Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-০২-২০১২

কে মুছলিম! পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে পারে

ম জ বাসার


কে মুছলিম! পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে পারে
মনুষ্যজাত কি মনে করে যে, ‘ঈমান এনেছি’ বল্লেই তাকে পরীক্ষা না করেই ছেড়ে দেয়া হবে? (২৯: ২)
কে মুছলিম (শান্তিবাদী) আর কে অমুছলিম (অমান্তিবাদী)! হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, খৃষ্টান, মুসলমান সকল জাতিই নিম্ন ধারার অনুকুলে পরীক্ষি-নিরীক্ষা করত নিজে নিশ্চিত হোন! অন্যকে নিশ্চিত করান!
ছল্লে, ছল্লা, ছালাম,  ইছলাম, আছলাম,  ছালাত, মোমেন, মোত্তাকিন, মুছলিম ইত্যাদি শব্দগুলো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যার মূল কথা: শান্তি, শান্ত, শান্তিবাদ, প্রশান্ত, প্রলিপ্ত, ভীরু, ধীর, স্থির, সুঠাম, অচল, অটল, বিশ্বস্ত, ভক্ত, সমর্পিত, নম্র-ভদ্র,  নিবেদিত, বিক্রিত, আত্মসমর্পিত ইত্যাদি। একক ও সহজ-সরল কথায় আদর্শবাদ বা শান্তিবাদী(মুছলিম) বলা যেতে পারে ।আল্লাহর মনোনীত ধর্মই শান্তিবাদ বা ইছলাম এবং তার অনুসারীদের মুছলিম বলা হয়। ব্রম্মা-আব্রাম, ইব্রাহিম ইহার প্রবর্তক; তিনি ও তাঁর অনুসারীগণ মুছলিম ছিলেন ( ২: ১২৮, ১৩১, ১৩৩)। মুছা ও তার অনুসারীগণ মুছলিম ছিলেন ( ৫: ৪৪)। ঈছা ও তার অনুসারীগণ মুছলিম ছিলেন ( ৫: ১১)। ছোলায়মান ও তার অনুসারীগণ মুছলিম ছিলেন ( ২৭: ৪৪)। মুহাম্মদ ও তার অনুসারীগণও মুছলিম ছিলেন; কিন্তু আজ শিয়া, ছুন্নী, কাদিয়ানী যাবতিয় দল-উপদলসহ সমগ্র মানবসমাজের মধ্যে অধিকাংশই কোরানের আলোতে সমভাবে অমুছলিম, অনার্য বা সাম্প্রদায়িকবাদী বা অসভ্য জাতি।    
‘মুছলিম’ শব্দের অর্থই সত্, পরিশ্রমী, ন্যায়বাদী, সেবাবাদী;  সাম্যবাদী, মানবতাবাদী, উদার, মহান, ত্যাগী, চিন্তাশীল, জ্ঞানী, নীতিবান, ক্ষমাশীল, দয়াশীল, ধৈর্যশীল, বীর্য্যশীল ও প্রগতিশীল ইত্যাদি যাবতীয় গুণসম্পন্ন ব্যক্তিই ভদ্র-নম্র, আদর্শবান বা ধার্মীক বলে সমাজে স্বীকৃত হয়।
এরা মিথ্যা, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, লোভী-ভোগবাদী এবং উচ্ছৃংখল বিশৃংখল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত; এসমস্ত লোক দ্বারা অন্যায়, অপকার বা ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা থাকে না। অর্থাত্ সৃষ্ট যাবতীয় জ্ঞান গুণসম্পন্ন ও সৃষ্ট যাবতীয় অজ্ঞানতা ও দোষবিমুক্ত ব্যক্তিগণই সমাজে ভদ্র বা আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এদেরকেই কোরানে ‘মুছলিম, আর্য, আদর্শ বা শান্তিবাদী (মুছলিম) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এরা আল্লাহর নির্ধারিত সংবিধানের কাছে চির আত্মসমর্পিত, চির নিবেদিত, বিশ্বস্ত, জাগ্রত ও চেতনাপ্রাপ্ত জ্ঞানী। এরা কখনও এবং কোনো অবস্থায় আক্রমণ বা প্রতিশোধপরায়ণ হয় না; ব্যক্তি বা সমাজের কাছে তারা কখনোই হমকিস্বরূপ নয়। কিন্তু আত্মবিশ্বাস, নীতিবোধ ও আত্মরক্ষায় এরা অটল-অবিচল। কোনো কিছুর অজুহাতে আল্লাহর নির্ধারিত সংবিধান লঙ্ঘন করে না। এদেরকেই আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করেছেন। প্রচলিত জন্মগত ও জাতিগত  হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদিদের দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা সমাজ কোনো দিক থেকেই নিরাপদ নয়। প্রধানত জন্ম বা উত্তরাধিকার সুত্রে সাম্প্রদায়িক ধার্মীক দাবি অবৈধ, অর্থহীন, উহা অর্জন করত ধারণ করতে হয়।

কোরানের শুরুতেই মুছলিম হওয়ার সর্বপ্রধান, সংক্ষিপ্ত শপথনামা
১.    (১: ১-৭) মূল কথা: ক. স্তুতিবাদ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর-; অর্থাত্ জীবনের যাবতীয় কাজ-কর্মের সুনাম বা ফলাফল আল্লাহর অর্থাৎ পরার্থে নিবেদিত; সুতরাং উহার বিনিময় ব্যক্তির প্রশংসা বা যেকোনো স্বত্ব দাবি করাই শিরকী;
খ. আনুগত্য: কাজ করি তোমার, ফলও তোমার; অর্থাৎ আমি কর্মময় তুমিই কর্মের ঈশ্বর (*);
গ. দরখাস্ত: সুতরাং ন্যায়পথে, মহাপুরুষদের পথে বলবৎ রাখ, অন্যায় পথে চালিও না।
    উক্ত অন্যতম প্রধান শপথনামা যে রক্ষা করে চলে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সেই-ই মুছলিম বা আদর্শবাদী।

অতঃপর ২য় ছুরায় আরও ২টি প্রধান শপথ
২. (২: ৩) মূল কথা: যারা আশাবাদী (ভবিষ্যত্/অদৃশ্যে/গায়েবে বিশ্বাসী), প্রার্থনা মোতাবেক পরিশ্রম (ছালাত কায়েম) থেকে যা অর্জন করে (তাদেরকে যা দেয়া হয়) তা পরার্থে বিলিয়ে দেয়।
৩.  (২: ৪, ৫)মূল কথা: এবং তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হচ্ছে, তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছিল তাতে যারা বিশ্বাসী এবং পরবর্তিতেও (আখেরাত) যারা (অনুরূপ) বিশ্বাসী।তারাই তাদের প্রতিপালকের পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকামী।
    উল্লিখিত শর্তগুলো যারা অস্বীকার বা লঙ্ঘন করে/করবে তাদেরকে কাফের ঘোষণা করা  হয়েছে এবং তাদেরকে সতর্ক করলেও তারা আর ফিরবে না (২: ৬)। বরং বিরোধীতা করবে।

অতএব
ইমাম-আলেম, হাফেজ-ক্বারী, হাজী-স্কলার, গাউস-কুতুব; রোজা, নামাজ, আলখেল্লা, পাগড়ি-টুপি, চুল-দাড়ি, টিকি-পৈতা,ক্রস;  শিয়া/ছুন্নী/কাদিয়ানী/হিন্দু/বৌদ্ধ/খৃস্টান/ ইহুদি/ শিখ; কনভার্টেড/নন কনভার্টেড, আস্তিক/নাস্তিক বা তাদের পূর্বপুরুষ অথবা পর-পুরুষ যেই-ই হোক না কেন! আলোচ্য আয়াতে বর্ণিত শর্তগুলো জীবনে বলবত্ রাখতে না পারলে মুছলিম বা শান্তিবাদী হওয়ার দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই! এক্ষণে সাধারণ অসাধারণগণ সহজেই স্ব স্ব পরিচয় পেয়ে সতর্ক-সংশোধন হতে পারেন।
প্রত্যেক জাতির মধ্যে খুব কম সংখ্যক হলেও এমন কিছু লোক আছেন, যাদের থেকে ব্যক্তি ও সমাজ সম্পূর্ণ নিরাপদ; স্রষ্টার একাকারবাদে সুপ্রতিষ্ঠিত, তাদের যাবতীয় কাজ-কর্ম পরার্থে নিবেদিত; জীবন ধারণে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত সহায়-সম্পদ কুক্ষিগত করে সমাজ-দেশের কৃত্রিম অভাবের সৃষ্টি করেন না। এরাই আল্লাহর দরবারে প্রকৃত মুছলিম (নোব্ল ম্যান) তথা ভদ্র, আদর্শবান বা ধার্মিক।

‘ধার্মিক, ভদ্র, আদর্শবান ইত্যাদি এবং ওদের বিপরীত শব্দগুলো বলতে যেমন প্রচলিত ধর্মভেদ বা জাতিভেদ বুঝায় না, তদ্রুপ দূর অতীতের নির্দিষ্ট কোনোকালে হিন্দু, (আর্য বা সনাতনধর্মী) মুছলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা ইহুদি বলতেও হালের ধর্মভেদ বা জাতিভেদ বুঝাতো না। ভেদ ছিল: আদর্শ-অনাদর্শ, জ্ঞানী-অজ্ঞানী, ভদ্র-অভদ্র, বোধ-নির্বোধ, শৃংখল-উচ্ছৃংখল, আর্য-অনার্য, কল্যাণ-অকল্যাণ বা শান্তি-অশান্তিবাদী দলের। কিন্তু কালের বিবর্তনে সকল জাতির কতিপয় ব্যক্তি ও দলের সাম্প্রদায়িক ও জন্মগত নামে পরিণত করেছে: যাতে দোষ-গুণ, ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ধার্মিক-অধার্মিক ইত্যাদি পার্থক্য করে না বলেই আল্লাহর দরবারে সকলেই সমান।  
ধার্মিকদের গুণাগুণ, চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য কোরানসহ সকল জাতির মূল ঐশী গ্রন্থের পাতায় পাতায় বিশদভাবে বর্ণিত আছে। সেগুলো আপন আপন ভাষায় পড়ে, জেনে, বুঝে জীবনের পরতে পরতে প্রতিফলিত করে সামগ্রিক শান্তিবাদ প্রকৃতিগতভাবেই বাস্তবায়ণ হয়; এজন্য দলাদলি, হানাহনি, সাম্প্রদায়িক খুনাখুনী  প্রচার, প্রতিষ্ঠা নিষ্প্রয়োজন।
নিম্ন বর্ণিত ধারাগুলো হিন্দু, মুছলমান ইত্যাদি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিবাদী, ইছলামী বা আদর্শবাদী হওয়ার পরবর্তী  শর্তাদি:
১.    (৩৩: ৩৫) মূল কথা: মুছলিম (আদর্শ) নারী-পুরুষ, বিশ্বস্ত নারী-পুরুষ, অনুগত নারী-পুরুষ, সত্যবাদী নারী-পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী-পুরুষ, ভদ্র-নম্র নারী-পুরুষ,  ত্যাগী নারী-পুরুষ, সংযমী নারী-পুরুষ, চরিত্রবান নারী-পুরুষ, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী-পুরুষ; এদের জন্যই রয়েছে আল্লাহর ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।
২.      (২: ৮২; ৯৮: ৭)মূল কথা: যারা বিশ্বস্ততার সঙ্গে সৎ পরিশ্রম করে তারাই মুক্ত/স্বাধিন (জান্নাতবাসী) তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে এবং তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ।
৩. (২: ১৩৬) মূল কথা: তোমরা স্বীকার কর! ‘আমরা আল্লাহতে বিশ্বাস রাখি এবং যা আমাদের প্রতি এবং ইব্রাহিম, ইছমাঈল, ইছহাক, ইয়াকূব ও তার বংশধরগণের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে মুছা, ঈছা ও অন্যান্য নবিগণকে দেয়া হয়েছে। আমরা তাদের মধ্যে কোনোরকম পার্থক্য করি না এবং আমরা তার নিকট নিবেদিত (মুছলিম)।
৪.    (২: ১৭৭) মূল কথা: পূর্ব-পশ্চিমে তোমাদের মুখ ফিরানোতে কোনো পুণ্য নেই; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ আল্লাহ্, ভবিষ্যৎকাল, সর্বোচ্য জ্ঞানীগণ, সমস্ত কিতাব এবং সমস্ত আল্লাহপ্রাপ্তগণদের উপর আস্থা রাখলে এবং আল্লাহ্ প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, পর্যটক, সাহায্যপ্রার্থীগণকে এবং দাসমুক্তির জন্য অর্থ দান করলে, প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত রেখে পবিত্র হলে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করলে; অভাব, দুঃখ, কষ্ট ক্লেশে ও সংগ্রাম সংকটে ধৈর্য ধারণ করলে। এরাই তারা, যারা সত্যপরায়ণ এবং ধার্মিক।
৫.     (২: ৪২)মূল কথা: তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-শুনে সত্য গোপন করো না।
৬.      (২: ৪৩) মূল কথা: প্রার্থনা মোতাবেক কর্ম সম্পাদন করে পবিত্র হও (অভাবহীণ) এবং আদর্শ ভক্তদের সঙ্গে একতাবদ্ধ হয়ে থাক।
৭.      (২: ১৯১, ২১৭)মূল কথা: সমাজে গোলযোগ ও অশান্তি সৃষ্টি করা হত্যা অপেক্ষাও গুরুতর অন্যায়।

৮.      (১০৭: ১-৭)মূল কথা: তুমি কি দেখেছ, যে ধর্মকে অস্বীকার করে? সে ঐ ব্যক্তি যে অসহায়কে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয় এবং অভাবিদের খাদ্য দান করে না। সুতরাং দুর্ভোগ সেই সকল নামাজীদের যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে উদাসীন ও বে-খেয়াল। এরা লোক-দেখানো নামাজ পড়ে। এরাই পাড়া-প্রতিবেশীদের সাহায্য সহয়োগিতা থেকে বিরত থাকে।
৯.      (৫: ৭২) মূল কথা: -যে কেউ আল্লাহর শরিক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত নিষিদ্ধ করেন ও তার অবস্থান জাহান্নাম। অত্যাচারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।
১০.      (৫: ৪৪-৪৯) মূল কথা: আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে আনুযায়ী যারা বিচার মীমাংসা করে না তারাই কাফের, ফাছেক ও জালেম।
    আলোচ্য আয়াতগুলোর আলোকে  শরিয়তের প্রচলিত রিচুয়্যাল বা আচার-আনুষ্ঠানিকতা নিতান্তই গৌণ বিষয়।

ইসলাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে