Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ , ৪ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (56 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২৫-২০১২

শূন্যপদে ফরিদপুরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: রোগী ছোটেন মূল শহরে!


	শূন্যপদে ফরিদপুরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: রোগী ছোটেন মূল শহরে!

ফরিদপুর জেলায় মোট ৯টি উপজেলা। এর মধ্যে সদর উপজেলা বাদ দিয়ে বাকি ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দশা করুণ। এর মধ্যে আবার একটি উপজেলা সালথা নতুন গঠিত হওয়ায় সেখানে কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই।
বাকি ৭টির কোনোটি ৩১ শয্যার, কোনোটি আবার ৫০ শয্যার। কিন্তু, সেগুলোর অবস্থা এতই নাজুক যে, অবকাঠামো আছে তো চিকিৎসক নেই, চিকিৎসক আছে তো সেবা নেই। ফলে, রোগীরা ছোটেন মূল শহর ফরিদপুরে। সেখানে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কিংবা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:
চরভদ্রাসন: চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান জানালেন, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন চিকিৎসকের পদের মধ্যে ৩টিই শূন্য।
এ উপজেলাটি জেলার সবচেয়ে ছোট উপজেলা ও সড়ক দূর্ঘটনা কম থাকায় এখানে চিকিৎসা সেবা দিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আরএমও, ডেন্টাল সার্জন ও মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়।

সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:
সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদ হাসান বলেন, “২০১২ সালের প্রথম দিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়, এ সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
এখানে ১৮টি চিকিৎসকের পদের মধ্যে ১০টি পদই শূন্য। রিটেনশন অর্ডার না হওয়ায় প্রয়োজনীয় লোকবল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে থেকে ভালো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি”

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:
ফরিদপুর জেলার মধ্যে ভাঙ্গা সবচেয়ে সড়ক দূর্ঘটনাপ্রবণ উপজেলা। ১৯৯৭ সালে এখানকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়।
এখানেও ২৮টি পদের মধ্যে কনসালট্যান্ট, মেডিসিন, চক্ষু, শিশু, সার্জারিসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমরান আলী জানালেন, ‘৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ৪০/৪৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন।”

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:
নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা বিশিষ্ট। এখানে ২০টি পদের মধ্যে ১৬টিই শূন্য রয়েছে। নামমাত্র ৪ জন লোকবল নিয়ে চলছে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সে কারণে কোনো রকমে চলছে এর স্বাস্থ্য সেবা। এ উপজেলার অধিকাংশ রোগীই এখানে না এসে ফরিদপুর শহরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন।
প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানালেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুনীল কুমার।  

মধুখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:
মধুখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যার। এর মধ্যে আরএমও এবং ডেন্টাল সার্জন বাদে ৯ পদের বাকি ৭টি পদই শূন্য।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর শুকুর বলেন, “চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের কী করার আছে! ”
তিনি বলেন, “লোকবল না থাকলে আমরা কী করতে পারি? যতটুকু সম্ভব, সবটুকু দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

আলফাডাঙ্গা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:
বছর দুই আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
চিকিৎসকের ৯টি পদের ৫টিই শূন্য বলে জানালেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন।

বোয়ালমারী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:
বোয়ালমারী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব মিলিয়ে ৩১টি পদ থাকলেও এর ২১টি পদই শূন্য।
৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গড় রোগীর সংখ্যা ৬০/৭০ জন। অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো লোকবলের অভাবে এখানকারও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সহীন সালথা উপজেলা:
সালথা নতুন উপজেলা হওয়ায় এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি। সে কারণে স্থানীয় রোগীদের কোনো কিছু হলে ছুটে যান ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল কিংবা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে।
ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর বেহাল দশা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন সিরাজুল হক তালুকদার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর লোকবলের অভাবের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমি প্রায় প্রতি মাসেই আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়গুলো জানাচ্ছি। চেষ্টা করছি, যেন শূন্যপদগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া যায়!”

ফরিদপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে