Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২০-২০১২

সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন


	সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রয়োজন নেই। বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেছেন। জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সংসদ রেখে তো আর নির্বাচন হবে না। আমরা তো ওয়েস্ট মিনস্টার টাইপ অব গভর্নমেন্ট অনুসরণ করি। এ পদ্ধতিতে সরকারপ্রধান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দেবেন। যেমন, আমি রাষ্ট্রপতিকে বলব, আমরা অমুক তারিখে নির্বাচন করতে চাই। তিনি ঠিক করবেন, সংসদ কবে ডিজলভ হবে, মন্ত্রিপরিষদ ছোট হবে কিনা, কতজনের মন্ত্রিসভা থাকবে। এটি সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার।' প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেছে। নির্বাচন কমিশন এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। বর্তমান সরকার জনগণের ভোট কেড়ে নেয়ায় বিশ্বাসী নয়। এই সরকারের আমলে ৬ হাজারের বেশি নির্বাচন হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে দলীয় সরকারের অধীনে এত সুষ্ঠু নির্বাচন আর হয়নি। মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের ভোট চুরির নির্বাচন দ্বারা গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন পরিচালনা এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের মনে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। আবার যদি ওই ব্যবস্থা আসে, আর যদি ক্ষমতা না ছাড়ে, তাহলে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার হারাবে। সংসদ নেতা আরো বলেন, 'আমাদের জানা মতে বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক দেশে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সব সময় রাষ্ট্র পরিচালনার বিধান রয়েছে বিধায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু নেই। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণের বিধান নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য সুপ্রিমকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সম্পর্কিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছেন।' সংসদ নেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের আগে ২০ মে সেনা অভ্যুত্থান হয়েছিল, যা সফল হয়নি বলে গণতন্ত্র রক্ষা পায়। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনই ১৩ জন সচিবকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করে এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন করে। বিএনপি ও জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সারাদেশে হত্যা, খুন ও নির্যাতন চালায়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, '২০০৬ সালে ইয়াজউদ্দীন রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায়ই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। ভোটার তালিকায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার থাকা অবস্থায় নির্বাচনের প্রচেষ্টা নেন। ফলে সরকারের উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেন। আবার তিনি নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেন। কয়েক দফা এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতিতে ১/১১'র ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীন প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করেন। সেনা সমর্থনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়ে তিন মাস অর্থাৎ ৯০ দিনের স্থলে প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থেকে যায়। সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে। ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সব স্তরের মানুষ গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা হয়রানির শিকার হয়। দেশব্যাপী যুদ্ধাবস্থা না থাকা সত্ত্বেও দুই বছর ধরে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকে। দল ভাঙা ও নতুন দল গড়ার খেলাও শুরু হয়। এ অবস্থায় জনগণ দেশ-বিদেশে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিক চাপে ফখরুদ্দীন সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়।' শেখ হাসিনা আরো বলেন, 'মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সংসদের উপ-নির্বাচন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন নেই।' পরে অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সরকার কোনো সমস্যা এলে তা ধামাচাপা দেয় না। সে যেই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেই সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত কারা? ওই সময় সোনালী ব্যাংকের যিনি এমডি ছিলেন, তিনি তো জিয়া পরিষদের সদস্য। আর হলমার্কের মালিক তানভীর আহমেদের উত্থান তো হাওয়া ভবন থেকেই। তাদের গোড়াটা কোথায়, তা একটু খোঁজ নিলেই বের হয়ে যাবে। তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে সরকার বসে থাকছে না। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু পদক্ষেপ নেয়ার তো একটি প্রক্রিয়া থাকে। এখনই কেন ধরা হচ্ছে না- এটা বললে তো হবে না। টাকাটা তো আদায় করতে হবে। তার সম্পত্তি কতটুকু আছে সেটাও তো দেখতে হবে। তাছাড়া এখন তো দুর্নীতি দমন কমিশন থেকেও মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংক লুট করা কে শিখিয়েছে। '৭৫ পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকরা বিভিন্নজনকে ভাগিয়ে এনে দল ভারি করতে ব্যাংক লুটের ব্যবস্থা শুরু হয়। ওই সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা লুট করা শেখানো হয়। বিদেশে অর্থপাচার কে করেছে? আন্তর্জাতিকভাবেই প্রমাণিত হয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতার ছেলেরা অর্থ পাচার করে ধরা পড়েছে। তাদের মুখে এতো বড় কথা মানায় না। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভাল। বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলের মত জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, বাংলাভাইদের অভয়ারণ্য, প্রতিদিন বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা, সংসদ সদস্য হত্যা এবং একদিনে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলার ঘটনা আর নেই। সরকার শক্ত হাতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন করেছে। এতে করে মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংসদ নেতা বলেন, বাংলাদেশ যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যায়, তখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। বিশ্বমন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ একমাত্র দল, যাদের নির্বাচনী ইশতেহার সবসময় হাতে থাকে। আমরা দেশের কল্যাণে ও জনগণের মঙ্গলে কাজ করি। মন্ত্রণালয় দুর্নীতিমুক্ত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এদিকে মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে নজরদারি বাড়ানোর জন্য সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সচিবদের সভায় তিনি বলেন, নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রায় তিন বছর আট মাসে সচিবদের সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রীর পঞ্চম সভা। বিগত সচিব সভার পর ১৫ জন সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। এছাড়া ১৪ জন দায়িত্ব পান ভারপ্রাপ্ত সচিবের। তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'তথ্য অধিকার আইনের আওতায় জনগণকে প্রদত্ত অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে আপনারা ভূমিকা রাখতে পারেন।' প্রধানমন্ত্রী ভূমি ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করার জন্য অনলাইনে ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ ও হালনাগাদকরণ, ডিজিটাল জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা, ডিজিটাল নকশা ও খতিয়ান প্রণয়নে সরকারের লক্ষ্যের কথা জানান। পাশাপাশি প্রচলিত রেকর্ডের (খতিয়ান) পরিবর্তে ভূমি মালিকানা সনদ প্রবর্তন করার লক্ষ্যে সার্বিক ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের জন্য কাজ করে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এতে এসব সম্পত্তির প্রকৃত মালিকরা উপকৃত হবেন।' অনতিবিলম্বে সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেগুলো সরকারের দখলে নিতে সচিবদের নির্দেশ দেন সরকার প্রধান। তিনি আরো বলেন, 'উদ্ধারকৃত জমি যাতে আর বেদখল না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।' বিদ্যুৎ খাতে সরকারের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে আমরা বিদ্যুৎ খাতকে জরুরি খাত হিসেবে ঘোষণা করেছি। শিগগির লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হব বলে আশা করি।' আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া এবং ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহারকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমি স্বল্পতা ও এর সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।' প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানান। শেখ হাসিনা বলেন, 'বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট সফলতা থাকা সত্ত্বেও যথার্থ প্রচারের অভাবে জনগণ সব তথ্য জানতে পারছে না। স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের ফলে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে।' এক্ষেত্রে সরকারি কর্মকা-ের যথাযথ প্রচারের ব্যবস্থা করার জন্য সচিবদের নির্দেশ দেন তিনি। এদিকে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন কর্মকর্তার পদায়নের কারণে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে সৃষ্ট 'স্থান সঙ্কট' নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সচিবরা। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি জানান, সচিবালয়ের 'স্থান সঙ্কট' নিরসনে সচিবরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে