Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (35 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-৩১-২০১২

সাগরের পায়ে বাঁধা কাপড়েও একই ব্যক্তির ডিএনএ

সাগরের পায়ে বাঁধা কাপড়েও একই ব্যক্তির ডিএনএ
রুনির টি-শার্টের পর এবার সাগরের পায়ে বাঁধা কাপড় থেকেও একই ব্যক্তির ডিএনএ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- ওই ব্যক্তিই সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারী। গতকাল র‌্যাবের তদন্ত সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। আমেরিকার সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগারের কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি র‌্যাবকে জানিয়েছেন। তবে শুধু ডিএনএ পরীক্ষা দ্বারা হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে র‌্যাবের তদন্ত টিম। এটি তদন্তের একটি অংশমাত্র। এক্ষেত্রে খুনিকে শনাক্ত করতে আরও ৯ ধরনের কৌশল প্রয়োগ করে এগোচ্ছেন তারা। কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে- সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ ও কাউন্টার জিজ্ঞাসাবাদ, প্রযুক্তির সাহায্যে অনুসরণ ও তাদের প্রতি বিশেষ সোর্স নিয়োগ। এছাড়া, খুনের ধরন ও খুনিদের আচরণ বিশ্লেষণ করে আন্ডারওয়ার্ল্ড অপরাধীদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ধরনের সঙ্গে ডা. নিতাই হত্যাকাণ্ডের খানিক মিল পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই আন্ডারওয়ার্ল্ডের ওই পেশাদার খুনিদের গ্রুপ শনাক্তের কাজ শুরু করা হয়েছে। অন্য দিকে আমেরিকার ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষাগারে ৯ ধরনের আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে।  গত ১২ই জুন ও ১৭ই জুলাই দু’দফায় আলামতগুলো আমেরিকার ওই দু’টি পরীক্ষাগারে  পাঠানো হয়। এগুলো হচ্ছে- একটি ছুরি, একটি ছুরির বাঁট, সাগর ও রুনির রক্তমাখা জামা-কাপড়ের অংশ, সাগরের হাত-পায়ে বাঁধা দড়ির অংশ, সাগরের মোজা ও একটি কম্বল। এছাড়া  ক্রাইম সিন, ভিসেরা, ফুট প্রিন্ট ও ফিঙ্গার প্রিন্ট, মেঝেতে রক্ত গড়ানো কিংবা  ছড়ানোর ধরনও পরীক্ষা করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মেঘের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তার মুখের লালা সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আমেরিকায় অবস্থিত ফরেনসিক ল্যাব, ডিএনএ ল্যাব ও র‌্যাবের নিজস্ব পরীক্ষাগারে হত্যাকাণ্ডে জব্দকৃত আলামতসমূহের পরীক্ষা করা হচ্ছে।  এসব পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই সন্দেহভাজন খুনিদের তালিকা করা হবে। পরে তদন্তের সকল প্রতিবেদন সমন্বয় করে সন্দেহভাজনদের তালিকা থেকে মূল খুনিদের চিহ্নিত করা হবে। তবে আমেরিকার পরীক্ষাগার থেকে চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল। তিনি বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জব্দ করা বিভিন্ন আলামত থেকে সংগৃহীত ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে। ওই ফল হাতে পাওয়ার পর সন্দেহভাজন আসামিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে। এরপর আনুষঙ্গিক অন্যান্য তদন্ত রিপোর্ট সমন্বয় করে প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করা হবে।  কমান্ডার সোহায়েল আরও বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে মেনে চলা হচ্ছে। আদালত খুনিদের শনাক্ত করতে যত দ্রুত সম্ভব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে বলেছে। ডিএনএ টেস্টের কথা বলেছে। এমনকি প্রয়োজনে স্যাটেলাইট ডিভাইস-এর সহায়তার কথাও ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৩শে মে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছ থেকে র‌্যাবের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই নির্দেশনায় তদন্ত টিমকে সিনিয়র সাংবাদিক, আইনজীবী, অপরাধ বিশেষজ্ঞ, একাডেমিশিয়ান ও এনজিও কর্মকর্তাসহ বিশ্বের যে কোন সংস্থার পরামর্শ নেয়ার কথা বলেছে। এমনকি খুনিদের শনাক্ত করতে ডিএনএ প্রোফাইল ও স্যাটেলাইট ডিভাইসের সাহায্য নিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, সাংবাদিক দম্পতির ব্যবহূত পোশাক, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত চাকু ও অন্যান্য আলামত থেকে শনাক্ত করা পৃথক ডিএনএ’র মধ্যে মিল পাওয়ায় তদন্ত আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তত হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিত লোকজনের পরিচয় পাওয়া সম্ভব হবে। তদন্ত সূত্র জানায়, র‌্যাবের হাতে তদন্তভার স্থানান্তরের পর অন্তত ৯৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব। এদের মধ্যে অধিকতর সন্দেহভাজন হিসেবে একটি ‘শর্ট লিস্ট’ তৈরি করা হয়েছে। আমেরিকা থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের আলামত থেকে পাওয়া ডিএনএ’র সঙ্গে ম্যাচিং করে দেখা হবে।  নিহত মেহেরুন রুনির ছোট ভাই ও মামলার বাদী নওশের আলম রোমান বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে তিনি সন্দিহান। নিহতের স্বজনরা জানান, যে কোন উপায়ে তারা সাগর-রুনির খুনিদের দেখতে চান। নওশের আলম রোমান বলেন, তাদের সম্পর্কে র‌্যাব কর্মকর্তারা সংসদীয় কমিটিতে যে ধরনের মন্তব্য করেছেন তাতে বিস্মিত হয়েছি। অথচ পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। গত ১১ই ফেব্রুয়ারি সকালে পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার  জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে