Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৬-২০১২

জাবিতে আবারো আন্দোলনের আশংকা

প্রস্তুত জলকামান ও সাজোয়া যান
জাবিতে আবারো আন্দোলনের আশংকা
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ও ঈদের ছুটির কারণে দীর্ঘ ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর রোববার ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী কম থাকায় অধিকাংশ বিভাগে নিয়মিত ক্লাস হয়নি।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের ওপর আরোপিত নিয়মের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে আন্দোলন হওয়ার আশংকা থাকায় যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশসহ জলকামান ও সাজোয়া যান।
গত ১৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রভোস্ট এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের এক সভায় শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের ওপর কিছু বিধি নিষেধসহ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার বিকাল ৪টায় আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার পর ছাত্র-ছাত্রীদের সংশ্লিষ্ট হলের আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা হলে প্রবেশ করতে পারবে। এ সময়ে পর্যায়ক্রমে হল প্রশাসনের নির্ধারিত রোস্টার অনুযায়ী আবাসিক শিক্ষকরা হল গেটে উপস্থিত থাকবেন। উক্ত সময় ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীরা হলে প্রবেশ করতে পারবেন না।
বটতলা ও অন্যান্য জায়গায় অবস্থিত খাবার দোকানগুলো রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এসব দোকানের খাবার স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মতভাবে পরিবেশন করতে হবে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাক্রমে খাবারের দাম নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পুলিশ হলে প্রবেশ করতে পারবে না। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শক্রমে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ক্যাম্পাসের আশে-পাশের এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।
এদিকে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। একই সাথে ক্যাম্পাস খোলার সাথে সাথে এই নিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনেরও হুমকি দেন তারা।
সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হল মুক্ত চিন্তার জায়গা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা নতুন নিয়ম এই মুক্ত চিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো প্রাইমারি স্কুল নয় যে শিক্ষার্থীদের ধরাবাঁধা নিয়মের মধ্যে চলতে হবে। আবার এটাও আশা করা ঠিক নয় যে একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন পড়ালেখা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন পড়ালেখা থাকবে তেমন আড্ডা, গান, বাজনা ইত্যাদিও থাকবে।
তারা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পেরে শিক্ষার্থীদের ওপর নিয়ম আরোপ করছে। যেটা অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির উপাচার্য থাকাকালীন সময়ে করতেন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি শাখার সভাপতি সৌমিত চন্দ জয়দ্বীপ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। এর আগেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী অনেক আইন হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসন সে আইন স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীরা যে কোনো স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এবারো নেবে।”
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার আহবায়ক মৈত্রী বর্মনের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১ ও ২ আগস্টের ঘটনার পর ২৩ দিনের ছুটি শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম কর্তৃত্বের পরিবেশ তৈরি করবে। সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি ও উন্নত সংস্কৃতি নির্মাণের পরিপূরক আয়োজন না করে অগণতান্ত্রিকভাবে কিছু বিধি-নিষেধ চাপিয়ে দিয়েছে। ছাত্র হলগুলো এখনও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের দখলে এবং যে ছাত্ররা হলে প্রবেশ করছে, তাদের সিট বণ্টনে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেই। অথচ সেই ছাত্ররা হলের বৈধ ছাত্র কিনা তা নির্ধারণের জন্য হল প্রশাসনের তৎপরতা প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। কেননা সিট বণ্টনে তাদের দায়িত্বহীন ভূমিকা একজন শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসীতে পরিণত হবার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছে। হলের হাউজ টিউটররা প্রতিদিন সন্ধ্যায় হলের রিডিং রুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সমস্যাবলী সমাধানে ভূমিকা রাখলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের জন্য তা সহায়ক হবে। সহ অবস্থানের নামে সন্ত্রাসীদের সহঅবস্থান নয় এটি নিশ্চিত করে, হলে সিট বণ্টনে প্রসাশনের গণতান্ত্রিক ভূমিকা সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের বিপরীতে প্রশাসনের অবস্থান নিশ্চিত করবে। অন্যথায় প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত সমস্ত বিধি-নিষেধ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে খর্ব করবে এবং ভয়, বল প্রয়োগ এবং কৃত্রিম কর্তৃত্বের পরিবেশ তৈরি করবে।
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৩৬৫ দিনই ২৪ ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের, প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির। নিরাপত্তার জন্য পুলিশী সহযোগিতা নেবার সিদ্ধান্ত স্বায়ত্তশাসনকে হুমকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এরূপ সিদ্ধান্ত ইউ.জি.সি’র ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্রে ক্যাম্পাস পুলিশ নিয়োগ ও মোতায়নের যে প্রস্তাব রয়েছে তাকে বৈধতা দেবার অপকৌশল। অবিলম্বে ছাত্রস্বার্থ বিরোধী এ সকল অগণতান্ত্রিক বিধি-নিষধ বাতিল করতে হবে এবং ১ ও ২ আগস্টের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে। একই সাথে রাস্ট্রীয় আইনে গুলিবর্ষনকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিচার করতে হবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বটতলা এলাকার খাবারের দোকানগুলোর খাবার স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মতভাবে পরিবেশন ও কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে খাবারের দাম নির্ধারণ করা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ভালো চোখেই দেখছেন তারা।
ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেইট সংলগ্ন পুলিশ ক্যাম্পে অতিরিক্ত পুলিশসহ জলকামান ও সাজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঢাকা জেলার সহকারী পুলিশ সুপার জাকারিয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আমাদের প্রয়োজন মনে করে তাহলে আমরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করব।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, “ক্যাম্পাসে কোনো পুলিশ মোতায়েন নেই। ক্যাম্পে পুলিশ আছে, হয়তো সেটা তাদের কোনো কাজের জন্য।”
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৪ মার্চ ‘প্রক্টরিয়াল ল’ নামে একটি আইন জারি করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঐ আইনে ছাত্রদের জন্য রাত ৮টার মধ্যে হলে প্রবেশ ও ছাত্রীদের জন্য কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধ হওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে হলে প্রবেশ করার একটি নিয়ম আরোপ করা হয়েছিল। সে সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে