সংকট, অন্যদিকে পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন না থাকায় শ্রেণীকক্ষের সংখ্যা খুবই কম। তাছাড়া অনেক শ্রেণীকক্ষেই বৈদ্যুতিক পাখা নেই।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত কমনরুম না থাকার কারণে অবসর সময় বাইরে কাটাতে হয়। সব মিলিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজের বেহাল দশা।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মাইনুল ইসলাম জানান, প্রথম বর্ষের ক্লাস মোটামুটি হলেও দ্বিতীয় বর্ষ থেকে কোনো ক্লাস হয় না।
এরফলে সাগর উপকুলীয় জেলা বরগুনা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুযোগ পায় না ছাত্রছাত্রীরা। তাই এ সমস্যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন।
কলেজের প্রথম ভিপি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মনোয়ার জানান, বরগুনা সরকারি কলেজটি প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছর হলেও অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখনও চারপাশের বাউন্ডারি ওয়াল হয়নি। তাছাড়া সৌন্দর্য্য বর্ধনের মতো কলেজ ক্যাম্পাসে কিছুই নেই। শিক্ষক সংকটতো আছেই।
কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক লিয়াকত হোসেন জুয়েল জানান, তার বিভাগে ৪ জন শিক্ষকের জায়গায় আছেন মাত্র ২ জন। আর এ শিক্ষক সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে পাঠদান করা সম্ভব হয়না।
তিনি আরও জানান, বরগুনায় আলাদা কোনো পরীক্ষা কেন্দ্র না থাকার কারণে সরকারি কলেজটি এখন পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে কলেজের সরকারি বিভিন্ন বন্ধ নিয়ে অন্তত ৪ মাস ক্লাস বন্ধ থাকে। অন্যদিকে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগ পরীক্ষাসহ এসব পরীক্ষার কারণে আরও ৩-৪ মাস কলেজের ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। যার ফলে বছরে ৭/৮ মাস ক্লাস বন্ধ থাকে। এসব কারণে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় খুবই ক্ষতি হয়।
এ কলেজ থেকে সম্প্রতি চলে যাওয়া পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মো. সিরাজুম মনির জানান, অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় । তার পরও রয়েছে অফিসের কাজ ,বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। শ্রেণীকক্ষের অভাবে ক্লাস শেষ না হতেই অন্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এসে  কক্ষের সামনে ভিড় জমায় ।
এতে পাঠদানে ব্যাহত হয়, একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঢুকতে বেড়ুতে ১০/১৫ মিনিট সময় পার হয়ে যায়। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরা ।
কলেজের অধ্যক্ষ  প্রফেসর আ. কুদ্দুছ জানান, শিক্ষক সংকট, শ্রেণীকক্ষের অভাব, বাউন্ডারি ওয়াল, মিলনায়তনসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে কলেজটিতে। কলেজের  এ সমস্যা নিয়ে প্রতিনিয়ত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো  হয়েছে। এরপরও ২০১১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডে ১০ম স্থান অধিকার করেছে বরগুনা সরকারি কলেজ ।
তবে অধ্যক্ষ কলেজের উন্নয়নের ব্যাপারে আশার বাণী হিসেবে জানান, দেশের ৭০টি কলেজের ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ রয়েছে।
এ বরাদ্দে প্রায় ১৩ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হবে। যার অংশ হিসেবে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রী হোস্টেল এর কাজ চলছে।

বরগুনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে