Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৫ মে, ২০২০ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৭-২০১২

ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সতর্ক, বেচাকেনা মোবাইলে

ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সতর্ক, বেচাকেনা মোবাইলে
মোবাইলেই এখন কেনাবেচা চলছে ইয়াবা। ক্রেতা-বিক্রেতারা একে ‘ডিজিটাল সিস্টেম’ নামে ডাকছেন। কখনো পুলিশের মদদে আবার কখনো পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ নেশা বতর্মানে ঢাকার মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে উঠেছে বলে ইয়াবা কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শহরের অভিভাবকরা উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
তবে মোবাইল কোম্পানিগুলো এ ব্যাপারে একেবারেই নীরব রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশের শীর্স্থানীয় এক মোবাইল কোম্পানির কর্মকর্তা বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সাহায্য চাইলে অবশ্যই এ ব্যাপারে সাধ্যমত সাহায্য করবো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, বেকার তরুণ-তরুণি, ধনীর দুলাল এমনকি বস্তির বখাটে কিশোররাও ইয়াবার ভয়াবহ ছোবলের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারছেন না। সময়মতো নেশা না করলে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ায়, আসক্তরা নেশার টাকা জোগাতে ছিনতাই, খুন, অপহরণসহ নানান অপকরমে জড়িয়ে পড়ছেন।
ক্রেতারা পরিচিত নম্বরে ফোন করে ‘বাবা’, ‘রাজা’, ‘ঘোড়া’ আছে কিনা জানতে চেয়ে এলাকার নাম বললেই মোবাইলে অপর প্রান্ত খেকে কোথায় কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে নিদের্শনা দেয়া হয়। সময় হলেই হাতে চলে আসে ইয়াবা। বাড়তি কোনো গন্ধ না থাকায় নিজ বাড়িতেই আসক্তরা ইয়াবা সেবন করেন।  
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর গত কয়েক মাসে কয়েক হাজার পিস ইয়াবাসহ বিত্রেতাদের আটক করেছে। তারপরও কোনোভাবেই কেউ এ নেশাকে বশে আনতে পারছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক পরিদর্শক জানান, ইয়াবা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ, এ ব্যবসার সঙ্গে অনেক প্রভাবশালী জড়িত। কাউকে আটক করার পর অনেক বড় মানুষেরা তাদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেন। যারা তদবির করেন, তাদের নাম কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।
তিনি জানান, জুলাই মাসে চকবাজারের এক বাড়ি থেকে ২০০০ পিস ইয়াবা বডিসহ একজনকে আটক করা হয়। কিছুদিন না যেতেই তার স্ত্রীও একই বাড়ি থেকে আটক হয়। তাদের নিয়মমতো আদালতে চালান করা হয়। আদালতের এক উকিলের কমর্চারীর মুখে শুনেছি, তাদের ছাড়িয়ে নিতে এক মন্ত্রী তদবির করেছেন। তবুও অধিদফতর সীমিত সাধ্যের মধ্যে প্রচুর কাজ করছে।
মালিবাগের এক ইয়াবাসেবী ‘র’ বলেন, টেলিফোন করলেই এ এলাকায় ইয়াবা বাড়ির সামনে আসে। ইয়াবা খেলে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে পারি। শরীরে অনেক শক্তি পাই। তবে মুখটা শুকনা হয়ে থাকে বলে চকলেট খেতে হয়। অনেকবার এ নেশা ছাড়তে চেয়েছি। কিন্তু পারিনি।  
এভাবেই রাজধানীর ফকিরাপুল, মৌচাক, মালিবাগ, বনানী, বারিধারা, খিলগাও, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে এখন মোবাইলে ইয়াবা কেনাবেচা চলে।  
কামাল, আব্বাস, বাবু, জিয়া, রনি, সাগর, মাসুদসহ বিভিন্ন বয়সের তরুণ এ মোবাইলে ইয়াবা বিক্রির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।  
মোবাইলের অর্ডারে ইয়াবা বিক্রি করার অনেক সুবিধা। এখানে গ্রেফতার হবার ভয় কম থাকে। তাছাড়া ঘুরে ঘুরে পুরো শহরেই ব্যবসা করা যায়। মালিবাগে মোবাইলে ইয়াবা বিক্রেতা ‘ম’ জানান। তবে কখনো কখনো শত্রুরা পুলিশকে তথ্য দিয়ে দেয়। চারশ’ থেকে সাতশ’ টাকায় এ এলাকায় ইয়াবা বিক্রি হয়।
অভিভাবকরা বলেন, জানি সন্তান আসক্ত হয়ে পড়েছে। কোনোভাবেই ইয়াবার ক্ষতির ব্যাপারটি বোঝাতে পারিনি। অনেক সময় সমাজের মানুষ খারাপ ভাববে বলে ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাইনি। তবে অনেকে বলেন, ধীরে ধীরে চিকিৎসার মাধ্যমে ইয়াবা আসক্তরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। তবে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আসলাম আলী বলেন, “প্রতিদিন ইয়াবা আটক হচ্ছে। বহনকারীদের নামে মামলাও হচ্ছে। তবে মনে হচ্ছে, যাদের আটক করা হচ্ছে তারা আসলে কেবলমাত্র বহনকারী। মূল হোতাদের নাম কোনোভাবেই বের করা যাচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “তাছাড়া খুব সতর্কতার সঙ্গে তারা টেলিফোনে ইদানীং ব্যবসা করছে। পরিচিত লোক ছাড়া ইয়াবা বিক্রি করছে না। তাই খুব সাবধানে ও গোপনে এ ব্যাপারে আমরা অভিযান পরিচালনা করি।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে