Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২১-২০১২

বিশ্বব্যাংকের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বাংলাদেশ


	বিশ্বব্যাংকের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ফিরছেই। এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দু’-একদিনের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি খোলাসা হবে। সরকারি বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে এমনটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল কয়েক দফা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। বিষয়টি গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদমূলক তথ্য জানান। একই সঙ্গে গওহর রিজভীর সঙ্গে তার কথোপকথনের বিষয়টিও জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও কথা বলার সময় আসেনি। তাই আশা করছি সবাই এ ব্যাপারে চুপচাপ থাকবো। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, পদ্মা নিয়ে আলোচনা চলছে, সরকার আশাবাদী। দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঘোষণা আসছে যে কোন মুহূর্তে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, পদ্মা প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে যে কোন মুহূর্তে এ ব্যাপারে ঘোষণা আসবে। তারা এ ব্যাপারে ঘোষণা দেয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে আমরা ঘোষণা দেবো। ওদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের। গতকাল একটি অনলাইন বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাইকা, এডিবিসহ অন্য দাতাদের সবাইকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন তারা। আশা করছি, সহসাই বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। আকরামুল কাদের বলেন, গওহর রিজভী সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তার। বিশ্বব্যাংক নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সরকার পক্ষে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বর্তমানে ওয়াশিংটনে আছেন। এর আগে গত বুধবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইনসহ কয়েক জন শীর্ষ কর্মকর্তা বৈঠকে অংশ নেন। এ বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের একজন উপদেষ্টা ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখান থেকে ইতিবাচক একটি খবর আমাদের কাছে এসেছে। আশা করছি, বিশ্বব্যাংক দু’একদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার চুক্তি স্থগিত করে। এরপর চারটি শর্ত দিয়ে তা পালিত হয়নি জানিয়ে গত ২৯শে জুন ঋণচুক্তি বাতিল করে সংস্থাটি। ফলে এ প্রকল্পের অপর ঋণদাতা এডিবির ৬১ কোটি ৫০ লাখ, জাইকার ৪০  কোটি এবং আইডিবি ১৪ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতিও আটকে যায়। তবে সরকারের অনুরোধে এডিবি ও জাইকা তাদের ঋণচুক্তির মেয়াদ দু’দফা বাড়ায়। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংককে ফেরাতে সরকারের নানা উদ্যোগ চলতে থাকে। গতকাল মসিউর রহমানকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পদ্মা  সেতুসহ সরকারের কোন আর্থিক বিষয়ে মসিউর রহমানের কোন সম্পৃক্ততা থাকবে না। সমঝোতার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংককেও কিছু ছাড় দিতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রথমে বলেছিল, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা বিষয়টি বার বার অস্বীকার করে তাদের কাছে তুলে ধরার পর তারা এখন সম্ভাব্য দুর্নীতির কথা বলছে। আমাদেরও কিছু বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ওদিকে গত ২৯শে জুন এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সরকারি উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানায়। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে দু’টি তদন্তের তথ্য প্রমাণ প্রদানের কথা জানিয়ে বিশ্বব্যাংক বিষয়টির পুনঃতদন্ত ও দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেছিল। বিশ্বব্যাংকের প্রদত্ত তথ্যপ্রমাণের যথার্থতা প্রমাণিত না হওয়ার পরও সরকার তাদের শর্তসমূহ পূরণ করে। সেতু বিভাগের সচিবকে ছুটিতে দেয়া, পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালককে অপসারণ, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগের পরও বিশ্বব্যাংক নমনীয় হয়নি। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। বিশ্বব্যাংক তার অপসারণ বা পদত্যাগ চেয়েছিল। ড. মসিউর ছুটতে যাওয়ার কথা স্বীকার করেননি। পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে তাকে সরিয়ে আনার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা বিশ্বব্যাংককে জানানো হয়েছে। ড. মসিউরকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে সম্পৃক্ত না রাখাসহ বিশ্বব্যাংকের চারটি শর্তের সবগুলোই পূরণ করার কথা বিশ্বব্যাংককে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক তার পূর্ববর্তী অনড় মনোভাব থেকে সরে আসছে বলে ঢাকায় অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অপর দুই ঋণদাতা জাইকা ও এডিবি ঋণ চুক্তির কার্যকারিতার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়েছিল। জাইকার সময়সীমা গত ১৯শে সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। মেয়াদ আর না বাড়ানোর কথা এখনও বলেনি জাইকা। অর্থ বিভাগ জাইকা ও এডিবির কাছে মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এক মাস বর্ধিত সময়ও ২৭শে সেপ্টেম্বর শেষ হবে। বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে এডিবি ও জাইকা। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে আজ ২১শে সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পে নতুন ঋণচুক্তি করার ঘোষণা আশা করছে অর্থ বিভাগ। বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. তারেক অর্থ বিভাগকে এ রকম আশার কথাই শুনিয়েছেন বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়। এদিকে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি সম্পাদন করলেও এ সরকারের মেয়াদে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। চুক্তি সম্পাদনের আগে বিশ্বব্যাংক  বাংলাদেশে রিভিউ মিশন পাঠাবে। সরকার তাদের শর্তসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করেছে কিনা তারা সরজমিন যাচাই করবেন। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর ইনটিগ্রিটি ডিপার্টমেন্টের মতামতের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক নতুন করে ঋণচুক্তি করবে। প্রাক-যোগ্য ঠিকাদার ও কনসালট্যান্ট নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান, দরপত্র বাছাই, মূল্যায়ন, নির্বাচন ও বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। প্রাক-যোগ্য ঠিকাদার ও কনসালট্যান্ট নিয়োগের পর প্রাক-যোগ্যদের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে ঠিকাদার নিয়োগ করতে হবে। দ্রুততার সঙ্গে এ কাজসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য কাজ সারতে কমপক্ষে দেড় বছর দরকার। নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে পদ্মার দু’প্রান্ত থেকে একযোগে নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা সরকারের। বিশ্বব্যাংকের দিক থেকে আন্তরিক সহযোগিতা পেলে অন্তত কয়েকটি পিলার নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব। কিন্তু প্রকল্পের পরবর্তী কোন পর্যায়ে বিশ্বব্যাংক নতুন করে কোন শর্ত আরোপ করতে পারে। তাতে সেতুর নির্মাণ কাজ আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। এমন কিছু ভীতিও সরকারের উচ্চতর পর্যায়ে কাজ করছে। তবে বিশ্বব্যাংককে এ প্রকল্পে ফিরিয়ে আনতে পারলে তা-ই রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে সরকার।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে