Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (67 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৫-২০১২

চরম সংকটে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ


	চরম সংকটে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ  বাগেরহাটের সরকারি পিসি কলেজ।
দীর্ঘদিন ধরে এ কলেজটি বিভিন্ন সমস্যায় ভরপুর।এ কলেজে প্রয়োজনের তুলনায় নেই শিক্ষক, অবকাঠামো ও খেলার মাঠ।
চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে ৭ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।
কলেজটিতে শিক্ষক সংকটের অবসান ও অবকাঠামোর উন্নয়ন না হলে শিক্ষা ব্যবস্থা চরম আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।
শুরুর কথা: শিক্ষা বঞ্চিত এ এলাকার মানুষকে সু-শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে রসায়নবিদ আচার্য প্রফুল চন্দ্র রায় তৎকালীন জমিদার ও শিক্ষানুরাগীদের সহায়তায় ১৯১৮ সালে বাগেরহাট শহরের হরিনখানা এলাকায় “বাগেরহাট কলেজ” প্রতিষ্ঠা করেন।
পরবর্তীতে কলেজটি আচার্য প্রফুল চন্দ্র রায়ের নামানুসারে  ১৯৩৩ সালে ‘পিসি কলেজ’ নামকরণ করা হয়। এভাবে চলতে থাকে এ কলেজ।
এরপর ১৯৭৯ সালে কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে কলেজটিকে সরকারি কলেজ হিসেবে ঘোষণা দেন।
কলেজটি সরকারি  হওয়ার পর ১৯৯৫ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইংরেজি, ইতিহাস, উদ্ভিদবিদ্যা, হিসাববিজ্ঞান, গণিত, দর্শন, পদার্থবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, বাংলা, ব্যবস্থাপনা, রসায়ন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ মোট ১৪টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইংরেজি, উদ্ভিদবিদ্যা, হিসাববিজ্ঞান,  বাংলা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়।
এ কলেজে বর্তমানে ৬৮০৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক একাদশ ৬৯০ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৬শ, স্নাতক ১ম বর্ষ ৩৩৫ জন, ২য় বর্ষ ২৫০ জন, ৩য় বর্ষে ৫৫০জন। ১৪টি বিষয়ে অনার্স ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বর্ষে মোট ৩৯৩০ ও ৬টি বিষয়ে মার্স্টাস শেষ বর্ষে ৪৫০ জন।
তৎকালীন এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে মোট শিক্ষক প্রয়োজন ১৮৪ জন।
বর্তমানে ৭৫ জন শিক্ষকের সৃষ্ট পদ থাকলেও রয়েছে মাত্র ৪৮জন। শূন্য রয়েছে ২৭টি পদ।
যেসব বিভাগে শিক্ষক নেই: অর্থনীতি বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক, ইসলাম শিক্ষায় একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে একজন প্রভাষক, ইংরেজিতে দুইজন প্রভাষক, ইতিহাসে একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুইজন প্রভাষক, উদ্ভিদবিদ্যায় একজন প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞানে একজন প্রভাষক, গণিতে দুইজন প্রভাষক, দর্শনে দুইজন প্রভাষক, পদার্থবিদ্যায় একজন সহকারী অধ্যাপক, দুইজন প্রভাষক, প্রাণিবিদ্যায় দুইজন প্রভাষক, বাংলায় একজন অধ্যাপক দুইজন সহকারী অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনায় একজন প্রভাষক, রসায়নে দুইজন প্রভাষক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একজন প্রভাষকের পদ শূন্য রয়েছে।
এছাড়াও কোনো কোনো বিভাগে চারজন শিক্ষকের পরিবর্তে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে সে বিভাগ।
এদিকে, কলেজে ২৬ জন কর্মচারীর মধ্যে প্রধান সহকারী ও হিসাবরক্ষকসহ ৮ কর্মচারীর পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। মোট ১২ জন কর্মচারীর পদ এখনও খালি রয়েছে। বেসরকারি কর্মচারী দিয়ে অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অপরদিকে, দীর্ঘ ২৮ বছর চাকরি করেও মাস্টাররোল কর্মচারী দেলোয়ার এখনও নিয়মিত হতে পারেননি।
অবকাঠামো: বর্তমানে কলেজের পুরাতন ও জরাজীর্ন ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
২৯টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ৪টি পরিত্যক্ত এবং ১০টি আংশিক ভগ্নদশা। শ্রেণিকক্ষের অভাবে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মাঝে মধ্যে বারান্দায়, সেমিনার কক্ষে ও লাইব্রেরিতে ক্লাস নিতে হচ্ছে। নেই কোনো অডিটোরিয়াম।
এছাড়াও মাত্র ১টি ছাত্রী কমনরুম রয়েছে তাও আবার ভাঙা। সেমিনার কাম বিভাগীয় অফিস ১১টির মধ্যে ৫টি ভাঙা।
কলেজ কতৃপক্ষ জানায়, এ কলেজে ১৪টি সেমিনার কক্ষ ও ১৪টি বিভাগীয় অফিস প্রয়োজন। এছাড়াও ৫টি ল্যাবরেটরি ও ২টি কম্পিউটার ল্যাব ও ১টি অডিটোরিয়াম অধ্যক্ষের কক্ষ, উপাধ্যক্ষের কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও অফিস কক্ষসহ নুতন প্রশাসনিক ভবন প্রয়োজন।
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাছলিমা জানান, কলেজে ১টি টিন সেডসহ মাত্র ২টি ছাত্রাবাস ও ১টি ছাত্রীনিবাস রয়েছে।
এখানে পানি সংকটসহ জরার্জীন ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় আসন সংখ্যা অনেক কম।
তিনি আরও জানান, এ কলেজে ২শ আসন বিশিষ্ট ২টি ছাত্রাবাস ও ১শ আসন বিশিষ্ট ১টি ছাত্রী নিবাস প্রয়োজন।
এছাড়া খেলাধুলার সামগ্রী অপ্রতুল। লাইব্রেরিতে নেই পর্যাপ্ত বই।
অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী নাসরিন জানান, শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষক অপ্রতুল। বেশির ভাগ সময় একটি শ্রেণিকক্ষে দু’বিভাগের ক্লাস হয়। এছাড়া মেয়েদের জন্য কোনো কমনরুম নেই। বারান্দায় দাড়িয়ে থাকতে হয়।
ইংরেজি বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদ হোসাইন জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে সব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকট থাকার কারণে একই শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা অনেকে জানায়, ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে কলেজটিতে শিক্ষার্থীদৈর চলাচলের জন্য ১টি বাস দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ওই বাসটিতেই ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে ঝুলে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি ফিরতে হয়।
কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ক্লাসরুম না থাকায় গণিত বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে কোনো মতে ক্লাশ নিতে হয়। এরপর জরাজীর্ন ভবনে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করাতে হয়। তিনি এসব সমস্যার সমাধান চান।
এসব বিষয়ে পিসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুকন্ঠ কুমার মণ্ডল জানান, এসব বিষয় সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু অবকাঠামোর কাজ চলছে। এসব সমস্যা সমাধান হলে ঐতিহ্যবাহী পিসি কলেজের শিক্ষার মান বজায় থাকবে।
তিনি এসব সমস্যার পরও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে  এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
এসব ব্যাপারে কলেজের প্রাক্তণ ছাত্র অ্যাডভোকেট মোজাফফর হোসেন জানান, পিসি কলেজটি সুপ্রাচীন এক গৌরবময় ঐতিহ্য। কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আযীমউদ্দিন আহম্মেদ, মনিকান্ত গাঙ্গুলীর মতো দেবতুল্য ব্যক্তিত্ব এ কলেজকে ঈর্ষনীয় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে গেছেন। সেগুলো আজও রুপকথার মতো এলাকার মানুষের কাছে শ্রুতি ও স্মৃতির মধ্য দিয়ে জীবন্ত ও প্রানবন্ত হয়ে আছে।
কিন্তু সেই পিসি কলেজটি আজ জরাজীর্ন দশা অবস্থায় পতিত।
এ কলেজের দিকে কারও নজর না থাকায় সুশীল সমাজ তথা সর্বস্তরের মানুষ ক্ষুব্ধ। তারা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে