Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-৩১-২০১২

১৫ হাজার হজযাত্রীর হজে যাওয়া অনিশ্চিত

১৫ হাজার হজযাত্রীর হজে যাওয়া অনিশ্চিত
এবার ১ লাখ ১২ হাজার হজযাত্রীর সকলের হজে যাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রায় ১৫ হাজার হজযাত্রী বড় রকমের ঝুঁকির মধ্যেই থেকে যাচ্ছেন। হজযাত্রী পরিবহনে গত বছর যে সমস্যাগুলো ছিল এবার তা আরও প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। পরিবহন সমস্যা সত্ত্বেও গত হজে রেকর্ড সংখ্যক হজযাত্রী হজে যান। বিমান ও সৌদিয়া গত বছর প্রায় ১১ হাজার হজযাত্রী পরিবহন করতে পারেনি। থার্ড ক্যারিয়ার ওপেন থাকায় তাদের জেদ্দা পৌঁছাতে সমস্যা হয়নি। এবার সে সুযোগ রাখা হয়নি। আশঙ্কা সে কারণেই। প্রায় ১৫ হাজার হজযাত্রীর হজে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে এবার।
বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ ১৩০টি স্লটের জন্য আবেদন করেছে। পেয়েছে ১১০টি। অবশিষ্ট ২০টি স্লট প্রাপ্তির ব্যাপারটি এখনও নিশ্চিত হয়নি। প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে ৪০০ জন পরিবহন করা হলেও ১১০টি স্লটে নেয়া যাবে মোট ৪৪ হাজার হজযাত্রী। বাংলাদেশ বিমান মোট ৫৬ হাজার হজযাত্রী পরিবহন করবে। এখানেই ১২ হাজার হজযাত্রীর পরিবহনের সুযোগ থাকছে না। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন অবশিষ্ট ২০টি স্লট তারা পেয়ে যাবেন। তা পেলেও বিমানের ৪ থেকে ৫ হাজার হজযাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকছে না। বিমান কর্তৃপক্ষ আস্থাশীল সিডিউল ফ্লাইটে এই হজযাত্রীদের পরিবহন করা যাবে। এতে সঙ্কট কাটিয়ে ওঠা যাবে। ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ২০শে অক্টোবর পর্যন্ত হজ ফ্লাইট চলবে। বিমান কর্তৃপক্ষ আশাবাদী হলেও সিডিউল রক্ষা করতে না পারা, সকল ফ্লাইটে পরিপূর্ণ যাত্রী না হওয়া, যান্ত্রিক, প্রাকৃতিক গোলযোগে ফ্লাইট সিডিউল মিস হওয়া, যাত্রী স্বল্পতার দিকগুলো তারা বিবেচনায় নিচ্ছেন না। অপরদিকে সৌদিয়া ৫ হাজার হজযাত্রী কম পরিবহন করেছিল গত বছর। থার্ড ক্যারিয়ার ওপেন ছিল বলে শেষ পর্যন্ত সৌদিয়া ও বিমানের হজযাত্রীরা অন্যান্য এয়ারলাইন্সে জেদ্দা পৌঁছাতে পেরেছিলেন। এবার সে সুযোগ না থাকায় অনিশ্চয়তার আশঙ্কা বেড়েছে।
ধর্মবিষয়ক ও বেসরকারি বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমান সরকারের সময়ই সর্বাধিক সংখ্যক হজযাত্রী হজে গেছেন। তাদের দাবি হজযাত্রী পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় বড় রকমের সমস্যা হয়নি। এতে বাংলাদেশের ও সরকারের ভাবমূর্তি বেড়েছে। বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতরা ও হাজীরা এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, হাজীদের সংখ্যা সর্বকালীন রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেও মক্কা-মদিনায় হাজীদের চরম দুর্ভোগেরও শিকার হতে হয়েছে।
বিমান দু’টি ৭৭৭, একটি ৭৪৭ ও একটি ডিসি-১০ ফ্লাইট লিজ নিয়েছে। ডিসি-১০ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ৪০ বছরের পুরনো এ ক্রাফট বিশ্ব থেকে উঠে গেছে। স্থান পেয়েছে জাদুঘরে। যান্ত্রিক গোলযোগে যে কোন সময় ডিসি ১০-এর বসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ক্রাফটের পরিবহন ক্ষমতা ২৯০। গত হজ মওসুমে যান্ত্রিক গোলযোগে ৭টি ফ্লাইট মিস হয়েছিল। সকল ফ্লাইট কখনওই পরিপূর্ণ যাত্রী বোঝাই হয়নি। বিশেষ করে প্রথমদিকে হজ ফ্লাইটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি থাকে। যাত্রী স্বল্পতার কারণে গত বছর সাতটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। বিমান মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে তৎপর হতে অনুরোধ করা হয়েছে।
জেদ্দা আবদুল আজিজ বিমানবন্দরে হজের সময় অস্বাভাবিক রকম অতিরিক্ত ট্রাফিক জ্যাম থাকে। লোড, আনলোড করতে অনেক সময় লেগে যায়। এ কারণেও ফ্লাইট সিডিউল ভেঙে পড়ে। সময় মতো জেদ্দা বিমানবন্দরে ফ্লাইট পৌঁছাতে না পারলে ওই স্লট বাতিল হয়ে যায়।
অপরদিকে গত বছর সৌদিয়ার ৩০ হাজার হজযাত্রী পরিবহনের কথা ছিল। তারা নিয়েছিল ২৫ হাজার হজযাত্রী। এবার বিমান ৫৬ হাজার, সৌদিয়া ৪০ হাজার ও নাস এয়ারলাইন্সে ১৬ হাজার  হজযাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিমান ও সৌদিয়ার মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার হজযাত্রী পরিবহনে সঙ্কট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে