Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (18 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২১-২০১২

রায় পক্ষপাতদুষ্ট অগ্রহণযোগ্য অকার্যকর


	রায় পক্ষপাতদুষ্ট অগ্রহণযোগ্য অকার্যকর

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে উচ্চ আদালতের দেয়া রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট, অগ্রহণযোগ্য এবং অকার্যকর বলে দাবি করেছেন বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। বলেছেন, অবসরে যাওয়ার পর বিচারকরা শপথের অধীনে থাকেন না। তাই তারা বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা বা রায় লিখতে পারেন না। ১৬ মাস আগে অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক তা-ই করেছেন। ফলে যৌক্তিক কারণেই এ রায় পক্ষপাতদুষ্ট ও অগ্রহণযোগ্য। প্রকাশ্য আদালতে ঘোষিত সংক্ষিপ্ত রায়ের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের মিল নেই। পূর্ণাঙ্গ রায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের হুবহু প্রতিধ্বনি। সাবেক প্রধান বিচারপতির এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ একটি মারাত্মক বিচারিক অসদাচরণ। আমরা তার এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া বলেন, নৈতিকতাবিরোধী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই রায়  যৌক্তিক কারণেই অকার্যকর। এর ফলে দেশে অনভিপ্রেত অস্থিরতা সৃষ্টি হবে এবং রাজনৈতিক সঙ্কট আরও বাড়বে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক ও পরস্পরবিরোধী এ রায় জনগণ গ্রহণ করবে না। তার ভিত্তিতে আয়োজিত কোন নির্বাচনেও অংশ নেবে না। এমনকি নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন এসব কথা বলেন।
বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া বলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন বা বাতিলের ব্যাপারে আগে কোন কথা বলেনি। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও এ সম্পর্কে কোন কথা নেই। এমন কি সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার সুপারিশ করেছে। একই ভাবে সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু সরকার জনপ্রিয়তা হারিয়ে নির্বাচনে পরাজয়ের বিষয়টি বুঝতে পেরেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলা শুরু করে। অন্যদিকে সেই সময় নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক হঠাৎ করে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে বহু আগের এক রিট মামলা আপিল শুনানির জন্য নেন। বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আদালতের বন্ধু হিসাবে যে ৮ জন সিনিয়র আইনজীবীকে মতামত দিতে ডাকা হয়েছিল। তাদের ৭ জনই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। তারপরও খায়রুল হক গত বছর ১৭ই মে অবসরে যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে এক সংক্ষিপ্ত রায় দেন। এটি ছিল একটি বিভক্ত রায়। তিনি প্রকাশ্য আদালতে যে সংক্ষিপ্ত ও বিভক্ত রায় ঘোষণা করেছেন তার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের সুস্পষ্ট পার্থক্য অভূতপূর্ব এবং বিচারিক অসদাচরণ।
খালেদা জিয়া দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অবসরে যাওয়ার পর বিচারকরা শপথের অধীন না থাকায় আদালতে বসতে, শুনানি করতে বা মামলার রায় লিখতে পারেন না। কিন্তু বিচারপতি খায়রুল হক তাই করেছেন। ফলে এই রায় যৌক্তিক কারণেই পক্ষপাতদুষ্ট, অগ্রহণযোগ্য ও বাতিলযোগ্য।  সংক্ষিপ্ত রায়ে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন- ‘জাতীয় সংসদের ১০ ও ১১ জাতীয় নির্বাচন ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধানসমূহের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। যা অন্যবিধভাবে বৈধ নয়- প্রয়োজনের কারণে বৈধ। জনগণের নিরাপত্তার জন্য-যা সর্বোচ্চ আইন এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য- যা সর্বোচ্চ আইন।’ ঐ রায়ে আরও বলা হয়েছিল- ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে সাবেক প্রধান বিচারপতি অথবা আপিল বিভাগের কোন বিচারপতিকে নিয়োগ দেয়ার বিধানটি বাদ দেয়ার জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে সংসদ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’ অথচ, পূর্ণাঙ্গ রায়ে খায়রুল হক তারই ঘোষিত রায় থেকে সরে গেছেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তাব করেছেন। প্রকাশ্য আদালতে ঘোষিত সংক্ষিপ্ত রায় এবং পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমন গরমিল নজিরবিহীন। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূরণের জন্যই ঘটানো হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। খালেদা জিয়া বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে নির্দেশনা দিয়েছেন-তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের হুবহু প্রতিধ্বনি। সাবেক প্রধান বিচারপতির এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ একটি মারাত্মক বিচারিক অসদাচরণ। এই মন্দ দৃষ্টান্ত দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শুধু নয়- গোটা দেশ ও দেশের জনগণকে হেয় করবে।
বিরোধী নেতা বলেন, খায়রুল হক নিজেই বলেছেন, ২০১২ সালের ২৯শে মার্চ তিনি তার লেখা রায় সই করে জমা দিয়েছেন। পরিবর্তন ও পরিমার্জনের জন্য তিনি সেই রায় ফেরত নিয়ে কয়েক মাস পরে আবার জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ একই রায় তিনি ২ বার লিখেছেন এবং ২ বার দস্তখত করেছেন। নতুন রায়ের বিভিন্ন প্রস্তাবে ক্ষমতাসীন সরকারের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। তার এই আচরণ একেবারেই বিচারকসুলভ নয়। ফলে অনিবার্যভাবেই এই রায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর জবাব দেয়ার নৈতিক দায়িত্ব সাবেক প্রধান বিচারপতির। খালেদা জিয়া বলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ের অসঙ্গতির কথা উল্লেখ ও দ্বিমত পোষণ করে বিচারপতি আবদুল ওয়াহাব মিয়া আলাদা রায় দিয়েছেন। আরেক বিচারপতি  নাজমুন আরা সুলতানা তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। অন্যদিকে পূর্ণাঙ্গ রায়ের ‘পরিবর্তন-পরিমার্জনের’ বিষয়টিকে  প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক ‘বিশ্রীরকম ভুল ও অসদাচরণ’ এবং বার কাউন্সিলের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ‘সরাসরি প্রতারণা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপরিচালনা বন্ধ করার উদ্দেশে যেখানে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়েছে সেখানে ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রস্তাব করা হয়েছে উল্টো। বলা হয়েছে- ক্ষমতাসীন সরকারই সংক্ষিপ্তাকারে নতুন নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ করা পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। যদিও রায়ের অন্য অংশে নির্বাচনের ৪২ দিন আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সংসদ বহাল না থাকলে কেউই নির্বাচিত থাকেন না। তাহলে ওই ৪২ দিন অর্থাৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, নির্বাচনের সময় এবং নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করা পর্যন্ত অনির্বাচিত ব্যক্তিরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন কোন যুক্তিতে? খালেদা জিয়া বলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ে সংসদের মেয়াদ পূর্ণের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান থাকলেও পূর্ণাঙ্গ রায়ে তা পরিবর্তন করে নির্বাচনের ৪২ দিন আগে সংসদ ভাঙার কথা বলা হয়েছে। যা সরকারি ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই করা হয়েছে।
সরকারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ে উল্লিখিত ‘প্রয়োজনের কারণে বৈধ এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থ-যা সর্বোচ্চ আইন’ তা রক্ষার কোন তাগিদ ক্ষমতাসীন সরকার অনুভব করেনি। দেশের রাজনৈতিক দল, সরকারের শরিক, সুশীল সমাজ ও পেশাজীবীদের আপত্তি গ্রাহ্য করেনি। বাকশাল কায়েমের মতো দ্রুততার সঙ্গে সংবিধানের ১৫ সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। দলীয় সরকার এবং বর্তমান সংসদ বহাল রেখে তার অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অগণতান্ত্রিক আইন পাস করেছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন চলছে। ক্রমান্বয়ে তা তীব্রতর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারকে তাদের অনৈতিক ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার হিসেবে নতুন করে লেখা এই রায় উপহার দেয়া হলো। একই সঙ্গে সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী অপ্রাসঙ্গিক হওয়া সত্ত্বেও এই রায়ে অবৈধ ফখরুদ্দীন সরকারকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। যা এই রায়কে রাজনীতিককরণের আর একটি দৃষ্টান্ত। জাতির দুর্ভাগ্য যে, দলীয় স্বার্থে বিচার বিভাগকে ব্যবহারের এমন নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত তাদের প্রত্যক্ষ করতে হলো।
খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ পানির অভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত। ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ গুম হওয়া কারও কোন সন্ধান নেই। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ কোন খুনেরই সুরাহা হচ্ছে না। সরকার ও সরকারি দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সকলেই দুর্নীতি ও অনাচারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। আওয়ামী লীগ আগেরবার দেশকে দুর্নীতির শীর্ষে নিয়েছিল এবার দুর্নীতিকে দেশের সীমানা পার করে বিদেশেও বিস্তৃত করেছে। আজ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ দুর্নীতির অভিযোগে কলঙ্কিত। জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সরকার গদি রক্ষায় ব্যস্ত। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকার উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে অকার্যকর করে ফেলেছে। কোন প্রতিষ্ঠানের উপরই আজ আর জনগণের আস্থা নেই। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি লাভের জন্যই আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। এমন নির্বাচন কেবল নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। কাজেই নির্দলীয়- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের গণদাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জনগণকে বিভ্রান্ত করার আর একটি অপচেষ্টা মাত্র। তিনি প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকেই একটি সাজানো নির্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাঁয়তারা করছেন। তবে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ কোন অবস্থাতেই দেশে দলীয় সরকারের অধীনে সাজানো নির্বাচন মেনে নেবে না।  আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক বিষয়ে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের আন্দোলন কখনও ব্যর্থ হয়নি- এবারও হবে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সহিংস আন্দোলনের কারণে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান করা হয়েছিল। এর অধীনে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচন হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ফের আন্দোলনের নামে সহিংসতার কারণে দেশে চলমান গণতন্ত্র ধ্বংস করে প্রতিষ্ঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছদ্মাবরণে সেনা সমর্থিত এক অসাংবিধানিক সরকার। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তাদের ‘আন্দোলনের ফসল’ ও সকল অপকর্মকে আগাম বৈধতা দেন। দীর্ঘ ২ বছর ধরে সেই সরকার দেশকে রাজনীতিহীন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন করার অপচেষ্টা চালায়। জনগণের আন্দোলনের মুখে এবং আমাদের অনড় অবস্থানের কারণে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সেই অবৈধ সরকারের সকল অপকর্মের বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে তাদের সঙ্গে অশুভ আঁতাত করে। তাদের এই আঁতাত বুঝতে পেরেও জনগণকে হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়া ও অনির্বাচিত স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করতেই আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। চলমান পরিস্থিতিতে দেশ ফের ওয়ান ইলেভেনের দিকে ধাবিত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতি বহাল চাই। এ জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন বিকল্প নেই। সরকারের আগাম নির্বাচনের ব্যাপারে বলেন, নির্দলীয় সরকারের বাইরে দেশে কোন নির্বাচন হবে না। হতে দেয়া হবে না। রায়ের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে বলেন, সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ না নিলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সফল পরিণতি না পাওয়া পর্যন্ত চলবে। তিনি বলেন, বিএনপির তরফে কোন বিকল্প প্রস্তাব দেয়া হবে না। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ, এমকে আনোয়ার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান বিচারপতি টিএইচ খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, বিএনপি দলীয় এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে