Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৬ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২১-২০১২

মোদাচ্ছেরকে জিজ্ঞাসাবাদ, দায় স্বীকার করলেন ম্যানেজার


	মোদাচ্ছেরকে জিজ্ঞাসাবাদ, দায় স্বীকার করলেন ম্যানেজার

হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সোনালী ব্যাংকের দুই হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক একেএম আজিজুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতিতে সহযোগিতা করেছেন। অন্যদিকে হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীকে। অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় উপকমিটির জেরার মুখে গতকাল দায় স্বীকার করেন আজিজুর রহমান। বৈঠকে আজিজুর রহমানসহ সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইনুল হক ও আতিকুর রহমানকে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। উপকমিটির আহ্বায়ক তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য একেএম মাঈদুল ইসলাম, এমএ মান্নান ও গোলাম দস্তগীর গাজী। বৈঠক শেষে তাজুল ইসলাম বলেন, আজিজুর রহমান প্রথম দিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষে দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে তিনি হলমার্ক গ্রুপকে ঋণ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করেননি। হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওএসডিকৃত দুই ডিএমডি ছাড়াও আরও তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত কমিটি সংসদ ভবনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই সময়ে ওইসব কর্মকর্তা তাদের নির্দোষ দাবি করেন। তারা পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। সব কর্মকর্তা তাদের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কোন কোন কর্মকর্তার যোগসাজশে ঘটনা ঘটেছে এরও বিবরণ দেন। এর স্বপক্ষে তারা নথিপত্রও সেখানে উপস্থাপন করেন। সাবেক এমডি হুমায়ুন কবীর ডিএমডি আতিকুর রহমান এই ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেন। তবে তারা ওপরের চাপ থাকার বিষয়টি কমিটিকে জানিয়েছেন। অপর ডিএমডি মাইনুল হকও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তারা কমিটিকে জানান, পরিচালনা পর্ষদ টাকা দেয়ার বিষয়টি জানতেন এবং তারা বড় অঙ্কের ঋণে অনুমোদনও করেছেন। তাদের তিনজন ছাড়াও আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় হোটেল রূপসী বাংলা শাখার ডিজিএম আজিজুর রহমান, এজিএম সাইফুল হাসান ও অপর এক কর্মকর্তা মতিনকে। জিজ্ঞাসাবাদকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সদস্য ও সংসদীয় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম-এর নেতৃত্ব দেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির অফিসের মিটিং রুমে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর আগে ব্যাংকের বর্তমান এমডি প্রদীপ কুমার দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কমিটি। এ নিয়ে সংসদীয় তদন্ত কমিটি মোট সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রধান তাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এই পর্যন্ত সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত চলছে। সূত্র জানায়, সাবেক এমডি হুমায়ুন কবীর জিজ্ঞাসাবাদে হলমার্কের কেলেঙ্কারির সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তবে উপর মহলের চাপ থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করা ছাড়াও হলমার্কের কাছ থেকে কোন সুবিধা নেয়ার কথাও অস্বীকার করেন। তিনি তার স্বপক্ষে বিভিন্ন নথিপত্র সেখানে জমা দেন। ডিএমডি আতিকুর রহমানও নথিপত্র জমা দেন। তবে সূত্র জানায়, আতিকুর রহমান অস্বীকার করলেও অপর এক কর্মকর্তা যে সব নথিপত্র জমা দেন সেখানে আতিকুর রহমানের স্বাক্ষর করা কাগজ রয়েছে।
ডিএমডি মাইনুল হকও তার স্বপক্ষে নথি জমা দেন এবং ঘটনার পুরো বিবরণী জমা দেন। একজন ডিএমডি তাদের জানান, হলমার্ক সোনালী ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে তা কেবল এই সরকারের আমলে শুরু হয়নি ২০০৮ সাল থেকে তারা বড় অঙ্কের ঋণ নিতে শুরু করেছে। ওই সময় থেকে ঋণ দেয়া হলেও ২০১২ সালের আগে বিষয়টি ধরা পড়েনি। কেবল তাই নয়, সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিস, আগারগাঁও, গুলশান শাখা ও রূপসী বাংলা হোটেল শাখায় দিনের পর দিন এভাবে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। তারপরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে আরও জানিয়েছেন, তিনি যেই সময়ে ব্যাংকে এসেছেন এরপর অদ্যাবধি কোন ঋণের অনুদানের কাগজে স্বাক্ষর করেননি। তিনি সোনালী ব্যাংকের নন। রূপালী ব্যাংক থেকে এসে ডিএমডি হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তিনি সেখানে যোগ দেয়ার পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান ছাড়াও অনেকেই তাকে মেনে নিতে পারেননি। আর এ কারণে তিনি দূরত্ব্ব বজায় রেখে চলতেন। অনেক কাজ তাকে জানানোর প্রয়োজন হলেও জানানো হতো না। তার কাছ থেকে গোপন করা হতো।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি যথা সময়ে তদন্ত না করার কারণে হলমার্কসহ অন্যান্য গ্রুপের অর্থ আত্মসাৎ করার ঘটনাটি আগে প্রকাশিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও তা হয়নি। তার এই ব্যর্থতার কারণ জানাতে গিয়ে ব্যাখ্যায় তিনি তাদেরকে বলেন, তিনি তার দায়িত্বে কোন অবহেলা করেননি। তিনি চলতি বছর ২৬শে জানুয়ারি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি পেয়েছেন। যেখানে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিস, গুলশান ব্রাঞ্চ ও রূপসী বাংলা শাখা পরিদর্শ করানোর নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি ওই চিঠি পাওয়ার পর ওই হিসেবেই কাজ করেন। কিন্তু এমডির চিঠির পর পরই এমডির নির্দেশে আবার এমডি আরেক কর্মকর্তাকে দিয়ে আরও একটি চিঠি ইস্যু করান। ওই চিঠি ইস্যু হয় ১লা এপ্রিল ২০১২ তারিখ। ওই চিঠিতে ৪ঠা এপ্রিল থেকে রূপসী বাংলা হোটেল শাখা পরিদর্শন করানো জন্য বলা হয়। ওই চিঠির কপি এমডির দপ্তর ও ওই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ডিএমডি মাইনুল হককে দেনননি বলে অভিযোগ করেন ওই চিঠির কপি তাকে দেয়া হয়নি। এমডি’র (কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ক্রমে) নাম করেই পরের চিঠিটি ইস্যু হয়েছে। ওই চিঠির কপিও সেখানে দাখিল করেন। তিনি নিজেও তদন্ত করার একটি চিঠি দেন বলে কমিটিকে জানান। সেখানে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেয়ার কথা বলেন। তিনি কমিটির কাছে দাবি করেন, তিনিই সোনালী ব্যাংকের টাকা হলমার্কের আত্মসাৎ করার ঘটনা প্রথম উদঘাটন করেন। তার কারণেই আজকে সবাই ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। তিনি তার প্রতি দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তিনি হলমার্কের ঋণ অনুমোদন হওয়ার সময়ে ছিলেন না, তাও তুলে ধরেন। তিনি হলমার্কের সংশ্লিষ্ট অনেক নথি কমিটির কাছে উপস্থাপন করেন। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন।
হলমার্ক কেলেঙ্কারি: স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদ
হলমার্ক কেলেঙ্কারির বিষয় জানতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদকের একটি টিম। গতকাল সকালে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের বাইরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর বাসায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। উপদেষ্টাকে কোন জায়গায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তা প্রকাশ করেননি দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা, তবে ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। জানা গেছে, হলমার্কের ঋণ পাইয়ে দিতে সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর সংশ্লিষ্টতার কথা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে