Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০ , ২২ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (115 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৭-২০১২

সরকারের প্রস্তাব এরশাদের নাকচ

পীর হাবিবুর রহমান



	সরকারের প্রস্তাব এরশাদের নাকচ

সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদও সরকারের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এখন সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়। সবুজ বাতি জ্বলে উঠলেই তিনি মহাজোটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের দিন সরকারের তরফ থেকে এরশাদকে স্পিকারের মর্যাদায় মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সঙ্গে স্পিকারের প্রাপ্ত সব সুযোগ-সুবিধা। প্রধানমন্ত্রীর প্রভাবশালী এক উপদেষ্টা সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এতে বিব্রত হন। একইসঙ্গে তিনি বিনয়ের সঙ্গে এ প্রস্তাব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। বলেন, একক নির্বাচনের কথা বলে তিনি যখন চূড়ান্ত সময়ের মুখোমুখি তখন সরকারের প্রস্তাব গ্রহণ করলে তার পার্টিই নয়, মানুষও গ্রহণ করবে না। তিনি তার একক নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানান। এ নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি হ্যাঁ-না কিছুই বলেননি। এরশাদ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললেও তাকে দেওয়া প্রস্তাব প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান। রবিবার সন্ধ্যায় এরশাদের সঙ্গে কথা হয় তার বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের ফ্ল্যাটে। এ সময় তার বিশ্বস্ত সহচর সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন বাবলুও উপস্থিত ছিলেন।

গণঅভ্যুত্থানে পতিত সেনাশাসকরা দুনিয়ার কোথাও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। এরশাদ এক্ষেত্রে বিরল। কারাগারে বসেই পাঁচটি করে আসনে বিজয়ী হয়েছেন দু'বার। তাকে জেলে নেওয়া হয়েছে। তাকে এবং পার্টিকে মামলায়-নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। দল ভেঙেছে দুবার। দল ছেড়ে চলে গেছেন অনেকে। তবুও তিনিই দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতা। ইতিহাসের চাকাকে উল্টে দিয়ে এরশাদ জীবনের পড়ন্ত বেলায় প্রধানমন্ত্রী হয়ে মসনদে ফিরতে চান। এরশাদ তাই সরকারের দিকে ফিরে না তাকিয়ে দাবার চাল দিতে দিতে পথ হাঁটছেন সতর্কতার সঙ্গে, হিসাব কষে। সামনের জাতীয় নির্বাচনে গণরায় নিয়ে জীবনের শেষ বেলায় প্রধানমন্ত্রী হওয়াই এখন এককালের প্রতাপশালী রাষ্ট্রপতি এরশাদের স্বপ্ন। জাতীয় পার্টি ও এরশাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র এ কথা জানিয়েছে। সূত্র জানায়, আগাম এবং বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা সামনে রেখে ছক কষে ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এরশাদ। পার্টিতে এখন ভোটযুদ্ধের জোর প্রস্তুতি। সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে এরশাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এতে লাভের চেয়ে সরকারের লোকসানের পাল্লাই ভারী হলো। বিশেষ করে তোফায়েল আহমেদের মতো নেতার মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করায় সরকারের বেশি ক্ষতি হয়েছে মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, রাশেদ খান মেনন না হয় আলাদা দল করেন। তার দল ও রাজনীতির নীতি আলাদা হওয়ায় সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে। এরশাদের মূল্যায়নে তোফায়েল আহমেদের মতো অভিজ্ঞ নেতা যারা দলের জন্য জীবন-যৌবন ত্যাগ করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, কাজ করেছেন, তাদের মন্ত্রিসভা গঠনের শুরুতে না নেওয়ায় মনে অনেক দুঃখ আছে। অপমানবোধের যন্ত্রণা রয়েছে। এটিই স্বাভাবিক। আর মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হয়তো তার আত্দসম্মানবোধের বিষয়টি। তবুও তোফায়েল সাহেবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আগে কথা বলে নিলে হয়তো তিনি ফেলতেন না। কথা রাখতেন। এরশাদ বলেন, মন্ত্রিসভা রদবদল, অযোগ্যদের বাদ দিতে বহুবার প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি। এবারও অযোগ্যদের বাদ দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক নেতাদের টানা হয়নি। দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নিলে মনে হতো যে গতি আনার চেষ্টা হয়েছে। এরশাদ বলেন, পদ্মা সেতুর বিতর্কের কারণে সৈয়দ আবুল হোসেনকে সরানো হলো, অথচ তার প্রতিষ্ঠানের এমডি মোস্তফা ফারুককে মন্ত্রী করা হলো। সৈয়দ আবুল হোসেনকে বিদায় করলেও উপদেষ্টা বহাল থাকলেন! এতে নতুন বিতর্ক উঠল। বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না সরকারের।

এরশাদ বলেন, তিনি যদিও এখন পর্যন্ত মহাজোটে আছেন তবু এটি পরিষ্কার যে, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। তার ভাষায়, সরকার মানুষকে আস্থায় নিতে হলে এখনই শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের যে কোনো শর্ত মেনে হলেও পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে হবে। এখানে মান-অভিমানের সুযোগ নেই। হলমার্কের ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দণ্ডিত করতে হবে। হত্যা-গুম বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। দুনিয়ায় মাথা ছোট হয়ে যাচ্ছে। এটা করতে তো বাজেট লাগে না। রাজনৈতিক দৃঢ়তা আর সদিচ্ছা দরকার। তবু কেন হয় না? শিক্ষাঙ্গন রণাঙ্গন হয়ে গেছে। এ সব বলে এরশাদ নিজেই বিষণ্ন কণ্ঠে বললেন, তারপরও সরকার কতটা রিকভারি করতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এরশাদ বলেন, দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীকে সহযোগিতা দেওয়া হয় না। তরুণদের কর্মসংস্থান নেই। গ্যাস, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ না থাকায় বিনিয়োগ নেই। অর্থনীতিতে বন্ধ্যত্ব। তাই তিনি জীবনের শেষে এসে মাঠে নেমেছেন। মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। যে দিকে যাচ্ছেন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলছে, এবার তাকেই ক্ষমতায় দেখতে চায়। দুই দলকে অনেক দেখেছে। এরশাদ জানান, ১১১ আসনে প্রার্থী তালিকা করেছেন। গতকাল আরও ১১০ জন প্রার্থীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। তার ভাষায় এ সব ফ্রন্ট লাইনপ্রার্থী। পাইপলাইনে অনেক শক্তিশালী প্রার্থী আছেন। সব খোলাসা করবেন না। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড় সকাল-সন্ধ্যা। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায়। জেলায় জেলায় তাকে নিতে চায়। তিনি বলেছেন, হেলিকপ্টারে নিতে হবে। না হয় যাবেন না। তিনি ও তার কর্মীরা ক্ষমতার বাইরে থেকে অনেক কষ্ট করেছেন। এটা শেষ লড়াই। জিততে হবে। এরশাদ বলেন, তিনি গণরায় নিয়ে সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হবেন। প্রশাসন দলের প্রভাবমুক্ত হবে। সরকার হবে গণমুখী। প্রাদেশিক শাসন-ব্যবস্থাসহ প্রশাসনিক সংস্কার হবে। উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার শক্তশালী হবে। সরকার হবে ব্যবসাবান্ধব। মন্ত্রীরা হবেন দক্ষ-যোগ্য গতিশীল। দলীয়করণের বদলে সর্বত্র পেশাদারিত্ব, মেধা আর দক্ষতার মূল্যায়ন করা হবে। অর্থনীতিতে গতি আসবে। দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন হলেই আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে। এরশাদ জানান, তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা কী হবে তা নিয়েও হোমওয়ার্ক করছেন। তার অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাফল্য-ব্যর্থতা মিলিয়েই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এদিকে এরশাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছে, ভারত সফরের পর দেশে ফিরে এরশাদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই কঠোর পরিশ্রম করছেন। নির্বাচনই তার সামনে। কুমিল্লার একটি আসনে যেখানে দলে যোগ দেওয়া বিত্তশালী মনোনয়ন চান, সেখানে তিনি বরেণ্য রাজনীতিবিদ কাজী জাফর আহমেদকেই দিয়েছেন। মাঠে নামিয়েছেন। পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকেও অনেক প্রভাবশালী প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগে নামিয়েছেন। এরশাদ ঢাকায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় জনসভা করবেন। কাজী ফিরোজ রশীদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় বড় দলের মনোনয়নবঞ্চিতরা যোগাযোগ করছেন। নির্বাচনী বিধি-বিধান মাথায় রেখে এরশাদ তৃণমূল জাতীয় পার্টি গঠন করে সে দলের ব্যানারে অনেক প্রার্থী সঙ্গে নেবেন। জামায়াতবিরোধী ইসলামী দলগুলোকে ভোটযুদ্ধে সঙ্গে রাখবেন। সূত্র জানায়, সব দল নির্বাচনে এলে কেউ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে এরশাদ মনে করেন। আর পরিস্থিতি যে দিকে যাবে তাতে সামনে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। তখন আওয়ামী লীগের সঙ্গেই এরশাদের জোটের লড়াই হবে। তখন আওয়ামী লীগবিরোধী ভোটাররা তার দিকেই ঝুঁকবেন। এমনকি বর্তমান সরকারি দলের বিদ্রোহীরাও তার কাছে আসবেন। সূত্র জানায়, গণতান্ত্রিক দুনিয়াকে এরশাদ বলেছেন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমনে তিনি যেমন হবেন কঠোর তেমনি সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষায় হবেন উদার ও বিশ্বাসী। এ ক্ষেত্রে তিনিই উত্তম বিকল্প তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি। তার বিকল্প নেই।
 

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে