Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ , ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (72 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৩-২০১২

তোমাদের অভিবাদন

পীর হাবিবুর রহমান



	তোমাদের অভিবাদন

ইতিহাস গড়লেন ষাটের দশকের দুই মেরুর ছাত্র রাজনীতির দুই তারকা তোফায়েল আহমেদ ও রাশেদ খান মেনন। তোমাদের অভিবাদন। যে দেশে মন্ত্রিত্ব নিলামে ওঠে, সে দেশে নিজ নিজ আদর্শের পথে অবিচল থাকার ঘোষণা দিয়ে মহাজোট সরকারের শেষ বেলায় মন্ত্রিত্বের প্রস্তাবকে না করে দিলেন। ৪০ বছরের ইতিহাসে এমন নির্লোভ দৃশ্য দেখেনিজাতি। তোফায়েল আহমেদ এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ক্যানভাসে অাঁকা এক নায়কের প্রতিচ্ছবি। ডাকসুর ভিপি ছিলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়কের মুকুট তার মাথায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতৃস্নেহ ও রাজনৈতিক শিক্ষায় সিক্ত তার জীবন। '৭০-এর জাতীয় নির্বাচনে তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী জাতীয় পরিষদ সদস্য। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ছিলেন তার নেতার দেশ-বিদেশের নিত্য সহচর। মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান তোফায়েল আহমেদ মেধায়, প্রজ্ঞায়, সাহসিকতায় নানা ভুলত্রুটি থাকলেও এ দেশের রাজনীতিতে এক জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খুনিচক্র তোফায়েল আহমেদকে আটক করে যে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে তার সাক্ষী হয়ে এখনো বঙ্গভবনে আছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। দীর্ঘ জেল খেটেছেন, আপস করেননি। কারাগার থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন, আন্দোলন করেছেন। '৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে সামরিক শাসনকবলিত বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিলে তোফায়েল আহমেদও নিরন্তর ভূমিকা রাখেন।

প্রতিটি সরকারের আমলে রাজবন্দী হিসেবে তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দলের প্রতি আনুগত্য থেকে সরে দাঁড়ানো দূরে থাক বার বার অগি্নপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তার ৫২ বছরের রাজনৈতিক জীবনকে বর্ণাঢ্য করেছেন। একজন তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তার ভূমিকা দেশবাসীর হৃদয় জয় করেছে পঞ্চম সংসদকালেই। এবারও বিরোধী দল যেখানে সংসদে গণমানুষের হয়ে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ, সেখানে তোফায়েল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়েছেন। মানুষ, দল ও সরকারের স্বার্থে কথা বলেছেন। ওয়ান-ইলেভেন তোফায়েল আহমেদকে সংস্কারের তকমায় বিতর্কিত করলেও কাছে থেকে দেখেছি বৈরী সময়ের মুখোমুখি সেই পরিস্থিতিতে নিজেকে বাঁচানোর জন্য যতটুকু দরকার তার বেশি কিছু করেননি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যেদিন ভোরে গ্রেফতার হলেন সেদিন সকাল ৯টায় তার বাড়িতে গিয়ে দেখেছি তাকে বিমর্ষচিত্তে অসহায়ের মতো বসে থাকতে। তার প্রিয়তমা স্ত্রী তাকে রাজপথে নামতে অনুরোধ করলে তিনি বলেছিলেন, জেল খাটতে আমি কোনো দিন পিছু হটিনি। কিন্তু এবার রাজনৈতিক নেতাদের রাজবন্দী হিসেবে নয়, সামাজিকভাবে চরম হেনস্থা করে নিয়ে যাচ্ছে। এটা বুঝে উঠতে পারছি না। মহাজোট সরকার গঠনকালে যখন দেখেছি আপাদমস্তক আওয়ামী লীগার, অভিজ্ঞ মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মন্ত্রিসভায় নেই, বিস্মিত হয়েছি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ কাউন্সিল-উত্তর দলের প্রেসিডিয়াম দূরে থাক, ওয়ার্কিং কমিটিতেও তার ঠাঁই না হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের জন্য ছিল বিস্ময়কর।

অন্যদিকে দল ও সরকারে আদর্শচ্যুত কাস্তে-কুঁড়েঘর ছেড়ে আসা বামদের প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনকে চমকে দেওয়ার মতো। তোফায়েল আহমেদ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যের পরিচয় দেননি, মানসিকভাবে গ্রহণও করেননি। বরাবর বলে আসছেন, আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয়েই তিনি গর্ববোধ করেন। বুকভরা অভিমান থেকে বলুন, অন্তহীন দহন থেকেই বলুন_ অবস্থান থেকে সরেননি। দলীয় সভানেত্রী উপনির্বাচন হোক, সংবিধান প্রণয়ন কমিটি হোক, যখন যেখানে দায়িত্ব দিয়েছেন তোফায়েল দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তা পালন করেছেন। সর্বশেষ গতকাল সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় শপথ নিতে বুধবার রাতে ক্যাবিনেট সচিব আমন্ত্রণ পেঁৗছে দেন। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে যোগাযোগ করলে তোফায়েল তা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পোড় খাওয়া ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ের ভেতর দিয়ে প্রবল আত্দবিশ্বাস নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ঠাঁই পাওয়া প্রথম সারির রাজনীতিবিদদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ অন্যতম। তারও রাজনৈতিক জীবনে ভুলত্রুটি আছে। ষাটের নেতৃত্বের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। তাদের নিয়ে অহঙ্কার আছে। সমালোচনাও আছে। তোফায়েলকে যেমন ভালোবাসি তেমনি মুখের ওপর সমালোচনা করতেও দ্বিধা করি না। তবু পেশার তারে জীবন জড়ানোর পর তাকে কাছ থেকে দেখেছি একজন পরহেজগার মুসলমান, উদার গণতন্ত্রী, অসাম্প্রদায়িক, অতিথিপরায়ণ, বন্ধুবৎসল, আত্দমর্যাদাসম্পন্ন আবেগপ্রবণ স্মার্ট মানুষ হিসেবে। ছাত্রজীবন থেকে চলনে-ফ্যাশনে নজরকাড়া তোফায়েল আহমেদের দামি স্যুট-টাই নিয়ে আড়ালে-আবডালে কথা থাকলেও গায়ে না মেখে জীবনকে খোলা বইয়ের মতোই মানুষের সামনে তুলে ধরেন তিনি। বই পড়া, আড্ডাবাজ তোফায়েল আহমেদের বলার ধরন এতটাই নিখুঁত যে, প্রতিপক্ষকে শক্তভাবে যুক্তিনির্ভর আঘাত হানেন ব্যথানাশক মলম লাগিয়ে। বছরের পর বছর তাকে দেখেছি বঙ্গবন্ধুর উচ্চতা নিয়ে গল্প করতে করতে শিশুর মতো ডুকরে কেঁদে উঠতে। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান থেকে অসুস্থ পরিচিতজনদের রোগশয্যায় পাশে গিয়ে দাঁড়ান। বর্তমান সংসদে প্রথমে যোগাযোগব্যবস্থা এবং সর্বশেষ হলমার্ক কেলেঙ্কারির মতো ব্যাংক জালিয়াতি নিয়ে তিনি গণমানুষের হয়ে কথা বলে নন্দিত হয়েছেন। জীবনের পড়ন্ত বেলায় বঙ্গবন্ধুর তোফায়েল আহমেদ মন্ত্রিত্বকে গ্রহণ না করে প্রমাণ করেছেন একজন রাজনীতিবিদের কাছে মন্ত্রিত্ব বড় নয়। এর আগেও তিনি শেখ হাসিনা সরকারে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তোফায়েল আহমেদকে মন্ত্রিত্বের চেয়ে দলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য পদ দিলে বেশি তৃপ্ত ও খুশি হবেন বলে আমার মনে হয়েছে। তাই শেষ বেলায় মন্ত্রিত্ব না নিলেও তিনি দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক থেকে যেমন ভূমিকা রাখতে পারবেন তেমনি বঙ্গবন্ধুর দুঃখী মানুষের পক্ষে সংসদে ও দলে কথা বলতে পারবেন। যে দেশে মন্ত্রিত্বের জন্য অহরহ দল বদলায়, আদর্শ পাল্টায়; সে দেশে মন্ত্রিত্বের লোভ নিঃশব্দে ত্যাগ করার মতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তোফায়েল আহমেদকে অভিবাদন।

২. ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী উত্তাল ছাত্র আন্দোলনের সময়কালে পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে রাজনীতিতে আসা রাশেদ খান মেনন অবিভক্ত ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। ডাকসুর ভিপিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের ভাঙনে তার নামে বড় অংশ ছোটে চীনপন্থি বাম ধারায়। পরবর্তীতে এটি 'বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন' নাম ধারণ করে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানেও তাদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। পরবর্তীতে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ন্যাপে যোগ দিয়ে রাশেদ খান মেনন গণরাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বার বার সামনের কাতারে ছিলেন। অনেকে সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী হলে রাশেদ খান মেনন গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগঠন করে '৭৯ সালে সংসদে এসে পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে খ্যাতি কুড়ান। '৯১ সালেও তিনি নিজ ইমেজে বিজয়ী হন। '৯২ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয় থেকে বেরোনোর সময় গুপ্ত ঘাতকের বুলেটে বিদ্ধ হন। গোটা দেশবাসী বেদনার সঙ্গে সেদিন তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। রাজনৈতিক জীবনে ব্যর্থতা থাকলেও মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা রাশেদ খান মেনন গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিচল পথ হেঁটেছেন। এ দেশের মস্কোপন্থি বামেরা যখন ক্ষয়ে ক্ষয়ে শেষ হয়ে গেছেন, চীনপন্থি বামেরা সামরিক শাসকদের ঝাড়ুদার মন্ত্রী হয়েছেন, তখনো মেনন তার নামের মর্যাদা রেখে আদর্শ ও আত্দসম্মান বড় করে দেখেছেন। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের মুখে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট গঠন, সংস্কার প্রস্তাব এবং আন্দোলন গড়ে তুলতে যে ক'জন নেতা সেদিন দাঁড়িয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন তাদের অন্যতম।

মনে পড়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১৪ দলের পক্ষ থেকে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেন তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তার আগের রাতে আমীর হোসেন আমুর ইস্কাটনের বাসভবনে ড. কামাল হোসেনসহ ১৪ দলের নেতারা সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেন। সেই সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে একে একে ১৪ দলের নেতারা প্রবেশ করছিলেন। আজকের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে কেন জানি বলে উঠেছিলাম, ১৪ দল ক্ষমতায় এলে দিলীপ বড়ুয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন। পাশে বসা ছিলেন অগ্রজ সাংবাদিক সাইফুল আলম। কথাটি টেনে নিয়ে তিনি ছুড়ে দিতেই কৌতূহলী হয়ে উঠলেন ১৪ দলের নেতারা। নিছক রসিকতার ছলে মন্তব্যটি শুনে সবাই উপভোগ করেছিলেন। জোটনেত্রী শেখ হাসিনা প্রবেশ করতেই সবার হাসিঠাট্টা বন্ধ হয়ে যায়। সবাই বলতেন ১৪ দল ও পরবর্তীতে মহাজোটের ঐক্য, আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার গঠনের কথা। সেভাবেই নেতারা সারা দেশ সফর করেছিলেন। মহাসমাবেশ থেকে মানববন্ধন সবই করেছেন। হরতাল, অবরোধ কোনো কিছু থেকেই পিছপা হননি। ওয়ান-ইলেভেন মাঝখানে রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দিয়ে গেলেও নির্বাচন মহাজোটগতভাবেই হয়। নির্বাচন-উত্তর সরকার গঠনকালে কর্মীশূন্য দলের দিলীপ বড়ুয়া ও জাপার একমাত্র জি এম কাদেরকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে দেখা গেলেও ১৪ দলের মেনন-ইনুসহ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের দেখা যায়নি। সরকারের শেষবেলায় এসে যখন শেয়ার কেলেঙ্কারির পর পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি, হলমার্কের ব্যাংক জালিয়াতিসহ নানা ঘটনায় সরকার সমালোচনার মুখে, সংসদে বিরোধী দল তাদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ, আজীবন গণমানুষের কথা বলে আসা আদর্শচ্যুত বামপন্থিদের মুখে ক্ষমতার কুলুপ; তখন সরকার ও গণমানুষের হয়ে কথা বলেছেন তোফায়েল-জলিল-শেখ সেলিম। আর রাশেদ খান মেননই বামপন্থিদের গণচরিত্র ধারণের মানসম্মান রেখেছেন। সংসদে দাঁড়িয়ে মানুষের হয়ে কথা বলেছেন। এমনি পরিস্থিতিতে এ দেশের ইতিহাসে যেখানে মন্ত্রিত্বের জন্য বামপন্থিরা আদর্শের কবর রচনা করে কখনো সামরিক সরকারের হেরেমে, কখনো গণতান্ত্রিক সরকারের দলে ঠাঁই নিয়েছেন; সেখানে বার বার মন্ত্রিত্বের লোভ-মোহ ত্যাগ করে আসা রাশেদ খান মেনন তার নিজ জোটের সরকারের মন্ত্রিত্বকে না করে দিয়ে প্রমাণ করেছেন সত্যিকার অর্থেই গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করলে ক্ষমতার ঊধের্্ব থাকা যায়। যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এপিএসের অর্থ কেলেঙ্কারিতে মন্ত্রিত্ব হারিয়ে দফতরবিহীন হয়ে সংসদে বলেছিলেন 'মেননের মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার যন্ত্রণা', সেই বক্তব্যকেও ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন মেনন। রাশেদ খান মেননকেও তাই অভিবাদন। একই সঙ্গে সরকারের শেষবেলায় হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মন্ত্রিসভায় ডাকায় ফের অভিবাদন জানাই।

৩. জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু মন্ত্রিত্বের ডাক পেয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় যোগ দিচ্ছেন, তবে সরকারের ভুলভ্রান্তির সমালোচনা করবেন। শপথ নেওয়ার পর হাসানুল হক ইনু মহাজোট সরকারের মন্ত্রী। মহাজোট সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা দুটোর দায়ই আজ থেকে তাকে নিতে হবে। আজ থেকে তার বলার জায়গা মন্ত্রিসভা। আজ থেকে তার বলার জায়গা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে সরকারের একজন হয়ে তিনি জবাবদিহি করবেন। জনগণের হয়ে সংসদ সদস্যরা কৈফিয়ত চাইবেন। বিপ্লবের ভাষা ছেড়ে নরম ভাষায় তিনি গণমানুষের মন্ত্রী হয়ে জবাব দেবেন। হাসানুল হক ইনু স্বাধীনতা-উত্তরকালে জাসদের বিপ্লবী নেতাই ছিলেন না, আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়া গণবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে মুজিব সরকারকে উৎখাতের লড়াইও করেছেন। ষাটের দশকের ছাত্রলীগ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনুও দীর্ঘ ৪০ বছর রাজনৈতিক ভুলত্রুটি থাকলেও তার আদর্শ থেকে সরে যাননি। যখন মন্ত্রীরা নানা অভিযোগে মন্ত্রিত্ব হারাচ্ছেন, সমালোচিত হচ্ছেন তখন মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করা মানে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ। আজ তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের অংশীদার হয়েছেন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা তার দায়িত্ব। তিনিসহ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই নেওয়া নতুনদের সাফল্য চাচ্ছি। ইনুসহ নতুনদের অভিনন্দন। বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ফের ধন্যবাদ স্বাধীনতা-উত্তর জাসদের কর্মকাণ্ড ভুলে উদার গণতন্ত্রী হিসেবে জোটের অংশীদার হাসানুল হক ইনুকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেওয়ার জন্য। আগের আমলে দিয়েছিলেন আ স ম রবকে। এবার দিলেন হাসানুল হক ইনুকে।
 

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে