Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২২-২০১১

অযত্নে গাদ্দাফির লাশ, দাফন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব

অযত্নে গাদ্দাফির লাশ, দাফন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব
লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির লাশ দাফন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার। লাশ কীভাবে দাফন করা হবে, এ নিয়ে তারা এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি কোথায় লাশ দাফন করা হবে, এ নিয়েও রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। অন্তর্বর্তী সরকারের তেলমন্ত্রী আলী তারহুনি গতকাল শুক্রবার বলেন, দাফনের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
নিহত হওয়ার পর গাদ্দাফির লাশ মিসরাতায় নেওয়ার পর সেখানে একটি হিমঘরে অযত্ন-অবহেলায় রাখা হয়েছে। লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার জন্মস্থান সিরত শহরে গাদ্দাফিকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তিনি ?ক্রসফায়ারে? নিহত হন।
নিহত হওয়ার পর বলা হয়েছিল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাদ্দাফির লাশ দাফনের পরিকল্পনা করছে অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ। গতকাল লিবিয়ার ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) বাহিনীর একজন কমান্ডার বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গাদ্দাফির লাশ দাফন করা হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ কেউ মনে করেন, লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত বিষয়ে আরও কয়েক দিন দেরি হতে পারে।
মিসরাতা থেকে এনটিসির কমান্ডার আবদুল সালাম এলেইওয়া বলেন, ?তিনি (গাদ্দাফি) যেকোনো মুসলমানের মতো সমান অধিকার পাবেন। তাঁর লাশ ধোয়া হবে এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হবে। আশা করছি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কোনো কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হবে।?
মিসরাতার পুরান বাজার এলাকার একটি বড় হিমঘরে অযত্নে গাদ্দাফির লাশ রাখা হয়েছে। ওই হিমঘরে একসময় মাংসসহ অন্যান্য পণ্য রাখা হতো। সেখানে তোশকের ওপর লাশ ফেলে রাখা হয়েছে।
লিবিয়ার সাবেক এই লৌহমানবকে কোথায় সমাহিত করা হবে, এ নিয়ে গতকাল এনটিসি ও মিসরাতার যোদ্ধাদের মধ্যে মতবিরোধ লক্ষ করা গেছে। কমান্ডার আবদুল সালাম এলেইওয়া বলেন, তিনি জানেন না, গাদ্দাফির লাশ কখন কোথায় দাফন করা হবে।
গাদ্দাফির দাফনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের মতামত থাকা উচিত?মিসরাতার যোদ্ধারা এটা মনে করছে কি না, তা-ও পরিষ্কার নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, ?তাঁরা লাশ দাফনের স্থান নিয়ে একমত হতে পারছেন না।? এ কর্মকর্তা বলেন, ?ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী গাদ্দাফিকে দ্রুত দাফন করা উচিত। কিন্তু তাঁর লাশ মিসরাতা, সিরত নাকি অন্য কোথাও দাফন করা হবে, এ নিয়ে তাঁরা এখনো মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি।?
লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের তেলমন্ত্রী আলী তারহুনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, গাদ্দাফির লাশ এখনই দাফনের জন্য দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, দাফনের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। লাশ কয়েক দিন হিমঘরেই রাখা হবে, যাতে সবাই নিশ্চিত হন, গাদ্দাফি আসলেই মারা গেছেন। দাফনের স্থানসহ দাফন-প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তেলমন্ত্রী বলেন, এখনো এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তথ্যমন্ত্রী মাহমুদ শামামও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, গাদ্দাফির লাশ দাফনের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া লাশ মিসরাতায় রাখা হবে কি না, সে ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংবাদদাতারা বলেন, গাদ্দাফিকে দাফনের ব্যাপারে এনটিসির নেতাদের অতিসতর্ক মনে হচ্ছে। তাঁরা চান না, গাদ্দাফির সমাধি তাঁর অনুগতদের সমবেত হওয়ার স্থান বা স্মৃতিসৌধে পরিণত হোক।
গাদ্দাফির নিহত হওয়ার কথা ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এনটিসির কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ময়নাতদন্তের পর লাশ অজ্ঞাত স্থানে দাফন করা হবে।
এদিকে গাদ্দাফির দাফনের ব্যাপারে তাঁর নিজ গোত্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে গাদ্দাফিবিরোধী যোদ্ধারা। গতকাল এনটিসির একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এ কথা বলেন।
কমান্ডার আবদুল মাজিদ এমলেগটা রয়টার্সকে বলেন, যদি গাদ্দাফির গোত্র গাদ্দাদফারের সদস্যরা তাঁকে আত্মীয় হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে লাশটি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। গাদ্দাফির লাশ গোপন স্থানে দাফন করার দায়িত্ব দেওয়া হবে তাদের। তিনি বলেন, যদি গোত্রের সদস্যরা গাদ্দাফির লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, সে ক্ষেত্রে এনটিসির যোদ্ধারাই তাঁকে দাফন করবে।
ত্রিপোলি থেকে সংবাদদাতারা বলছেন, এ রকম অনুমান করা হচ্ছে, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মতো গাদ্দাফির লাশও শেষ পর্যন্ত সাগরে সমাহিত করা হতে পারে, যাতে তাঁর কবর তাঁর অনুগতদের জন্য কোনো স্মৃতিসৌধে পরিণত না হয়।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে