Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২০-২০১২

এই রায় অগ্রহণযোগ্য, এতে রাজনৈতিক সঙ্কট বাড়বে: খালেদা জিয়া


	এই রায় অগ্রহণযোগ্য, এতে রাজনৈতিক সঙ্কট বাড়বে: খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, অবসরের পর কোনো বিচারপতি আদালতে বসতে পারেন না, রায় লিখতে পারেন না। এছাড়া ১৩ মাস আগে যে রায় দেওয়া হয়েছে আর ১৩ মাস পরে যে রায় ঘোষিত হয়েছে তার মধ্যে অমিল রয়েছে। তাই এ রায় পক্ষপাতদুষ্ট, অগ্রহণযোগ্য ও বাতিলযোগ্য।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন খালেদা জিয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় সম্পর্কে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানাতে চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এ সংবাদ সম্মেলন চলে।
রায় সম্পর্কে খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘‘এই রায় নৈতিকতাবিরোধী। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে এই রায় দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের রাজনৈতিক সংকট আরো বৃদ্ধি করবে। জাতিকে এর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে দলীয়করণের দৃষ্টান্ত দেখতে হলো। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ রায় তাই জনগণ মেনে নেবে না।’’
ঘোষিত রায়ের ভিত্তিতে যদি দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাও জনগণ মেনে নেবে না এবং সে নির্বাচনে অংশ নেবে না বলেও মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।
তার দল ও জোটের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করে খালেদা বলেন, ‘‘জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ কোনো অবস্থাতেই দেশে দলীয় সরকারের অধীনে সাজানো নির্বাচন মেনে নেবে না।’’
‘‘আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক বিষয়ে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এ কারণে আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। আর এমন নির্বাচন কেবল নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। কাজেই নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের গণদাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অবসরপ্রাপ্ত কোনো সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষপাত দুষ্ট রায় এই আন্দোলনকে দুর্বল কিংবা ব্যাহত করতে পারবে না।’’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘সাম্প্রতিক রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের হুবহু প্রতিধ্বনি এবং তাদের পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে স্পষ্টতই অসঙ্গতিপূর্ণ। মাননীয় সাবেক প্রধান বিচারপতির এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ একটি মারাত্মক বিচারিক অসদাচারণ।’’
 ‘‘এই মন্দ দৃষ্টান্ত দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শুধু নয়, গোটা দেশ ও দেশের জনগণকে হেয় করবে।’’
খালেদা বলেন, ‘‘আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার সময় বিচার বিভাগকে প্রশাসনের অধীন করা হয়েছিল। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তা থেকে বিচার বিভাগকে মুক্ত করেছিলেন।’’
‘‘দেশের জনগণও বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত এক নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেখতে চান। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তারা সুবিচার থেকে বঞ্চিত ও আশাহত হয়েছেন।
 ‘‘আমরা ঘোষণা করছি যে, সাবেক প্রধান বিচারপতির দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক ও পরস্পরবিরোধী রায় জনগণ কখনও গ্রহণ করবে না এবং তার ভিত্তিতে আয়োজিত কোনো নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবে না।’’
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সংসদে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি  যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জনগণকে বিভ্রান্ত করার আর একটি অপচেষ্টা মাত্র বলেও অভিযোগ করেন বিরোধী দলীয় নেতা। খালেদা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকেই একটি সাজানো নির্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাঁয়তারা করছেন। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার।’’
‘‘জনগণের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয়নি - এবারও হবে না’’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘১৯৯৬ সালের আগে দেশের সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ছিল না। ১৯৯৫ সাল থেকে বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জামায়াতসহ কতিপয় রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সহিংস আন্দোলন শুরু করে। তারা দিনের পর দিন হরতাল করেছে, যানবাহন ও সম্পদের বিপুল ক্ষতি সাধন করেছে, নিরীহ মানুষের জীবন নাশ করেছে, সংসদ বর্জন করেছে এবং শেষ পর্যন্ত এ দাবিতে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত করেছে। তাদের সেই পদত্যাগের ফলে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সংবিধান সংশোধন অসম্ভব হয়ে পড়ে।’’
বিএনপি প্রধান বলেন, ‘‘১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে আমরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান করি। এই বিধানের অধীনে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সমমনা দলগুলো পুনরায় আন্দোলনের নামে সহিংসতা শুরু করে। ক্রমাগত হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি, অবরোধ এবং শেষ পর্যন্ত লগি-বৈঠা আন্দোলনে প্রকাশ্য রাজপথে মানুষ খুনের ঘটনা ঘটিয়ে তারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।’’
তিনি বলেন, ‘‘এরই সুযোগে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির আবরণে দেশে চলমান গণতন্ত্র ধ্বংস করে প্রতিষ্ঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছদ্মাবরণে সেনা সমর্থিত এক অসংবিধানিক সরকার। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এই অসংবিধানিক সরকারকে তাদের ‘আন্দোলনের ফসল’ বলে ঘোষণা দেন এবং তাদের সকল অপকর্মকে আগাম বৈধতা প্রদান করেন। দীর্ঘ ২ বছর ধরে সেই সরকার দেশকে রাজনীতিহীন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন করার অপচেষ্টা চালায়। তাদের অপশাসনে অতিষ্ঠ জনগণের আন্দোলনের মুখে তারা জরুরী অবস্থা বহাল রেখেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। আমরা জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তারা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সেই অবৈধ সরকারের সকল অপকর্মের বৈধতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তাদের সঙ্গে অশুভ আঁতাত করে এবং জরুরি অবস্থার মধ্যেই নির্বাচনে যেতে রাজি হয়। তাদের এ আঁতাত বুঝতে পেরেও জনগণকে তাদের হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়া এবং অনির্বাচিত স্বৈরশাসন থেকে জনগণকে মুক্ত করার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নেই। নীল নকশার সেই নির্বাচনে মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সহায়তায় ব্যাপক কারচুপি সম্পর্কে আপনারা সবাই অবহিত আছেন।’’
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ১৮ দলের অবস্থানও তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আর এ গনি, টি এইচ খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে